২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর নাভি পিল্লাইকে নোবেল পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা

নাভি পিল্লাইকে ২০২৬ সালের ৯ অক্টোবর, শুক্রবার নরওয়েজিয়ান নোবেল কমিটি (Norwegian Nobel Committee) নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। নোবেল কমিটি জানাই বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠা ও আন্তর্জাতিক আইন সমুন্নত রাখতে অবদান রাখায় নাভি পিল্লাইকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়েছে। 

রয়টার্স ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের অর্থমূল্য ১ কোটি ২০ লাখ সুইডিশ ক্রোনা (SEK), যা ঘোষণার সময় আনুমানিক ১২ লাখ মার্কিন ডলারের কাছাকাছি। 

পিল্লাই কে নোবেল পুরস্কার প্রদান করার অনুষ্ঠান ১০ ডিসেম্বর ২০২৬ নরওয়ের অসলোতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সেই দিন নাভি পিল্লাই কে নোবেল কমিটি নোবেল পুরস্কার দেবেন। এই গুরুত্বপূর্ণ অনুষ্ঠানটি সকল টিভি চ্যানেল প্রচার করবে বলে আশা করা হচ্ছে। 

ইতিমধ্যেই জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরও পিল্লাইয়ের পুরস্কারপ্রাপ্তিকে স্বাগত জানিয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে দপ্তরের মুখপাত্র শাবিয়া মান্টুর বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়েছে, এই স্বীকৃতি বিশ্বের মানুষের মানবাধিকার রক্ষা ও উন্নয়নে আরও উৎসাহ জোগাবে বলে তারা আশা করছে। 

কে এই নাভি পিল্লাই? 

শান্তিতে নোবেল জয়ী নাভি পিল্লাই ১৯৪১ সাল দক্ষিণ আফ্রিকার ডারবানে শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার বেড়ে ওঠা একটি ভারতীয় বংশোদ্ভূত তামিল পরিবারে। 
নাভি পিল্লাইকে নোবেল পুরস্কার সহ দেখানো হয়েছে

১৯৬৭ সালে নাভি পিল্লাই দক্ষিণ আফ্রিকার নাটাল অঞ্চলে আইনজীবী হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরু থেকেই তিনি বর্ণবৈষম্যের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের আইনি অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং রাজনৈতিক বন্দিদের পক্ষে আইনি সহায়তা প্রদানে সক্রিয় ছিলেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার হাইকোর্টে বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পান ১৯৯৫ সালে, যা তার র্মজীবনের একটি ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে থেকে যায়। 

এরপর, তিনি আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থায় তাঁর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ১৯৯০-এর দশকে দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্ণবাদবিরোধী আইনচর্চা, ১৯৯৯ সালে রুয়ান্ডার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল, ২০০৩–২০০৮ সালের মধ্যে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত, এবং ২০০৮–২০১৪ সালের মধ্যে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার হিসেবে অসাধারণ ভূমিকা পালন করেন।‌

ইতিমধ্যেই তিনি ইসরায়েলবিষয়ক জাতিসংঘের স্বাধীন আন্তর্জাতিক তদন্ত কমিশনে কাজ করেছেন। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড, পূর্ব জেরুজালেম এবং ইসরাইল বিষয়ের তদন্ত কমিশনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। 

যাইহোক, নাভি পিল্লাই নোবেল পুরস্কারে সম্মানিত করার ঘোষণা আন্তর্জাতিক অপরাধের জবাবদিহিতা, মানবাধিকার এবং আইনের শাসনের গুরুত্বকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এই পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠান আইন কে সবার কাছে দ্বিতীয় বারের মতো তুলে ধরবে বলে আশা করছে অনেক জ্ঞানী গুণী মানুষ। 





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url