বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলামের প্রেস ব্রিফিং
নাহিদ ইসলাম আজ ২০২৬ সালের ২৩ অক্টোবর, শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) আয়োজিত সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি সাংবাদিকদের সামনে বক্তব্য দেন।
এই বক্তব্যের মধ্যে তিনি দেশের সাম্প্রতিক ভয়াবহ তথ্য তুলে ধরেন। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলামের প্রেস ব্রিফিংয়ের বক্তব্য ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো বিস্তারিত জানুন।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে নাহিদ ইসলামের প্রেস ব্রিফিং (পুরো বক্তব্য)
নাহিদ ইসলামের পুরো বক্তব্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য দাম বৃদ্ধি, মাদক, গ্ৰেফতার, এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানি মন্ত্রীর পদত্যাগ নিয়ে কথা বলেন। এছাড়াও বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বলেন।
১. নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি ও মধ্যবিত্তের জীবনযাত্রার সংকট
একজন মানুষ যখন বাজারে যান, তখন তিনি একটি বা দুটি আইটেমের সবজি বেশি কিনতে পারেন না। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, একটি মধ্যবিত্ত পরিবার আগে মাসে যত ডিম খেত, এখন তার অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে আনতে হয়েছে।
মানুষের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এতটাই বেড়েছে যে, মধ্যবিত্তের ক্রয়ক্ষমতার সীমার বাইরেও চলে যাচ্ছে এসব পণ্যের মূল্য।
কারওয়ান বাজারের নিত্যপণ্যের দাম
বক্তব্যে কারওয়ান বাজার এলাকার পণ্যমূল্যের উদাহরণ দিয়ে বলা হয়:
- সয়াবিন তেল: প্রতি লিটার ২০০ থেকে ২১০ টাকা।
- টমেটো: প্রতি কেজি ১৬০ থেকে ২০০ টাকা।
- করলা: প্রতি কেজি ৭০ থেকে ৮০ টাকা।
- শুকনো মরিচ: প্রতি কেজি ৩৮০ থেকে ৪৫০ টাকা।
- ডিম: ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা।
বক্তার দাবি, এসব মূল্যবৃদ্ধির কারণে সাধারণ মানুষ বাজারে গিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্য পর্যাপ্ত পরিমাণে কিনতে পারছেন না।
২. বাজেট নিয়ে সরকারের বক্তব্য ও দ্রব্যমূল্যের বাস্তবতা
বক্তব্যে বলা হয়, এবারের বাজেট অধিবেশনে সরকারদলীয় সংসদ সদস্যরা বারবার দাবি করেছিলেন, বাজেটের পরে কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি এবং বাড়বেও না।
বক্তার অভিযোগ, মহান জাতীয় সংসদে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিরা দাঁড়িয়ে জনগণকে এ ধরনের মিথ্যা ও প্রতারণামূলক কথা বলেছেন।
তিনি মনে করেন, বাস্তবে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়েছে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় অসহনীয় পর্যায়ে পৌঁছেছে।
৩. এলপিজি গ্যাস, অকটেন ও ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি
বক্তব্যে এলপিজি গ্যাসের দাম বৃদ্ধির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বক্তার ভাষ্য অনুযায়ী:
- নির্বাচনের পরও এলপিজি গ্যাসের দাম ১২০০ থেকে ১৩০০ টাকার মধ্যে ছিল।
- বর্তমানে সরকারি হিসাবে এর দাম ১৮০০ টাকা বলে তিনি উল্লেখ করেন।
- বেসরকারিভাবে গ্যাসের দাম ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে বলে দাবি করেন।
এ ছাড়া অকটেন ও ডিজেলের দাম সরকার তিন দফায় বাড়িয়েছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
সরকার আন্তর্জাতিক যুদ্ধ পরিস্থিতিকে মূল্যবৃদ্ধির কারণ হিসেবে দেখাচ্ছে বলে বক্তা অভিযোগ করেন।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, যুদ্ধ যত দিন চলবে, তত দিন কি তেলের দাম এভাবেই বেশি থাকবে? এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের পরিকল্পনা কী?
বক্তার অভিযোগ, জ্বালানি খাতের মূল্যবৃদ্ধি মোকাবিলায় সরকারের কোনো সুস্পষ্ট পরিকল্পনা নেই।
৪. আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড
বক্তব্যে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়।
বক্তার অভিযোগ, একদিকে সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারিদের নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ ও বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের ওপর দমন-পীড়ন চলছে।
তিনি মনে করেন, দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ অসহায় বোধ করছেন।
বিভিন্ন স্থানে সহিংসতা ও হামলার অভিযোগ
বক্তব্যে কয়েকটি ঘটনার উল্লেখ করা হয়:
- নেত্রকোনা: গত ১৫ অক্টোবর প্রকাশ্যে একজন সাংবাদিককে গুলি করার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়।
- চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড: পরদিন, অর্থাৎ ১৬ অক্টোবর, আরেকজন সাংবাদিককে গুলি করার কথা বলা হয়।
- কক্সবাজার: ১৯ অক্টোবর বিভিন্ন সড়কে ৫০ থেকে ৬০টি যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
- মিরপুর: ২৪ সেপ্টেম্বর একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ঘিরে দেওয়ার কথা বলা হয়। মূল বক্তব্যে স্থানটির নাম অস্পষ্টভাবে এসেছে—“আড্ডা স্বাস্থ্য কেন্দ্র”।
- ইসিবি চত্বর: সালমান মুক্তাদিরের স্টুডিও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
বক্তা উল্লেখ করেন, কক্সবাজার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেখানে যানবাহনে ডাকাতি ও লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে বলে তিনি অভিযোগ করছেন।
৫. সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা
বক্তব্যে সাংবাদিকদের ওপর হামলা ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়।
বক্তার অভিযোগ, বিভিন্ন জায়গায় প্রকাশ্যে সাংবাদিকদের মেরে ফেলার কথা বলা হচ্ছে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনাও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, দেশে গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নেই। গণমাধ্যম যদি বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করতে চায়, তাহলে সাংবাদিকদের বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
বক্তব্যে আরও বলা হয়, সাংবাদিকদের ওপর সবচেয়ে বেশি দমন-পীড়ন চলছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তা ও স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
৬. রাজনৈতিক সহিংসতা, হত্যা ও নারী-শিশুর ওপর নির্যাতন
বক্তব্যে গত নয় মাসের রাজনৈতিক সহিংসতা ও অপরাধের কিছু পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়।
বক্তার উল্লেখ করা পরিসংখ্যান অনুযায়ী:
- বিএনপির অভ্যন্তরীণ কোন্দলে ১১৩ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়।
- গণপ্রতিনিধি নিহত হয়েছেন ১৮৭ জন বলে উল্লেখ করা হয়।
- র্ষণের শিকার হয়েছেন ৬৩৭ জন নারী বলে দাবি করা হয়।
- ধর্ষণের শিকারদের অধিকাংশই শিশু বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
এসব পরিসংখ্যানের স্বাধীন যাচাই এই বক্তব্যে অন্তর্ভুক্ত নেই।
৭. সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা ও গ্রেপ্তারের অভিযোগ
বক্তব্যে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করার কারণে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
বক্তার অভিযোগ, এ পরিস্থিতিতে গণমাধ্যমে সরকারের সমালোচনা করে বস্তুনিষ্ঠ তথ্য প্রকাশ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। একইভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সরকারের সমালোচনা করার ক্ষেত্রে বাধার মুখে পড়তে হচ্ছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, আগে শেখ হাসিনার সরকারের আমলে থাকা ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনকে কালো আইন হিসেবে অভিহিত করা হতো। এখন সেটিতে সংশোধনী এনে আরও দমনমূলক আইন হিসেবে সংসদের পরবর্তী অধিবেশনে উপস্থাপনের চেষ্টা করছে সরকার।
বক্তব্যে এই প্রস্তাবিত আইনের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার কথা জানানো হয়।
৮. সরকারের সামগ্রিক ব্যর্থতা ও জনগণের অসহায়ত্ব
বক্তা বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে অভিযোগের তালিকা অনেক দীর্ঘ। তবে বক্তব্যের উদ্দেশ্য শুধু সরকারের সমালোচনা করা নয়, বরং জনগণকে দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করা।
তিনি দাবি করেন, দেশের সাধারণ মানুষ বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেদের অসহায় বোধ করছেন।
এনসিপির পক্ষ থেকে জনগণকে আশ্বস্ত করে বলা হয়:
“জাতীয় নাগরিক পার্টি—এনসিপি আপনাদের সঙ্গে আছে। এনসিপি আপনাদের সঙ্গে থাকবে, অতীতেও যেমন ছিল।”
বক্তার অভিযোগ, সরকার গণবিরোধী এবং গণতন্ত্রবিরোধী। সংস্কার বাস্তবায়ন না করায় সরকারকে অগণতান্ত্রিক বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ের জন্য এই সরকারের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলা ছাড়া উপায় নেই।
৯. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি
বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পালনের ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে অবিলম্বে তাঁর পদত্যাগ দাবি করা হয়।
বক্তার ভাষ্য অনুযায়ী, গত সাত মাসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন।
তিনি অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার পরিবর্তে সংবিধান নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন এবং সংবিধান কাটাছেঁড়া করছেন।
বক্তার দাবি, এর মাধ্যমে জনগণের অধিকার স্থায়ীভাবে হরণ করার চেষ্টা চলছে, যা পুরোনো স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী পদ্ধতির সঙ্গে তুলনীয়।
তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জনাব সালাউদ্দিন আহমেদের এই পদে থাকার কোনো নৈতিক অধিকার নেই।
১০. জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি
বক্তব্যে জ্বালানিমন্ত্রীর কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়।
বক্তা বলেন, জ্বালানিমন্ত্রীকে কথা বলতেও দেওয়া হয় না বলে তাঁর মনে হয়। মন্ত্রী এখন কথাও বলেন না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বক্তার অভিযোগ, গত সাত মাসে জ্বালানি খাতের সমস্যা সমাধানে সরকার কোনো কার্যকর উদ্যোগ নিতে পারেনি।
জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায়ে জ্বালানিমন্ত্রীরও পদে থাকার অধিকার নেই বলে দাবি করেন তিনি।
মন্ত্রিসভা পুনর্গঠনের দাবি
নাহিদ ইসলাম বলেন, মন্ত্রিপরিষদের ব্যর্থতার তালিকা বাড়তেই থাকবে। তবে আপাতত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রী—এই দুজনকে সরিয়ে মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন করা উচিত বলে এনসিপি মনে করে।
তিনি আরও বলেন, এর আগে তথ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং কয়েক দিন আগে একজন প্রতিমন্ত্রীকেও সরানো হয়েছে।
কেন তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তাঁর অভিযোগ, যাঁরা নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালনে সবচেয়ে বেশি অবহেলা করছেন, তাঁদের সরানো হচ্ছে না বা জবাবদিহির আওতায় আনা হচ্ছে না।
এনসিপি তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনতে চায় বলে জানান বক্তা।
১১. সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত ও সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি
বক্তব্যে দ্বিতীয় দাবি হিসেবে একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করার আহ্বান জানানো হয়।
বক্তার অভিযোগ, জনগণের সঙ্গে প্রহসন করার জন্য এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, কমিটি অবিলম্বে বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায়ের ভিত্তিতে একটি সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করতে হবে।
সেই পরিষদের মাধ্যমেই নতুন সংস্কারকৃত সংবিধান প্রণয়ন করতে হবে বলে বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়।
এ ক্ষেত্রে জুলাই সনদ ও গণভোটের গণরায় অনুসরণের কথা বলা হয়।
বক্তা আরও বলেন, জনগণ স্বচ্ছতা, জবাবদিহি ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান চেয়েছিল। সেসব প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করতে হবে এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দলীয়করণ বন্ধ করতে হবে।
১২. সাইবার আইন সংশোধনী ও কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিলের দাবি
বক্তব্যে তৃতীয় দাবির অংশ হিসেবে প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী সংসদে না আনার দাবি জানানো হয়।
বক্তা বলেন, এই সংশোধনী আনা যাবে না এবং কোনোভাবেই সংসদে পাস হতে দেওয়া হবে না।
এ ছাড়া বক্তব্যে আরও কয়েকটি আইন বাতিলের দাবি জানানো হয়:
- গুম প্রতিরোধ-সংক্রান্ত আইন।
- মানবাধিকার কমিশন আইন।
বক্তার অভিযোগ, এসব আইন কর্তৃত্ববাদী প্রকৃতির। তাই এগুলো বাতিল করতে হবে বলে তিনি দাবি করেন।
১৩. জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচার নিশ্চিত করার দাবি
বক্তব্যে চতুর্থ দাবির অংশ হিসেবে জুলাই গণহত্যা এবং গুম-খুনের বিচার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তা বলেন, ৫ আগস্ট থেকে তাঁরা এই বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানিয়ে আসছেন। বিচার কার্যক্রম শুরু হলেও এখনো তার বাস্তবায়ন দেখতে পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, ফ্যাসিবাদের দোসররা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে এবং তৃণমূল পর্যায়ে সক্রিয় রয়েছে।
বক্তব্যে বলা হয়, বিভিন্ন স্থানে জুলাইযোদ্ধা, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং আহতদের পরিবারের ওপর হামলা ও আক্রমণ করা হচ্ছে।
তাই অবিলম্বে বিচার নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
১৪. এনসিপির চার দফা দাবি
বক্তব্যে উল্লিখিত চারটি প্রধান দাবি হলো:
- ১. স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগ: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও জ্বালানি খাতের ব্যর্থতার দায়ে তাঁদের পদত্যাগ এবং মন্ত্রিসভা পুনর্গঠন।
- ২. সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন: একদলীয় সংবিধান সংশোধন কমিটি বিলুপ্ত করে গণভোটের গণরায় ও জুলাই সনদের ভিত্তিতে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নিশ্চিত করা।
- ৩. সাইবার আইন সংশোধনী ও কর্তৃত্ববাদী আইন বাতিল: প্রস্তাবিত সাইবার আইন সংশোধনী সংসদে না আনা এবং গুম প্রতিরোধ ও মানবাধিকার কমিশন-সংক্রান্ত যেসব আইনকে বক্তা কর্তৃত্ববাদী বলে অভিহিত করেছেন, সেগুলো বাতিল করা।
- ৪. জুলাই গণহত্যা ও গুম-খুনের বিচার: বিচার কার্যক্রমের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা এবং জুলাইযোদ্ধা, শহীদ ও আহতদের পরিবারের ওপর হামলার বিচার করা।
১৫. ৩০ অক্টোবর শাহবাগে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি
চার দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে আগামী ৩০ অক্টোবর ঢাকার শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দেওয়া হয়।
বক্তব্য অনুযায়ী, কর্মসূচির সময় দুপুর ৩টা।
এনসিপির পক্ষ থেকে জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলা হয়, এই কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করতে হবে। বক্তা এটিকে জনগণের নিজেদের অধিকার আদায়ের কর্মসূচি হিসেবে বর্ণনা করেন।
ঢাকা মহানগরে কর্মসূচি পালনের পর সারা দেশে গণবিক্ষোভ কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়।
১৬. ঢাকা মহানগরে চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দখলদারত্ব ও মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে আন্দোলন
বক্তব্যের শেষাংশে ঢাকা মহানগরের বাসিন্দাদের পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা করা হয়।
নাহিদ ইসলামের অভিযোগ, ঢাকা মহানগরীর মানুষ চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দখলদারত্বের অধীনে নিরুপায় হয়ে পড়েছেন।
তিনি বলেন, এই পরিস্থিতি থেকে নগরবাসীকে মুক্ত করার লক্ষ্যে এনসিপির দুই নেতা—জনাব নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী এবং জনাব আসিফ মাহমুদের নেতৃত্বে আন্দোলন চলবে।
বক্তব্যে তাঁদের নেতৃত্বে ঢাকা শহরের চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসী ও দখলদার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে অভিযান এবং গণআন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার কথা বলা হয়।
মাদক সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধেও অভিযান ও গণআন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার করা হয়।
বক্তা বলেন, ঢাকা মহানগরবাসীর যে অধিকার রয়েছে, সেই অধিকার নিশ্চিত করার জন্য এই দুই নেতা রাজপথে থাকবেন বলে ওয়াদা করছেন।
ঢাকা থেকে কর্মসূচি শুরু হলেও ধারাবাহিকভাবে বাংলাদেশের সব জায়গায় এই কর্মসূচি পালন করা হবে বলে বক্তব্যে জানানো হয়।
১৭. জনগণের প্রতি চূড়ান্ত আহ্বান
বক্তব্যের শেষে সবাইকে ধন্যবাদ জানানো হয় এবং গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
বক্তার মূল বার্তা ছিল, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, দ্রব্যমূল্য, জ্বালানি খাত, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক সহিংসতা এবং গণতান্ত্রিক সংস্কার নিয়ে জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলন চালিয়ে যেতে হবে।
এনসিপি জনগণের সঙ্গে থাকবে এবং ঢাকা থেকে শুরু করে সারা দেশে এই কর্মসূচি ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে বক্তব্যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url