কী করলে বিএনপি বাধা ছাড়াই ৫ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে? পথ দেখিয়ে দিলেন আবু হেনা রাজ্জাকী


বিএনপি কী করলে বাধা ছাড়াই পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে? এ নিয়ে আবু হেনা রাজ্জাকীর বক্তব্য ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ পড়ুন।


আবু হেনা রাজ্জাকীর বক্তব্য বিএনপির ৫ বছর সরকার থাকা নিয়ে

জামায়াত তাদের পুরো রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে। এখন তারা ৭৬টি আসন নিয়ে বসে আছে। বিরোধী দলের পতাকা হাতে নিয়ে তারা কি চাইবে, সেটি ভেঙে যাক?

প্রথমত, যে দল ক্ষমতায় থাকবে, সমালোচনা ও দুর্নামের শিকার হবে সেই দলই। বিএনপির যত দুর্নাম হবে, তার সঙ্গে এনসিপির হিসাবেও সেটি যুক্ত হবে। সুতরাং, তারা যদি পাঁচ বছর টিকে থাকতে পারে, তাহলে ভালো। কিন্তু তাদের ভয় অন্য জায়গায়।

আপনারা একদিকে একমত হচ্ছেন, অন্যদিকে একমত হচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ের অস্থিরতা দেখুন। নির্বাচনের আগে আপনারা গণভোটের কথা বলেছিলেন, কিন্তু তা মেনে নেননি! এর আগে আপনারা বুক ফুলিয়ে বলেছিলেন, নির্বাচনের পর আর কোনো সংকট থাকবে না। আপনাদের আন্দোলন তো চলছেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কি অবনতি হচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলার কথা বলে সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

অন্য কোনো কারণে নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়। কারণ, আমরা জানি, ক্ষমতায় থাকলে মামলা হয় না। আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই, তাই অনেক মামলা হচ্ছে।

আপনি যদি আমার উল্লেখ করা সংকটগুলো—গ্যাস, বিদ্যুৎ, জ্বালানি এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি—মোকাবিলা করতে না পারেন, তাহলে সে কারণেই কি আপনারা জাতীয় ঐক্য চাইছেন? এভাবে জাতীয় ঐক্য অর্জন করতে পারবেন না।

জনগণকে দমন করতে হলে প্রশাসন দরকার। সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা ইতিমধ্যে বলেছেন, তাঁরা বৈঠক করতে গেলে পুলিশ উপস্থিত হয় না। প্রশাসন যদি সরকারকে সহযোগিতা না করে, তাহলে সরকার কত দিন চলতে পারবে? আর সরকারকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ঐক্য।

নির্বাচনের আগে যেসব বিষয়ে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পূরণ করুন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এই দেশের মানুষ দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্যও অভিযোগ করবে না। কারণ, এই মানুষগুলো পরিবর্তন চেয়েছিল। আপনারা দুই বছর বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না—আমি চ্যালেঞ্জ করছি। জনগণ কোনো কিছু নিয়েই অভিযোগ করবে না; গ্যাসের দাম বা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও নয়। জনগণের শুধু কিছু একটা পাওয়া দরকার।

আপনারা তাদের এটাও দেবেন না, ওটাও দেবেন না। এটা কোনো তামাশা নয়, এটা একটা রাষ্ট্র।

তাই এখনো যদি গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার করেন এবং জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই সরকার খুব স্বাচ্ছন্দ্যে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। জনগণ কষ্ট সহ্য করবে। আমরা একটা পরিবর্তন অর্জন করেছি।

ওই সংবিধান অনুযায়ী তো আপনাদের নির্বাচনই হয়নি। ওই সংবিধানে বলা আছে, সংসদ ভেঙে যাওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। সংসদ ভেঙে দেওয়া হয়েছিল ২০২৪ সালের ৬ বা ৭ আগস্ট। সেই হিসাবে ২০২৪ সালের ৬ নভেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল।

আমি আগেও বলেছি, এখনো বলছি—সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন ৯০ দিনের মধ্যে হতে হবে। আমি সারা বাংলাদেশকে চ্যালেঞ্জ করছি, সংবিধানে এ কথা লেখা আছে। সেখানে ১৮ মাস পরে নির্বাচন করছেন, কিন্তু কোথায় সেই অধিকার? কে আপনাদের এই অধিকার দিয়েছে?

যে অধিকার দেওয়া হয়েছে, তা সবাই মেনে নিয়েছে। সবার এই গ্রহণযোগ্যতাই আইন, এটাই সিদ্ধান্ত। একইভাবে গণভোটের ফলাফলও আপনাদের মেনে নিতে হবে। এটি বাধ্যতামূলক। এখন যদি জোর করে বলেন, আপনারা তা মানবেন না, তাহলে সেটা ভিন্ন বিষয়।

আপনারা নোট অব ডিসেন্ট দিয়েছিলেন বলেই তো গণভোট হয়েছে। আপনারা যদি নোট অব ডিসেন্ট না দিয়ে ঐকমত্যে পৌঁছাতেন, তাহলে গণভোটের প্রয়োজন হতো না।

এখন আসি, মানুষ গণভোট বোঝে না—এই দাবির কথায়। গণভোটের মধ্যে অনেক জটিল বিষয় রয়েছে, যা অনেকেই বুঝতে পারেন না। কিন্তু ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স কত? ১৮ বছর, তাই না?

আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিচ্ছি। বাংলাদেশের ১৮ বছর বয়সী ভোটাররা কিছুই বোঝেন না। আপনার ছেলে-মেয়ে আছে। তাদের কলেজে নিয়ে যান, কলেজ থেকে ফিরিয়ে আনুন। গণভোট বাদই দিলাম। তারা কি জানে, একজন ভালো সংসদ সদস্য নির্বাচিত করতে কাকে ভোট দিতে হবে? আমি চ্যালেঞ্জ করছি, তারা জানে না।

আপনার মেয়ে কি জানে? আপনার বাড়ির ১৮ বছর বয়সী মেয়েটি কি জানে, কে আইন প্রণয়ন করবে? আমার এলাকায় যাঁরা প্রার্থী হয়েছিলেন, তাঁদের মধ্যে কে আইন প্রণয়নের জন্য ভালো—সেটা কি তারা জানে? কিছুই জানে না, একেবারেই কিছু না। তারা শুধু প্রতীকী ভোট দিচ্ছে।

আমি আগেও বলেছি, ভোট দেওয়ার ন্যূনতম বয়স ৪০ বছর করা দরকার। ভোটার মাত্র দুই কোটি থাকলেও সমস্যা কী? আপনারা ১৮ বছর বয়সীদের ভোটার বানিয়েছেন, অথচ তারা গণভোট বোঝে না।

তবে তারা এটা বুঝতে পারে যে রাজ্জাককে ভোট দিলে ভালো সংসদ সদস্য হবে, নাকি মান্না ভাইকে ভোট দিলে ভালো সংসদ সদস্য হবে। তারা সেটা বোঝে। কিন্তু নির্বাচনে কে কে দাঁড়িয়েছেন, সেটাই তারা জানে না। এ কারণেই তারা বুঝতে পারে না।

এখন একটি সাধারণ যুক্তি রয়েছে—মানুষ দলকে ভোট দিয়েছে। ঠিক আছে, আমি সেটা মেনে নিচ্ছি। সবাই বিএনপি দলকে ভোট দিয়েছে। বিএনপির চেয়ারম্যানও বলেছেন, যেভাবে ধানের শীষে ভোট দেবেন, সেভাবে গণভোটেও ভোট দেবেন। জনগণ তারেক রহমানকে ভোট দিয়েছে।

তাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাহলে সেটি বাস্তবায়ন করবেন না কেন? এটি বাতিল করার কোনো যুক্তি আপনাদের নেই, কোনো উপায়ও নেই।

এখন আসুন, জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার প্রসঙ্গে কথা বলি।

ধরুন, আমি এটি মেনে নিলাম না। তখন আপনি কী করবেন? সরকার কী করবে?

অনেকে বলেন, আদালত এই আদেশ দিয়েছে। আমার এক মক্কেল এসে বললেন, আদালত এই আদেশ দিতে পারে না। কেন? কারণ, আইন অনুযায়ী আদালত তা করতে পারে না। আমি বললাম, আদালত আদেশ দিয়েছে। আপনি যুক্তি দেখাতে পারেন, কিন্তু তারা অন্য একটি অধ্যায় থেকে আদেশটি দিয়েছে।

এ কারণেই আমি বলি, জনগণের ম্যান্ডেটের বিষয়টি বিবেচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশের নির্বাচনে জনগণের ভোট যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা। তা না হলে জনগণের কাছে যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, সেটি অস্বীকার করার সাহস পান কীভাবে?

অর্থাৎ, আপনারা জনগণের ভোটের ওপর নির্ভর করছেন না; অন্য কোনো আকর্ষণ বা প্রভাব কাজ করছে। তা না হলে বলুন, আপনি কি নিজের সন্তানকে কোনো প্রতিশ্রুতি দিয়ে পরে তা ভেঙে দিতে পারেন?

বিষয়টি ঠিক তেমনই। এ কারণেই মানুষ আপনাদের প্রশ্ন করে বলে, “আপনি আমাকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, বলেছিলেন KFC-তে খাওয়াতে নিয়ে যাবেন। কিন্তু তিন দিন ধরে শুধু ঘোরাচ্ছেন, তাই না?”

বাস্তবে কোনো পরিবর্তন আসেনি। পেছনে তাকিয়ে দেখুন, কিছুদিন আগেও যখন আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল, তখন মমতাজ বলেছিলেন, তাঁরা বাড়ি বাড়ি গিয়ে বিদ্যুৎ ও বিদ্যুতের মিটার বিক্রি করবেন। তখন এ ধরনের কথাই বলা হতো।

আমাদের এখানকার একজন প্রধান নেতাও বলেছেন, আগামী বছর আগস্টের পর এত বেশি বিদ্যুৎ থাকবে যে আমরা বুঝতেই পারব না, তা দিয়ে কী করব! আমি এই দুই বক্তব্যের মধ্যে মিল দেখতে পাচ্ছি।

এখন আসি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করার বিষয়ে। আপনারা যদি জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ না করেন, তাহলে সংস্কার করতে যাবেন কেন? এটি একটি শর্তের মতো। যেমন, আপনার বাবা মারা গেলে আপনি তাঁর স্মরণে স্মরণসভা করবেন।

আট মাস পার হয়ে গেছে। আমি আপনাকে বোঝাচ্ছি, জুলাইয়ের চেতনাকে আপনারা সত্যিই ধারণ করছেন কি না, তা পরিমাপ করার একটি মানদণ্ড থাকা দরকার।

আপনারা কীভাবে ক্ষমতায় এসেছেন, সেটি পরিষ্কার করলেই বুঝতে পারবেন, আপনারা এখনো সংবিধান অনুযায়ী যথাযথভাবে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে পারেননি। আপনারা সংবিধান অনুযায়ী ক্ষমতা গ্রহণ করেননি। এখন যদি মনে করেন, “আমাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে, তাই যা ইচ্ছা করতে পারি”—তাহলে সেটি ভিন্ন অধ্যায়।

জুলাইয়ের চেতনার কথা বলছেন। আমাদের প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ উদ্বোধন করেছেন। সেখানে ৫১৩ জন বা ১৮৩ জনের নাম খোদাই করা হয়েছে—তাঁরা কারা? জুলাই যোদ্ধা।

বিষয়টি দেখতে খুব সুন্দর। আবার বলা হচ্ছে, বিরোধী দল সেখানে যায়নি। কিন্তু তারা সেখানে যায়নি বলেই যে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে না, তা নয়। সেখানে যাওয়া বা না যাওয়া মানদণ্ড হতে পারে না।

আপনি একজন মুসলমান। আপনি যদি মসজিদে গিয়ে নামাজ না পড়েন, তাহলে কি আপনি মুসলমান নন? আপনি কি মুসলমান নন? এটিও মানদণ্ড নয়।

আপনারা যদি সত্যিই বিশ্বাস করেন যে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করছেন, তাহলে সেটি পরিমাপ করার একমাত্র প্রতীকী মানদণ্ড হলো, আপনারা সেই চেতনা বাস্তবায়ন করছেন কি না। গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার করে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করাই একমাত্র মানদণ্ড।

আর এটি বাস্তবায়ন করা এই সরকারের দায়িত্ব, কারণ আপনাদের দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে।

এটি এমন একটি বিষয়, যা বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রের কোনো ক্ষতি হওয়ার কথা নয়। আমি চ্যালেঞ্জ করছি, আপনারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন করলে রাষ্ট্রের কী ক্ষতি হবে? দেশের মানুষের কী ক্ষতি হবে? দেশের পররাষ্ট্রনীতির কী ক্ষতি হবে? দেশের অর্থনীতির কী ক্ষতি হবে? দেশের অভ্যন্তরীণ নীতির কী ক্ষতি হবে?

তাহলে সমস্যা কোথায়? তা হলে কি এ কারণেই আপনারা এটি করছেন না?

আপনারা এটি করতে পারবেন না, কারণ প্রথম দিন থেকেই জনগণ দেখছে, আপনারা প্রতিটি প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করছেন।

এখন মান্না ভাইয়ের একটি ভালো যুক্তির প্রসঙ্গে আসি—ফ্যাসিবাদ যেন ফিরে না আসে, সেটি নিশ্চিত করা। হ্যাঁ, আমি স্বীকার করছি, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। এ বিষয়ে দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য রয়েছে। তিনটি দলই এ ব্যাপারে একমত।

কারণ, দেখুন, জামায়াত তাদের পুরো রাজনৈতিক ইতিহাসে সর্বোচ্চ ৬৮টি আসন পেয়েছে। আর এখন তারা ৭৬টি আসন নিয়ে বসে আছে। বিরোধী দলের পতাকা হাতে নিয়ে তারা কি চাইবে, সেটি ভেঙে যাক?

প্রথমত, যে দল ক্ষমতায় থাকবে, সমালোচনা ও দুর্নামের শিকার হবে সেই দলই। বিএনপির যত দুর্নাম হবে, তার প্রভাব শেষ পর্যন্ত এনসিপির ওপরও পড়বে। সুতরাং, তারা যদি পাঁচ বছর টিকে থাকতে পারে, তাহলে ভালো। কিন্তু তাদের ভয় অন্য জায়গায়।

আপনারা একদিকে একমত হচ্ছেন, অন্যদিকে একমত হচ্ছেন। কিন্তু মাঠপর্যায়ের পরিস্থিতি দেখুন। নির্বাচনের আগে আপনারা গণভোট পর্যন্ত করেননি। অথচ আপনারা খুব আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে বলেছিলেন, নির্বাচনের পর আর কোনো সংকট থাকবে না।

আপনাদের আমলে কি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে না? আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির কারণে সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্য এবং একজন প্রতিমন্ত্রীকে পদত্যাগ করতে হয়েছে।

অন্য কোনো কারণে নয়, তাঁদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। ফৌজদারি অপরাধ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে কি না, সেটি ভিন্ন বিষয়।

কারণ, আমরা জানি, কেউ ক্ষমতায় থাকলে তার বিরুদ্ধে মামলা হয় না। আজ শেখ হাসিনা ক্ষমতায় নেই, তাই অনেক মামলা হচ্ছে। আগামীকাল অন্য কেউ ক্ষমতায় থাকবেন না। তখন তাঁর বিরুদ্ধেও মামলা করা সম্ভব হবে।

এমনকি এখন ড. ইউনূসও ক্ষমতায় নেই, অথচ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করার চেষ্টা চলছে। আবার আগামীকাল এই সরকারও থাকবে না। তখন আপনারাও মামলা করতে পারবেন।

আপনারা বলছেন, ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। কিন্তু আমি আপনাদের এটাও বলব, কীভাবে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসতে পারে।

আপনারা যদি আমার উল্লেখ করা সংকটগুলো—গ্যাসের সংকট, বিদ্যুতের সংকট, জ্বালানির সংকট এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি—মোকাবিলা করতে না পারেন, তাহলে জাতীয় ঐক্য চেয়ে কোনো লাভ হবে না।

জনগণকে দমন করতে হলে প্রশাসন দরকার। ইতিমধ্যে সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা বলেছেন, তাঁরা ৩০টি বৈঠক করেছেন, কিন্তু পুলিশ উপস্থিত হয়নি।

বর্তমান সরকার প্রশাসনের সহযোগিতা পাচ্ছে না। এভাবে সরকার কত দিন চলতে পারবে? আর সরকারকে টিকিয়ে রাখার একমাত্র উপায় হয়ে দাঁড়িয়েছে জাতীয় ঐক্য।

নির্বাচনের আগে যেসব প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলো পূরণ করুন। আমি গ্যারান্টি দিয়ে বলছি, এই দেশের মানুষ দুই বছর পর্যন্ত বিদ্যুতের জন্যও অভিযোগ করবে না। কারণ, এই মানুষগুলো পরিবর্তন চেয়েছিল।

আপনারা দুই বছর বিদ্যুৎ দিতে পারবেন না—আমি চ্যালেঞ্জ করছি। জনগণ কোনো কিছু নিয়েই অভিযোগ করবে না; গ্যাসের দাম বা পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও নয়। জনগণের শুধু কিছু একটা পাওয়া দরকার।

আপনারা তাদের এটাও দেবেন না, ওটাও দেবেন না। এটা কোনো তামাশা নয়, এটা একটা রাষ্ট্র।

তাই এখনো যদি গণভোটের আলোকে সংবিধান সংস্কার করেন এবং জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন করেন, তাহলে আমি নিশ্চিতভাবে বলতে পারি, এই সরকার খুব স্বাচ্ছন্দ্যে পাঁচ বছর ক্ষমতায় থাকতে পারবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে না। জনগণ কষ্ট সহ্য করবে। আমরা একটা পরিবর্তন অর্জন করেছি।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url