ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভোট দিয়ে যা বললেন

ঠাকুরগাঁও-১ আসনে ১১-দলীয় ঐক্যের প্রার্থী দেলোয়ার হোসেন ভোট দিয়ে নির্বাচনের পরিবেশ, অনিয়মের অভিযোগ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে যা বললেন।


আজ ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সেখানে ভোট প্রদান করেছেন ১১-দলীয় ঐক্য সমর্থিত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থী মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন। 

দেলোয়ার হোসেন বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর ২০২৬) সকাল ৮টায় ভোটগ্রহণ শুরু হয়েছিল। তিনি ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের আদর্শ স্কুল কেন্দ্রে নিজের ভোট দেন। 

ভোট দেওয়ার পর তিনি ভোটারদের নির্ভয়ে ও সাহসিকতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান করেন। এবং ভোট কেন্দ্রে এসে নিজেদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। 

একই সঙ্গে প্রিসাইডিং কর্মকর্তার পরিচয়পত্রে ছবি না থাকার অভিযোগ তুলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। এ ছাড়া কয়েকটি কেন্দ্রে পোলিং এজেন্টদের বের করে দেওয়ার অভিযোগ, নির্বাচনের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ ভোটগ্রহণের প্রত্যাশাসহ বিভিন্ন বিষয়ে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন এই প্রার্থী।

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে ভোট দিলেন দেলোয়ার হোসেন (পুরো বক্তব্য) 

ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচন আজ সকাল ৮টা থেকে শুরু হয়েছে। আমি মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসেন, ১১-দলীয় ঐক্যের দাঁড়িপাল্লা প্রতীক নিয়ে এখানে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছি। ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের এই আদর্শ স্কুলে আমি ভোটার। আলহামদুলিল্লাহ, আমি আমার ভোট এখানে প্রদান করলাম।

আমি আপনাদের মাধ্যমে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের আমার সকল ভোটার ভাই ও বোনদের অনুরোধ করব, ভয়ভীতির ঊর্ধ্বে উঠে স্বতঃস্ফূর্তভাবে সবাই সাহসিকতার সঙ্গে ভোটকেন্দ্রে আসুন। আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তাঁকে নির্বাচিত করে আগামী দিনের স্বপ্নের ঠাকুরগাঁও গড়ার ক্ষেত্রে আপনার ভূমিকা রাখুন।

আমি আজ ভোট দিতে এসে দেখছি, এখন তো কেবলমাত্র ভোট শুরু হলো। এখনই পরিবেশ সম্পর্কে বলার মতো কোনো অবস্থা আসেনি। আরেকটু সময় গেলে আমরা বুঝতে পারব, আসলে কী অবস্থা।

কিন্তু এখানে এসে প্রথমেই যে বিষয়টি আমার কাছে উদ্বেগজনক মনে হয়েছে, তা হলো, এখানে যিনি প্রিসাইডিং অফিসার, তাঁর গলায় যে কার্ডটি রয়েছে, সেই কার্ডে কোনো ছবি নেই। যতটুকু এখানে শুনলাম, সরকারি প্রিসাইডিং অফিসার যাঁরা আছেন, তাঁদের গলায় যে কার্ডটি আছে, সেখানেও কোনো ছবি নেই।

এখন যিনি এখানে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁর যদি ছবি না থাকে, তাহলে কীভাবে বুঝব যে উনি সেই ব্যক্তি? অন্য ব্যক্তি তো এখানে প্রক্সি দিতে পারেন। এটি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা এর মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তাকে আপনাদের মাধ্যমে জানাতে চাই। বিষয়টি খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে দেখার অনুরোধ রইল।

আসলে একটি নির্বাচন সুষ্ঠু হবে, নিরপেক্ষ হবে, তা পুরোপুরি নির্ভর করছে—যেহেতু দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনটি হচ্ছে—সরকার, নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন এবং প্রশাসনের ওপর।

যদি সরকার, প্রশাসন এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, সবাই মিলে আন্তরিক হন যে তাঁরা আসলে একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন, তবেই কেবল সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সম্ভব।

আমরা এখন পর্যন্ত আশাবাদী যে গতকাল পর্যন্ত যা হয়েছে, যত অভিযোগ ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে, আজকের দিনটাতে অন্তত প্রশাসন, সরকার এবং নির্বাচন পরিচালনার দায়িত্বে যাঁরা আছেন, তাঁরা সবাই মিলে জনগণের মতামতকে প্রাধান্য দিয়ে একটি সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন উপহার দেবেন। তাঁদের প্রতি এই প্রত্যাশা রইল।

অন্যথায়, যদি তাঁরা এটি করতে ব্যর্থ হন, তাহলে দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন নিয়ে জনগণের মধ্যে আগামী দিনে যে ধারণা তৈরি হবে, তাতে স্থানীয় নির্বাচন থেকে শুরু করে সব নির্বাচনই জনগণের কাছে আর কোনো গ্রহণযোগ্যতা পাবে না। নির্বাচন সম্পর্কে মানুষের আগ্রহও হারিয়ে যাবে, যেটি ৫ আগস্টের পূর্বে মানুষের মধ্যে তৈরি হওয়া ধারণার মতোই পরিস্থিতি তৈরি করতে পারে।

আমরা গতকাল একটি ঘটনা আপনাদের জানাতে চাই, যেটি খুবই উদ্বেগজনক। বিএনপি দলের নেতাকর্মীরা রাজাগাঁও ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডে তাঁদের একজন কর্মীকে বোরকা পরিয়ে গভীর রাতে বের করে দিয়েছেন। তাঁরাই নাটক সাজিয়ে তাঁকে ধরেছেন, তাঁকে দিয়ে বিভিন্ন ধরনের ভিডিও করিয়েছেন, একটি নাটক সাজিয়েছেন। কিন্তু তাঁকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেননি।

আশ্চর্যের ব্যাপার হলো, একটি দল কতটা নাটক করলে পরে এমন ঘটনা ঘটে যে নিজেদের দলের একজনকে বোরকা পরিয়ে বাইরে বের করে দিয়ে তাঁকে আবার ভোট চাওয়ার অভিনয় করানো হচ্ছে, এরপর তাঁকেই ধরা হচ্ছে। তাঁকে নিয়ে নানাভাবে এমনভাবে ভিডিও করা হচ্ছে, যেমন টিকটক করা হয়। ঠিক এ রকমই, তাঁকে নিয়ে ভিডিও করছেন, আনন্দ-উল্লাস করছেন।

এটি খুবই উদ্বেগজনক। এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত সাপেক্ষে যারা এই কাজের সঙ্গে জড়িত, দ্রুত সময়ের মধ্যে তাদের আইনের আওতায় এনে জনগণের মধ্যে নির্বাচন সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ ধারণা তৈরি করা দরকার।

সবাইকে ধন্যবাদ।

আমি আশাবাদী, আজকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে ইনশাআল্লাহ, আমি এই ঠাকুরগাঁও-১ আসনে বিপুল ভোটে বিজয় অর্জন করব বলে শতভাগ আশাবাদী। ইনশাআল্লাহ।

আরো খবর,


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url