এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে যে ভাষণ দিলেন

১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বক্তব্য দিয়েছেন এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ। বক্তব্যে তিনি বিএনপি সরকারের নয় মাসের শাসনামল, জুলাই অভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা, গুম-খুন, চাঁদাবাজি, সিন্ডিকেট ও দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ে তীব্র সমালোচনা করেন। 
এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদ ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে যে ভাষণ দিলেন

একই সঙ্গে জুলাই সনদ বাস্তবায়নসহ বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে সরকারকে সতর্কবার্তা দেন। নিচে তাঁর সম্পূর্ণ বক্তব্য তুলে ধরা হলো।

এনসিপি নেতা হান্নান মাসউদের সম্পূর্ণ বক্তব্য

আমরা এখানে এসেছি ভাষণ দিতে নয়। আমরা এসেছি বাংলাদেশের সাধারণ কৃষক, শ্রমিক ও জনতার নাভিশ্বাসের কথা বলতে। আমরা বলতে এসেছি তারেক রহমানের সরকারের নয় মাসের দুঃশাসনের কথা। আমরা বলতে এসেছি এই দেশের মানুষের মুক্তির কথা।

আমাদের এই দেশের মানুষের সঙ্গে বিএনপি সরকার যে প্রতারণা করছে, যে নাফরমানি করেছে, যে বেইমানি করেছে, সেই কথা বলতে এসেছি।

বিএনপি সরকারের ইতিহাস এই দেশে বারবার গুন্ডাতন্ত্র তৈরির ইতিহাস। বিএনপি সরকার যতবার ক্ষমতায় এসেছে, ততবারই এ দেশের অভ্যুত্থানের শক্তি, বিপ্লবী শক্তি ও পরিবর্তনের শক্তির সঙ্গে, আমাদের শহীদদের সঙ্গে বেইমানি ও প্রতারণা করেছে। তারা তাদের নেতাকর্মীদের রক্তের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। তারা আমাদের জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া মানুষদের সঙ্গে প্রতারণা ও নাফরমানি করেছে।

আমরা আজকে এখানে বাংলাদেশের মানুষের কাছে, জুলাই অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতা ও শ্রমিকদের কাছে তাদের বেইমানি ও নাফরমানির ইতিহাস তুলে ধরতে এসেছি।

১৯৯১ সালে ক্ষমতায় এসে মাত্র চার বছর যেতে না যেতেই এ দেশে কলঙ্কজনক মাগুরার নির্বাচন ও মিরপুরের নির্বাচন আয়োজন করেছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা বাতিল করে দিয়ে আরেকবার ক্ষমতায় থাকার উদ্দেশ্যে শেখ হাসিনার ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মতো ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন করেছিল। কিন্তু ক্ষমতায় থাকতে পারেনি, পারেনি, পারেনি, পারেনি।

এরপর তারা এ দেশের মানুষকে দ্বিতীয়বার বুঝিয়ে-শুনিয়ে আবার ২০০১ সালে ক্ষমতায় এসেছিল। ক্ষমতায় এসেই বিচারপতির মেয়াদ দুই বছর বাড়িয়ে দিয়ে নিজেদের পছন্দের বিচারপতিকে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান করার জন্য উঠে-পড়ে লেগেছিল।

এ দেশের মানুষ তা মেনে নেয়নি। এক-এগারোর সরকার এসেছে এবং এক-এগারো সরকারের পরিণতি হিসেবে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় এসেছে।

১৭ বছর শেখ হাসিনা দুঃশাসন করে গিয়েছে। বিএনপি বিরোধী দল হওয়া সত্ত্বেও এ দেশের মানুষকে, বিএনপির নেতাকর্মীদের আওয়ামী লীগের দুঃশাসন থেকে মুক্তি দিতে পারেনি। এ দেশের মানুষের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দিতে পারেনি। এ দেশের মানুষকে অন্যায়, অবিচার, গুম ও খুন থেকে মুক্তি দিতে পারেনি।

তারা বেগম খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনের ট্যাংক সরাতে পারেনি, তাঁকে বাসা থেকে বের করার সময় বাধা দিতে পারেনি। যারা বেগম খালেদা জিয়ার পক্ষে স্লোগান দিয়েছিলেন, ‘আমার নেত্রী, আমার মা, জেলে নিতে দেব না, জেলে নিতে দেব না’, তাঁরাই তাঁকে সঙ্গে করে নিয়ে গিয়ে জেলে রেখে এসেছিলেন।

ছয় বছরে তাঁকে মুক্ত করতে পারেননি। তাঁর চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারেননি।

আজকে এ দেশের ছাত্র-জনতার সঙ্গে বেইমানি করে, ছাত্র-জনতার মুখে কুলুপ এঁটে আবার ক্ষমতায় এসে গুম করে, খুন করে।

৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে তত্ত্বাবধায়ক সরকার কেমন হবে। ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে বিচারব্যবস্থা কেমন হবে। ৭০ শতাংশ মানুষ ভোট দিয়েছে মানবাধিকার কমিশন কেমন হবে, গুম কমিশন কেমন হবে।

ক্ষমতায় বসেই তারা নাফরমানি করেছে। ৭০ শতাংশ মানুষের ভোটের অধিকারের সঙ্গে বেইমানি করেছে। জুলাইয়ের ১ হাজার ৪০০ শহীদের সঙ্গে বেইমানি করেছে।

ক্ষমতায় এসে তারা জনগণের সরকার হয়নি। তারা হয়েছে সিন্ডিকেটের সরকার। তারা বসুন্ধরা, মেঘনা এবং এস আলমের মতো মাফিয়াদের সরকার হয়েছে।

তারা সরকারে এসেই এক কোটি মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করবে বলেছিল। কিন্তু তারা তাদের দলীয় নেতাকর্মীদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করেছে। সেটা চাঁদাবাজির মধ্য দিয়ে, গুন্ডাতন্ত্রের মধ্য দিয়ে, সন্ত্রাসের মধ্য দিয়ে।

তাদের মন্ত্রী থেকে শুরু করে তৃণমূল পর্যন্ত প্রত্যেকটা সন্ত্রাসীকে তারা লালন-পালন করছে। আর এই গুন্ডাতন্ত্র, এই চাঁদাবাজি, এই সিন্ডিকেট, তেলের সিন্ডিকেট, গ্যাসের সিন্ডিকেট—এদের তেলের সিন্ডিকেট ও গ্যাসের সিন্ডিকেট থেকে প্রাপ্ত অর্থ তার আক্রমণের বাসা পর্যন্ত যায়। যার কারণে এই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে তিনি কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেন না।

বাংলাদেশের মানুষের পকেট কেটে ১ হাজার ২০০ টাকার গ্যাস ২ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। ২ হাজার টাকার বিদ্যুৎ বিল ৫ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হচ্ছে।

আমাদের দেশের মানুষ এখন মুক্তি চায়। দেশের মানুষকে মুক্ত করার জন্য আমিরে জামায়াতের নেতৃত্বে ১১ দলীয় জোট রাজপথে নেমেছে।

আমরা বিএনপি সরকারকে বলছি, আমাদের জুলাই সনদ বাস্তবায়নে জনগণের রায় অবিলম্বে মেনে নিন। গ্যাসের দাম, বিদ্যুতের দাম অবিলম্বে কমিয়ে দিন। ছাত্রদল, যুবদলের গুন্ডাবাজি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজি অবিলম্বে বন্ধ করুন। অস্ত্র প্রদর্শন বন্ধ করুন।

তা না হলে ক্ষমতায় থাকতে পারবেন না, পারবেন না, পারবেন না। যেভাবে হাসিনাকে পালাতে বাধ্য করেছি, সেভাবে আপনারাও পালাবেন, যদি মানুষের পালস না বোঝেন।

আমরা আজকে আপনাদের বলছি, পাশে দাঁড়ান, সঙ্গ দিন। ইনশাআল্লাহ, আমিরে জামায়াতের নেতৃত্বে আমরা নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলব।

ধন্যবাদ।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ!

গুন্ডাতন্ত্র নিপাত যাক!

চাঁদাবাজ নিপাত যাক!

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url