সবচেয়ে জোরে ডেকে রেকর্ড করল Bare-throated Bellbird পাখি

দক্ষিণ আমেরিকার একটি পাখির ডাক ১৩০ ডেসিবেলেরও বেশি তীব্র হতে পারে। পাখিটির নাম বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ড (Bare-throated Bellbird)। পুরুষ পাখিটির জোরালো ডাক একটি রক কনসার্টের শব্দকেও ছাপিয়ে যেতে পারে বলে জানিয়েছে বিজ্ঞানবিষয়ক সংবাদমাধ্যম Science News। ৬ অক্টোবর ২০২৬ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে পাখিটির এই বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য তুলে ধরা হয়েছে।

১২৩ প্রজাতির পাখির ডাক নিয়ে গবেষণা

পাখিরা কতটা জোরে ডাকতে পারে এবং তাদের শারীরিক গঠনের সঙ্গে শব্দের তীব্রতার কী সম্পর্ক রয়েছে, তা জানতে গবেষকেরা ১২৩টি প্রজাতির পাখির ডাক বিশ্লেষণ করেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব ম্যাসাচুসেটস অ্যামহার্স্টের গবেষক জোয়াও সি. টি. মেনেজেস (João C. T. Menezes) ও জেফরি পোডোস (Jeffrey Podos) এই গবেষণায় যুক্ত ছিলেন। তাঁদের গবেষণাপত্র ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ Evolution জার্নালে প্রকাশিত হয়।
দক্ষিণ আমেরিকার একটি পাখির ডাক ১৩০ ডেসিবেলেরও বেশি তীব্র হতে পারে। পাখিটির নাম বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ড (Bare-throated Bellbird)।

গবেষণায় দেখা গেছে, পাখির শরীরের ওজন ও ঠোঁটের গঠনের সঙ্গে ডাকের তীব্রতার সম্পর্ক রয়েছে। সাধারণভাবে, তুলনামূলকভাবে ভারী পাখি এবং চওড়া ঠোঁটের পাখিরা বেশি জোরে ডাকতে পারে। তবে পাখিরা কেন বিবর্তনের মাধ্যমে এত জোরে ডাক দেওয়ার ক্ষমতা অর্জন করেছে, তার সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা এখনো পাওয়া যায়নি।

বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের ডাক এত জোরে কেন?

বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের শরীরের গঠন ও চওড়া ঠোঁট তার জোরালো ডাকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। পুরুষ পাখিটির শরীর সাদা, গলার কাছে রয়েছে নীলচে-সবুজ রঙের স্বতন্ত্র অংশ এবং ঠোঁটটি বেশ প্রশস্ত। সঙ্গী আকর্ষণের সময় পুরুষ পাখিটি তীক্ষ্ণ ও ধাতব ধরনের ডাক দেয়, যা সহজেই আশপাশের পরিবেশে শোনা যায়।

গবেষকদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বড় শরীরের পাখি তুলনামূলকভাবে বেশি শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত চাপ ও বায়ুপ্রবাহ তৈরি করতে পারে। আবার ঠোঁটের গঠনও শব্দ বাইরে ছড়িয়ে দেওয়ার দক্ষতাকে প্রভাবিত করতে পারে। এই শারীরিক বৈশিষ্ট্যগুলোর কারণে কিছু পাখির ডাক অন্যদের তুলনায় বেশি জোরালো হতে পারে।

১৩০ ডেসিবেলের ডাক ছাড়িয়ে যেতে পারে রক কনসার্টের শব্দ

বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের ডাকের তীব্রতা ১৩০ ডেসিবেলের বেশি হতে পারে বলে Science News-এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এই মাত্রার শব্দকে জ্যাকহ্যামারের মতো ভারী নির্মাণযন্ত্রের শব্দের সঙ্গে তুলনা করা যায়। পাখিটির ডাক এতটাই জোরালো যে শব্দের তীব্রতা নিয়ে গবেষণায় এটি বিশেষভাবে আলোচিত হয়েছে।

তবে শুধু শব্দের মাত্রাই নয়, পাখিটি কীভাবে এমন জোরালো ডাক তৈরি করে, সেটিও গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। গবেষকেরা বিভিন্ন প্রজাতির ডাকের তীব্রতা তুলনা করে শরীরের আকার ও ঠোঁটের গঠনের সঙ্গে শব্দ উৎপাদনের সম্পর্ক খুঁজেছেন। এই ফলাফল পাখির কণ্ঠস্বর এবং শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যকার সম্পর্ক বুঝতে সাহায্য করে।

রেড-লেগড সেরিয়েমার ডাকও জোরালো

রেড-লেগড সেরিয়েমা (Red-legged Seriema) দক্ষিণ আমেরিকার আরেকটি পাখি, যার ডাকও অত্যন্ত জোরালো। বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের পাশাপাশি এই প্রজাতিটিও গবেষকদের নজরে এসেছে। গবেষণায় দুই পাখির ডাকের তীব্রতা ১২০ ডেসিবেলের বেশি হওয়ার তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

১২৩টি প্রজাতির পাখির ডাকের তথ্য বিশ্লেষণ করতে গবেষকেরা সাউন্ড লেভেল মিটার এবং লেজার রেঞ্জফাইন্ডারের মতো যন্ত্র ব্যবহার করেছেন। বিভিন্ন প্রজাতির ডাক পরিমাপ করে তাঁরা শব্দের তীব্রতা ও পাখির শারীরিক বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সম্পর্ক খুঁজেছেন। এর ফলে পাখির ডাক নিয়ে তুলনামূলক গবেষণার একটি বিস্তৃত তথ্যভান্ডার তৈরি হয়েছে।

পাখিরা এত জোরে ডাকে কেন?

পাখির জোরে ডাক দেওয়ার পেছনে সঙ্গী আকর্ষণ ও প্রজনন আচরণের ভূমিকা থাকতে পারে। বিশেষ করে পুরুষ পাখির ডাক সঙ্গীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে সাহায্য করতে পারে। তবে সব প্রজাতির ক্ষেত্রে একই কারণ কাজ করে না।

গবেষকেরা প্রজনন আচরণ, আবাসস্থলের ঘনত্ব এবং উড়ার ক্ষমতার মতো বিষয়ও বিবেচনা করেছেন। কিন্তু এসব বৈশিষ্ট্যের মধ্যে এমন কোনো সর্বজনীন সম্পর্ক পাওয়া যায়নি, যা সব পাখির জোরে ডাক দেওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করতে পারে। তাই পাখিরা কেন এত জোরে ডাকতে সক্ষম হয়েছে, তা এখনো গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের পরিচয়

বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের বৈজ্ঞানিক নাম Procnias nudicollis। এটি দক্ষিণ আমেরিকার আটলান্টিক বনাঞ্চলে বসবাসকারী একটি পাখি। পুরুষ পাখির সাদা শরীর, নীলচে-সবুজ গলার অংশ এবং প্রশস্ত ঠোঁট সহজেই চোখে পড়ে।

এই পাখির সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হলো এর অত্যন্ত জোরালো ডাক। প্রজনন মৌসুমে পুরুষ পাখি সঙ্গী আকর্ষণের জন্য ডাক দেয়। এর ডাকের তীব্রতা ও শারীরিক গঠন নিয়ে গবেষণা পাখির কণ্ঠস্বরের বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন তথ্য দিচ্ছে।

মূল গবেষণাপত্র: Evolution 
Science News-এর প্রতিবেদন: science news 

গবেষণাটি দেখায়, পাখির শরীরের গঠন ও ঠোঁটের বৈশিষ্ট্য তাদের ডাকের তীব্রতার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। বেয়ার-থ্রোটেড বেলবার্ডের মতো পাখির জোরালো ডাক তাই শুধু প্রাণিজগতের বিস্ময়কর বৈশিষ্ট্য নয়, পাখির আচরণ ও বিবর্তন বোঝারও একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url