সালাহউদ্দিন আহমদ: গুমের অপসংস্কৃতি চিরতরে বন্ধ করতে চাই

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুম বন্ধ, ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

বাংলাদেশে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও হেফাজতে মৃত্যুর মতো মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা প্রতিরোধ এবং ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। 

বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, জাতীয় সংসদ ভবনে সংবিধান সংশোধন-সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির বৈঠকে গুমের শিকার ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য শোনা হয়। 

বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশে গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ করতে চায় সরকার। 

একই সঙ্গে গুমের ঘটনায় দায়ীদের বিচার, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গুম বন্ধ, ভুক্তভোগী পরিবারের ক্ষতিপূরণ, পুনর্বাসন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে সরকারের পরিকল্পনার কথা জানান।

সালাউদ্দিন আহমেদ এর পুরো বক্তব্য 

সংগঠন আমাদের সহযোগিতা করেছে। তাঁদের মধ্যে আপনারা নাম বললেই অনেকেই চিনবেন। গুমের শিকার সাঞ্জিদা ইসলাম সুমনের কথা বলছি। সাঞ্জিদা ইসলাম এমপির ছোট ভাই গুমের শিকার হয়েছিলেন। তিনি সাজিদুল ইসলাম সুমন নামে পরিচিত। সবাই তাঁকে চেনেন না। তাঁর মাও এসেছিলেন। গুমের শিকার উমাম কাদের চৌধুরী এমপি, আনিসুর রহমান এমপি, ইলিয়াস আলীর সাবেক এমপি—তাঁর সহধর্মিণী, বর্তমান এমপি, আসলাম রুশদী এবং আরও অনেকে, যাঁরা গুমের শিকার হয়ে ফিরে আসেননি, তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এসেছিলেন। তাঁদের কারও স্ত্রী, কারও সন্তান, কারও পিতা বক্তব্য দিয়েছেন। আমরা তাঁদের বক্তব্য গভীর মনোযোগের সঙ্গে শুনেছি। তাঁদের আবেগ, অনুভূতি ও সব কথা শুনেছি। আমি নিজেও একজন গুমের শিকার হওয়া ব্যক্তি। আমি তাঁদের অনুভূতি, আবেগ এবং বক্তব্য বুঝতে পারি। আমাদের কমিটির সদস্যরা সবাই তাঁদের বক্তব্য শুনেছেন।

তাঁদের প্রত্যেকেরই একটি অভিন্ন বক্তব্য ছিল। তাঁরা চান, দেশে ভবিষ্যতে কেউ যেন গুমের শিকার না হন। যাঁরা গুমের শিকার হয়ে এখন পর্যন্ত ফিরে আসেননি অথবা ফিরে এসেছেন, তাঁদের মধ্যে যাঁরা আইসিটি কোর্টে—আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে, যেটিকে আমরা সংক্ষেপে আইসিটি কোর্ট বলে চিনি—এবং অন্যান্য আদালতে মামলা দায়ের করেছেন, তাঁরা যেন দ্রুত সুষ্ঠু বিচার পান। প্রত্যেকেই এই আবেদন করেছেন। ভবিষ্যতে যেন কেউ গুমের শিকার না হন, সে ব্যবস্থা যেন করা হয়।

যাঁরা গুমের শিকার হয়ে দীর্ঘ অনেক বছর ধরে এখনো ফিরে আসেননি, তাঁদের পরিবার তাঁদের ফিরে আসার অপেক্ষায় রয়েছে। তাঁদের সহায়-সম্পত্তি বিলি-বন্দোবস্তের ব্যাপারেও তাঁরা আবেদন করেছেন। গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনে ইতিমধ্যে সে ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। আদালতের অনুমতি নিয়ে তাঁদের সম্পত্তি বিলি-বন্দোবস্ত করা যায়। তাঁরা রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতির বিষয়টি তুলে ধরেছেন এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যদের পুনর্বাসনের কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে কোনো আইন প্রণয়নের প্রয়োজন হলে, সে বিষয়েও তাঁরা আবেদন করেছেন।

আমরা প্রত্যেকের বক্তব্য শুনেছি। তাঁদের বক্তব্য হৃদয় দিয়ে শুনতে গিয়ে সবাই বেদনায় ভারাক্রান্ত হয়ে পড়েন। অনেকে বক্তব্য রাখতে পারেননি। আবেগে আপ্লুত হয়ে বা শোকাবেগে অনেকে অর্ধেক পথে তাঁদের বক্তব্য সমাপ্ত করেছেন।

আমরা চাই, বাংলাদেশে আর কখনো যেন এমন একটি সময় ফিরে না আসে। আমরা চাই, গুমের অপসংস্কৃতি ও অপরাধ চিরতরে বন্ধ হোক। আমরা চাই, বাংলাদেশে কোনো দিন বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, কেউ গুমের শিকার হবেন না, কেউ রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হবেন না এবং কাস্টডিয়াল ডেথ, অর্থাৎ পুলিশের হেফাজতে বা কারা হেফাজতে কারও মৃত্যু হবে না।

এমন একটি বাংলাদেশের প্রত্যাশায় আমাদের সন্তানরা ছাত্র-গণঅভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে। দেশের জনগণ, আমাদের সন্তানরা রক্ত দিয়েছে। আমরা অবশ্যই তাঁদের আবেদন যথাযথভাবে প্রতিপালন করব। যেটা সংবিধানে ধারণ করা দরকার, সেটা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করা হবে। আর যেগুলো আইন, বিধি-বিধান করে করা যায়, সেগুলো সেভাবে করা হবে। এই ছিল আজকের বৈঠকের নির্যাস বা সারমর্ম। ধন্যবাদ আপনাদের।

সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে জীবনের অধিকার-সংক্রান্ত যে বিধান রয়েছে, সেটি যথেষ্ট। এখানে একটি স্বীকৃতি দেওয়া আছে। তার অনুকূলে আমরা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন করেছি। প্রয়োজনে আরও আইন প্রণয়ন হতে পারে। সংবিধানে এটি স্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে। যারা এসব কাজ করেছে, তারা সংবিধান লঙ্ঘন করেছে।

প্রশ্ন: আমার একটি প্রশ্ন আছে। সংবিধান সংস্কার নিয়ে বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে কত ধরনের সমালোচনা ও মন্তব্য আসছে। তারা বাইরে সমালোচনা করছে। এ বিষয়টি আপনি কীভাবে দেখছেন? বিরোধী দল বাইরে সড়কে আন্দোলন করছে, যে দাবিতে তারা আন্দোলন করছে, সেই দাবিগুলো নিয়ে তারা সংবিধান সংশোধন কমিটিতে এলে আমরা তাদের বক্তব্য শুনতে পারতাম। কিন্তু তারা আমার মনে হয়, রাস্তায় আন্দোলনকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

উত্তর: ভাই, আজকের বৈঠকে বিরোধী দলের অনেকে গত ১৭ তারিখে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন—

প্রশ্ন: আমরা আমন্ত্রণ জানিয়েছি?

উত্তর: আমি বাইরে বলেছি। আমরা মাননীয় সদস্য মীর আহমদ বিন কাসেমকেও আমন্ত্রণ জানিয়েছি। তিনি উপস্থিত হননি। আমরা তো একজনের নাম ধরে বললাম, তাঁদের মধ্যে গুমের শিকার হয়েছেন—এমন একজন সংসদ সদস্য তিনি। আর যাঁরা ২৪-এর গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হয়েছেন, তাঁদের মা ও বোন, যাঁরা এমপি হয়েছেন, অথবা গুমের শিকার ব্যক্তিদের আত্মীয়স্বজন, যাঁরা এমপি হয়েছেন, তাঁদের আমরা সেদিন আমন্ত্রণ জানিয়েছিলাম, যেদিন সে বিষয়ে আলোচনা করেছি। আজকের বৈঠকটি শুধু বিগত ১৭ বছরে যাঁরা গুম, খুন ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের জন্য নির্ধারিত ছিল।

প্রশ্ন: আপনারা আলোচনা করছেন। আলোচনা কি এখন পর্যন্ত শেষ হয়েছে?

উত্তর: আমরা অনেক রকমের পরামর্শ ও প্রস্তাব পেয়েছি। বিভিন্ন বৈঠকে সেগুলো উত্থাপিত হয়েছে। বিশেষ করে যেদিন আমরা সংবিধান বিশেষজ্ঞ, আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিনিধিগণ এবং শিক্ষকসমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বসেছি, তাঁদের কাছ থেকে অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। সম্পাদকদের কাছ থেকেও আমরা অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। আমরা বিভিন্ন বৈঠকে সমাজের বিভিন্ন অংশের মানুষের সঙ্গে বসেছি। তাঁদের কাছ থেকে বিভিন্ন রকমের প্রস্তাব পেয়েছি। এসব প্রস্তাব আমরা একত্র করে কমিটির বৈঠকে আলোচনা করব। এখনো আমরা সিদ্ধান্তের পর্যায়ে আসতে পারিনি।

প্রশ্ন: জুলাই সনদের যে প্রস্তাব সরকার প্রক্রিয়াধীন রেখেছে, এর বাইরে কি আরও বিষয় নিয়ে আলোচনা হচ্ছে? অনেক কিছু সামনে আসছে।

উত্তর: জুলাই সনদের মধ্যে কয়েকটি প্রস্তাব আছে। বাছাই কমিটির প্রথম প্রস্তাবে যদি সমঝোতা না হয়, তাহলে দ্বিতীয় প্রস্তাব, দ্বিতীয়টিতেও সমঝোতা না হলে তৃতীয় প্রস্তাব—এভাবে কয়েকটি প্রস্তাব রয়েছে। এর মধ্যে একটি প্রস্তাব ছিল র‍্যাঙ্কড-চয়েস ভোট। এ ক্ষেত্রে আমাদের নোট অব ডিসেন্ট ছিল। আমরা বলেছিলাম, এই বিধানটি নিয়ে আমরা পার্লামেন্টে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।

এর বাইরেও যদি আলোচনা-পর্যালোচনার মধ্য দিয়ে অন্য কোনো প্রস্তাব আসে, যেগুলো জাতীয়ভাবে গৃহীত হতে পারে, তাহলে সেসব বিষয়ও আমরা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে দেখব।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা আমাদের প্রবর্তন করতেই হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। কিন্তু কী প্রক্রিয়ায় এর গঠন হবে, এর কর্মপরিধি কী হবে, কত দিনের মধ্যে গঠন করতে হবে এবং কোন কোন সার্চ বডি অথবা সিলেকশন কমিটির মাধ্যমে এটি গঠন করলে বিতর্কিত হবে না, সেগুলো আমরা পরীক্ষা করে দেখব। এরপরও পার্লামেন্টে বিল উত্থাপনের পর বিতর্কের সময় অনেক পরামর্শ ও প্রস্তাব আসতে পারে। সেগুলোর জন্যও আমরা অপেক্ষা করছি। কমিটির প্রতিবেদন প্রণয়ন করার পর আপনারা সবাই তা দেখতে পারবেন।

প্রশ্ন: ভাই, আপনি সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হবে না, গুম হবে না, কাস্টডিয়াল ডেথও হবে না। কিন্তু সরকারের অবস্থানের বিপরীতে আমরা আগে দেখেছি, আইজিপি বলেছেন, সরকার চাইলে ক্রসফায়ার করতে তিনি আগ্রহী। এ ধরনের বক্তব্য দেওয়ার পর তিনি কি আসলে এই পদে থাকার অধিকার হারিয়েছেন? যেহেতু আপনি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, এ বিষয়ে আপনার অবস্থান কী?

উত্তর: এ বিষয়ে আমি গতকাল আমার বক্তব্য দিয়েছি। সেটি মিডিয়াতে এসেছে। আপনাদের কাছে আমি একটি প্রশ্ন করি। আমাদের এই সরকারের মেয়াদ এখন আট মাস পার হয়ে গেছে। কোনো কি ক্রসফায়ার হয়েছে? বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হয়েছে একটিও? কোনো কাস্টডিয়াল ডেথ হয়েছে, অর্থাৎ হেফাজতে মৃত্যু হয়েছে? একটিও? কেউ কি গুমের শিকার হয়েছেন? একটিও না।

একটি অভিযোগ আছে। সেই অভিযোগের ব্যাপারে আমরা তদন্ত করেছি এবং অনেক মানবাধিকার সংস্থাকে স্বাধীন তদন্ত করার জন্য আহ্বান জানিয়েছি, যাতে তারা এ বিষয়ে তাদের অনুসন্ধানের ফলাফল দিতে পারে। সেখানে সরকারের কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, সেটি আমরা প্রকাশ্যে বলেছি। আমরাও তদন্ত করছি, অন্যরাও করেছে। আন্তর্জাতিক অনেক মানবাধিকার সংস্থা এ নিয়ে প্রশ্ন তুললে তাদেরও আমরা আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা স্বাধীনভাবে তদন্ত করতে পারেন। কিন্তু এখনো পর্যন্ত কেউ ওই অভিযোগের সমর্থনে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রমাণ দেয়নি।

এই আট মাসে আপনারা যে সরকারকে দেখেছেন, আমি বলব, শুধু সকালের খবর দেওয়ার বিষয় নয়, একটি সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করার জন্য আমরা মোট সময়ের পাঁচ ভাগের এক ভাগ বা ছয় ভাগের এক ভাগ সময় অতিক্রম করেছি। একটি সরকারের ভূমিকা বিশ্লেষণ ও মূল্যায়ন করার জন্য এই সময়টিও যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ।

আর আইজিপি সাহেব যে মন্তব্য করেছেন, তার ব্যাখ্যাও পরবর্তীতে দেওয়া হয়েছে। আইনের কঠোর প্রয়োগের বিষয়ে বক্তব্য রাখতে গিয়ে হয়তো অসতর্কভাবে শব্দচয়নটি করা হয়েছে। তিনি সেখানে বলেননি যে ক্রসফায়ার করার কোনো নির্দেশনা সরকারের কাছ থেকে পেয়েছেন অথবা নিজে তা করতে চান। তারপরও আমি বলেছি, এ ধরনের শব্দচয়ন বা উচ্চারণ করা তাঁর সঠিক হয়নি।

প্রশ্ন: তাহলে যেসব ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিরা রয়েছেন, তাঁদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকে পুনর্বাসন করা হবে, নাকি শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায় থেকে পুনর্বাসন করা হবে?

উত্তর: আমরা পার্লামেন্টে যে আইনটি পাস করেছি, তার মধ্যে গুমের শিকার ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। দুটি উপায় রয়েছে। প্রথমত, যারা দায়ী, আদালতের নির্দেশনা থাকলে রাষ্ট্র তাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে পারে এবং সেই সম্পত্তি বিক্রি করে ক্ষতিপূরণ দিতে পারে। দ্বিতীয়ত, যদি সেটি করা না যায় বা সে রকম ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব না হয়, তখন রাষ্ট্র ক্ষতিপূরণ দেবে। আইনে এই দুটি বিধানই রাখা হয়েছে।

প্রশ্ন: রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণের ক্ষেত্রে কী ধরনের প্রস্তাব পেয়েছেন এবং এ বিষয়ে আপনাদের ভাবনা কী?

উত্তর: অনেক রকমের প্রস্তাব পাওয়া গেছে। এগুলো আমরা একত্র করে পরবর্তী প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত করব।

প্রশ্ন: আইনে বলা হচ্ছে, যারা গুমের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মাধ্যমে তদন্ত হবে। কিন্তু অনেক দল বা বাইরের সংস্থা বলছে, যাদের মাধ্যমে গুমের ঘটনা ঘটেছে, তারাই তদন্ত করবে। এ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি?

উত্তর: না, এ বিষয়ে আলোচনার কারণ হলো, আইনটিতে মূলনীতি ঠিক করা হয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ গুমের শিকার না হন। সে ব্যবস্থা নিশ্চিত করাই এর উদ্দেশ্য।

আমরা সংসদে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইন গ্রহণ করেছি এবং পাস করেছি। এর মধ্যে তদন্ত কোন প্রক্রিয়ায় হবে, তার বিস্তারিত বিধান রয়েছে। তদন্তের ক্ষেত্রে যে বাহিনী বা আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর যে শাখার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠবে, তারা নিজেরা সেই অভিযোগের তদন্ত করবে না। অন্য বাহিনী সেই তদন্ত করবে। সেখানে অনেক বিধান উল্লেখ করা আছে। চেক অ্যান্ড ব্যালান্স রাখা হয়েছে। তাদের কার্যক্রম ও আচরণসহ বিভিন্ন বিষয় নির্ধারণ করা হয়েছে।

কখন শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কখন অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে, সে বিষয়েও বিধান রয়েছে। কোনো অপরাধ সংঘটিত হলে সেটি ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য হবে। আর কোনো ব্যক্তি যদি বিভাগীয় অভ্যন্তরীণ নিয়মশৃঙ্খলা না মানেন বা আইন না মানেন, তাহলে বিভাগীয় কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। এই দুটি বিষয় আলাদা।

কেউ ফৌজদারি অপরাধ করলে তাঁকে ফৌজদারি অভিযোগে অভিযুক্ত হতে হবে এবং সে ক্ষেত্রে আইনের বিধান অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আপনি তদন্তের ক্ষেত্রে যে বিষয়টি বলছেন, কোনো বাহিনী যদি অপরাধ করে থাকে, তাহলে সেই বাহিনীর হাতে ওই ফৌজদারি অপরাধের তদন্তের দায়িত্ব থাকবে না। ধন্যবাদ।



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url