বাংলা কিউআর: কী, কেন ব্যবহার করবেন

কিউআর কোড হল একটি ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন এর একটি স্ক্যান যোগ্য কোড, যা ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন এর ব্যবহার করা যায়। 

এই QR code বিভিন্ন দেশের মানুষ ব্যবহার করে তাদের ব্যক্তিগত ও ছোট-বড় বানিজ্যিক ডিজিটাল কারেন্সি লেনদেন করার জন্য। ভারতের UPI qr, ইন্দোনেশিয়ার QRIS, মালয়েশিয়ার DuitNow QR, ফিলিপাইনের QR Ph রয়েছে। 

১৮ই জানুয়ারি ২০২৩ বাংলাদেশ ব্যাংক বাংলা কিউআর নামে একটি ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন ব্যবস্থা তৈরি করেছে। আপনি কি জানেন বাংলা কিউআর (BANGLA QR) কি, এবং কেন এটি ব্যবহার করা উচিত? চলুন জেনে নিন। 

বাংলাদেশের একজন মানুষ বাংলা কিউআর ব্যবহার করছে

বাংলা কিউআর (BANGLA QR) কি?

বাংলা কিউআর (BANGLA QR) হল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশের মধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন যোগ্য কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল পেমেন্ট সিস্টেম, যা বাংলাদেশের মানুষ তাদের ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে। 

BANGLA QR কোড ব্যবহৃত হবে বিক্রেতা বা সেবাদাতা ও গ্রাহকদের মধ্যে। যেখানে বিভিন্ন ব্যাংক, মোবাইল আর্থিক সেবা বা পেমেন্ট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গুলো একটি মাত্র কিউআর কোড প্রদর্শন করে তাদের গ্রাহকদের কাছ থেকে ডিজিটাল টাকা গ্ৰহণ এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করতে পারে। 

বাংলা QR হল একক কিউআর কোড ভিত্তিক আধুনিক পেমেন্ট ব্যবস্থা, যা বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয় এবং এটি একটি জাতীয় কিউআর।

এটি গ্ৰাহক গণ অর্থাৎ বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ অনলাইন ও অফলাইনে তাদের কেনাকাটা এবং সেবা গ্ৰহণ এর পর বাংলা কিউআর কোডের উপর বিকাশ, নগদ, রকেট সহ বিভিন্ন ডিজিটাল অ্যাপ দিয়ে স্ক্যান করে পেমেন্ট সম্পন্ন করতে ব্যবহার পারবে। 

এটি ১৮ই জানুয়ারি ২০২৩ সালে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রবর্তন করে এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের মূল উদ্দেশ্য হল পুরো বাংলাদেশ কে একটি QR code এর আওতায় নিয়ে আসা, ফিজিক্যাল টাকার পরিবর্তে ডিজিটাল লেনদেন বৃদ্ধি করা, এবং কিউআর কোড ভিত্তিক দেলনেন এর ক্ষেত্রে একক QR ব্যবহার নিশ্চিত করা। 

এই QR code টি শুধু বাংলাদেশে ব্যবহার করা যাবে এবং বাংলাদেশের মধ্যে ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করার জন্য ব্যবহার করতে হবে। 

এটি বিক্রেতা দ্বারা প্রদর্শিত একটি কিউআর কোড ভিত্তিক ডিজিটাল লেনদেন ব্যবস্থা। এর মানে হল পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, ব্যাংক, পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটর, MFS মার্চেন্ট এর কাছে বাংলা কিউআর কোড ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাধারণ মানুষ ডিজিটাল পেমেন্ট সম্পন্ন করার একটি একক ডিজিটাল উপায়। 

বাংলা কিউআর এবং কিউআর কোড এর প্রার্থক্য 

bangla Quick Response হল বাংলাদেশ ব্যাংকের ডিজিটাল প্রযুক্তি ভিত্তিক প্লাটফর্ম। অপরদিকে Quick Response Code হল ব্যবহারযোগ্য একটি কোড, যার মাধ্যমে বিভিন্ন পরিমাণ ডিজিটাল টাকা পাঠানো যায়। 

সহজ ভাবে বললে, বাংলা কিউআর হল বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক পরিচালিত বাংলাদেশে অভ্যন্তরীণ ডিজিটাল লেনদেন ব্যবহৃত নির্ধারিত ব্যবস্থা। অন্যদিকে কিউআর কোড হল পেমেন্ট গ্রহণের জন্য ব্যবহৃত স্ক্যানযোগ্য কোড। 

অর্থাৎ, কিউআর কোড হল দোকান বা কোন একক ব্যক্তি কে ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহার করে টাকা পাঠানোর পথ। আর বাংলা কিউআর মূলত একটি নাম যা টাকার মান নির্ধারণ করে এবং সকল ডিজিটাল পেমেন্ট এর একক ব্যবস্থার মাধ্যম। 

কেন ব্যবহার করবেন বাংলা কিউআর? 

বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়ন্ত্রণাধীন ডিজিটাল টাকা লেনদেন যোগ্য একটি ডিজিটাল প্লাটফর্ম। যেখানে সকল ব্যাক, MFS প্রতিষ্ঠান, এবং ডিজিটাল পেমেন্ট লেনদেন করতে অনুমতি দেয় এমন বৈধ অ্যাপ এর মাধ্যমে QR CODE Scan করে টাকা পাঠানো যায়। অর্থাৎ, MFS app বিকাশ, নগদ, রকেট, উপায় সহ বিভিন্ন ব্যাংকের অ্যাপ যেমন nexus pay, citytouch, CellFin ব্যবহারকারীর জন্য আলাদা কোন QR code দরকার হবে না। 

এখন থেকে banga qr দিয়ে সেবাদাতা যেমন: দোকান, ক্ষুদ্র ব্যবসা, রেস্তোরাঁ, সেবাকেন্দ্র, রাস্তার পাশের বিক্রেতা, অনলাইন স্টোর, সুপারশপ, এবং বড় শপিংমলসহ সব ধরনের মার্চেন্ট পেমেন্ট পয়েন্টে পেমেন্ট সম্পন্ন করা যাবে। গ্ৰাহক এবং সেবাদাতা উভয়েই নোটিফিকেশন পেয়ে যাবে কত টাকা Transaction হল। এটি ব্যবহার করে এক ব্যক্তি থেকে অন্য ব্যক্তির কাছে টাকা পাঠানো যায়। 

এই ব্যবস্থার কারণে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) যন্ত্রের প্রয়োজন হয় না, যা কার্ড ভিত্তিক পেমেন্ট এর ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। Bangla Qr এর মাধ্যমে কিউআর কোড স্টিকার বা প্রদর্শনযোগ্য কোড দিয়ে গ্ৰাহক তার ক্রয়কৃত পন্য অথবা সার্ভিস এর মূল্য সহজেই পেমেন্ট করতে পারছে। বাংলা কিউআর ব্যবস্থার মাধ্যমে ছোট-বড়, এবং একক ব্যক্তি পর্যায়ে ডিজিটাল লেনদেন সহজ হবে। 

বাস, ট্রেন, লঞ্চ, বা যেকোনো যানবাহনে চড়ে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াতের মূল্য পরিশোধ করার সময় ৪৯ টাকা, ৩৮ টাকা, ২ টাকা সহ বিভিন্ন পরিমাণ লেনদেন এর সময় ভাংতি টাকা নিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। তবে bangla QR ব্যবহার করলে ছোট থেকে বড় টাকার অ্যামাউন্ট বা ভাংতি নিয়ে আর বিপদে পড়তে হবে না। সহজে টাকা দিতে পারবেন।

এছাড়াও, ছেঁড়াফাটা নোট নিয়ে আপনাকে আর দুশ্চিন্তা করতে হবে না, ভাবতে হবে না যে টাকার নোটটা বাজারে চলবে কি চলবে না। কারণ, Bangla qr ব্যবহার করলে কোন পরিমাণ টাকার নোট নিয়ে ঘুরতে হবে না। শুধু QR code Scan করলে টাকা চলে যাবে আপনার কাংখিত একাউন্টে। 

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিটি নোট ছাপাতে টাকা খরচ হয়। যেমন: ১০০০ টাকার নোট: ৫ টাকা, ৫০০ টাকার নোট: ৪ টাকা ৭০ পয়সা, ২০০ টাকার নোট: ৩ টাকা ২০ পয়সা, ১০০ টাকার নোট: ৪ টাকা, ১০, ২০ ও ৫০ টাকার নোট: দেড় টাকা (১ টাকা ৫০ পয়সা), এবং ৫ টাকা ও ২ টাকার নোট: ১ টাকা ৪০ পয়সা খরচ হয়। এছাড়াও, সাম্প্রতিক খবর অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে বাংলাদেশ ব্যাংকের নোট ছাপাতে মোট খরচ হয়েছে ৪৫৯ কোটি টাকার বেশি, যা আগের অর্থবছরের চেয় দ্বিগুণ। 

অর্থাৎ, Bangla qr ব্যবহার করার ফলে ৪৫৯ কোটি টাকার বেশি প্রতিটি নোট ছাপাতে খরচ কমাতে পারি। অতএব, আসুন আমরা সবাই বাংলা কিউআর ব্যবহার করি। 





এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url