কারামুক্তির পর মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

কারামুক্তির পর মেজর আখতারুজ্জামানকে নিয়ে কথা বলছেন জামায়াত আমির শফিকুর রহমান

দীর্ঘদিন কারাভোগের পর আজ ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে মুক্তি পেয়েছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। ৩ নভেম্বর ২০২৬, মঙ্গলবার রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে তাঁকে স্বাগত জানান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানসহ দলের নেতাকর্মীরা।

এ সময় মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের বিমানবন্দরের যাত্রীসেবা নিয়ে প্রতিবাদ, তাঁর গ্রেপ্তার ও কারাবাস, প্রবাসীদের ভূমিকা এবং বিমানবন্দরের সেবার পরিবর্তন নিয়ে কথা বলেন ডা. শফিকুর রহমান। পাশাপাশি তিনি জনগণের অধিকার, বিরোধী দলের ভূমিকা, রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং প্রতিবাদী কণ্ঠের স্বাধীনতা নিয়েও বক্তব্য দেন। 

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের কারাবাসের অভিজ্ঞতা, তাঁর প্রতিবাদের প্রভাব এবং ভবিষ্যতে জনগণের অধিকার আদায়ের আন্দোলন অব্যাহত রাখার অঙ্গীকার।

কারামুক্তির পর মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের সঙ্গে সাক্ষাৎ ও তাঁর প্রতিবাদ, কারাবাস এবং জনগণের অধিকার নিয়ে যা বললেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।

মেজর অব আখতারুজ্জামান কে সঙ্গে নিয়ে যে বক্তব্য দিলেন জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান 

একজন যাত্রী যদি বিমানবন্দরে নামার পর তিন ঘণ্টা তাকে তার লাগেজ পাওয়ার জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তারপর লাগেজের এক অংশ আসে, আরেক অংশ আসে না, তখন যদি বলা হয়, আবার ধমক দেওয়ার পরে যদি সরি বলে যে, না, ওইটাও আসছে, দিচ্ছি, তাহলে মেজাজ কার ঠিক থাকে? তিনি কারও গায়ে হাত দেননি। কিন্তু তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা চাপানো হলো যে, তিনি সরকারি কাজে বাধা দিয়েছেন এবং সরকারি কর্মকর্তার গায়ে হাত দিয়েছেন, যা ছিল সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা এর প্রতিবাদ তখনই করেছি, যখন আমরা শুনলাম তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।

তিনি যথার্থই বলেছেন। আমি তাকে বললাম, আমরা এন্টিসিপেটরি বেইলের কোনো চেষ্টা করব কি না। তিনি বললেন, আমি কোনো অন্যায় করিনি যে আমি আত্মসমর্পণ করব। যদি কোনো মামলা দেয়, আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে। কিন্তু আমি আত্মসমর্পণ করব না। তার মনোবল দেখে আমি সত্যিই আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করে বললাম, আপনি শক্ত আছেন, শক্ত থাকেন। আল্লাহ আপনাকে সাহায্য করবেন, ইনশাআল্লাহ।

ইনশাআল্লাহ।

এরপরের ইতিহাস তিনি আপনাদের কাছ থেকে নিয়েছেন। সেই দিনের ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে দুজন কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। যদি তাদের কোনো অপরাধ না থাকে, তাহলে দুজনকে বরখাস্ত করল কেন?

তিনি ট্রলি নিয়ে কথা বলেছিলেন। বলেছিলেন, এখানে এসে ট্রলিকে লটারির মতো টানতে হবে। কেউ পায়, কেউ পায় না। টানাটানি করে একটি ট্রলি তিনজন যাত্রী ব্যবহার করবেন, এটা হবে কেন? ইতিমধ্যে দেখেছেন, দুই দফায় ৩০০টি ট্রলি নতুন করে সংযুক্ত হয়েছে। তাহলে এটাও মেনে নিয়েছে যে, সেখানে দুর্বলতা ছিল।

এরপর ব্যাগ কাটা, লাগেজ চুরি করা—সেই ব্যাপারেও তিনি কথা বলেছেন। এখন দেখা গেল, বডি ক্যামেরা ফিট করা হয়েছে। যারা গ্রাউন্ড হ্যান্ডলিংয়ের কাজ করবেন, তাদের সবার শরীরে এখন বডি ক্যামেরা আছে। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এখন ১৫-২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ পাওয়া যায়।

ধন্যবাদ, জনাব মেজর আখতারুজ্জামান। আপনার প্রতিবাদ শতভাগ কাজে লেগেছে, কাজ দিচ্ছে। এর ফল এখন যুগ যুগ ধরে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে যারা ভোগান্তির শিকার হয়েছেন, সেই সমস্ত যাত্রী এখন স্বস্তি পাচ্ছেন। বিশেষ করে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা।

এজন্য আপনি জানেন না, আপনি তো জেলে ছিলেন। আপনি জেলে যাওয়ার পরে শুধু দেশের মানুষই এই অন্যায়ের প্রতিবাদ করেনি, প্রবাস থেকেও জায়গায় জায়গায় মিটিং করে, মিছিল করে, এমনকি দূতাবাস ঘেরাও করে আপনার এই অন্যায় গ্রেপ্তারের প্রতিবাদ জানিয়েছে প্রবাসীরা।

তিনি প্রবাসীদের জন্য কথা বলেছেন। তিনি সাধারণ যাত্রীদের জন্য কথা বলেছেন। এখন যেটুকু এখানে স্বস্তি ফিরে এসেছে, এটা আল্লাহর মেহেরবানি এবং তাঁর প্রতিবাদের ফসল।

আবারও আমরা তাঁকে ধন্যবাদ জানাই।

জেল তো বহু খেটেছি, অনেক প্রতিবাদও করেছি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে রেজাল্ট পাইনি। আপনি পেয়ে গেছেন।

আরও লম্বা সময় জেলে ছিলাম। না, রেজাল্ট পাইনি। কিন্তু এক মাসের বিনিময়ে আপনাকে একটা বাঘের কণ্ঠকে খাঁচায় ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়েছিল।

কিন্তু খাঁচায় কত দিন বন্দি রাখবেন? রাখতে পারেননি, পারবেনও না। লজ্জা! মামলা দিয়েছেন মিথ্যা, একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার বিরুদ্ধে। তারপরে নিলেন রিমান্ডে। এটা আরেকটা লজ্জা। তারপরে বেসলেস এই মামলায় নিম্ন আদালতে তাঁকে চোখ বেঁধে উঠানো হলো। মাথায় হেলমেট পরানো হলো। বুকে সেফটি বেল্ট পরানো হলো। সবগুলোই লজ্জা।

এরপর সাহস করল না এখান থেকে জামিন দেওয়ার। হাইকোর্ট পর্যন্ত যাওয়া হলো। আবার কাপুরুষের মতো চেম্বার জজে টেনে নেওয়া হলো। এসবই লজ্জা। ঘাটে ঘাটে লজ্জা, মহালজ্জা! কিন্তু যাদের লজ্জা থাকার কথা, তাদের তো লজ্জা লাগে না। যার গায়ে কাপড় নেই, তাকে দেখে সম্ভ্রমশীল মানুষ লজ্জা পায়। কিন্তু যার গায়ে কাপড় নেই, তার কোনো লজ্জা নেই। সে লজ্জা পায় না। লজ্জা কবে আসবে? লজ্জা কি নির্বাসনে থাকবে? লজ্জা আসা উচিত।

আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, আমাদের একজন সহযোদ্ধা আপনাদের অধিকারের জন্য, দেশবাসীর অধিকারের জন্য, প্রবাসীদের অধিকারের জন্য যেভাবে লড়াই করে কারাবরণ করেছিলেন এবং তিনি বলেছিলেন যে, আমি আত্মসমর্পণ করব না, আমাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যাবে—আমরা কথা দিচ্ছি, জনগণের প্রত্যেকটি অধিকার আদায়ের জন্য সমানভাবে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি, চালিয়ে যাব।

যতদিন পর্যন্ত জনগণের অধিকার জনগণের হাতে ফিরে না যাবে, আমাদের লড়াই ততদিন চলবে।

ইনশাআল্লাহ।

আমাদের প্রিয় সহকর্মী, সম্মানিত সহকর্মী প্রমাণ করেছেন যে, আমরা কোনো রক্তচক্ষুকে ভয় পাই না।

এটাই আমাদের সবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে, ইনশাআল্লাহ।

ইনশাআল্লাহ।

ভয় পাই শুধু আল্লাহ তাআলাকে।

বিপুল বাংলাদেশে পাহাড়সম ব্যর্থতা, অযোগ্যতা ও অদক্ষতা চাপা দেওয়ার জন্য এখন বিরোধী দলকে অপপ্রচারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে।

কিন্তু মনে রাখবেন, যে সাপ আপনারা নাচাচ্ছেন, সেই সাপই একদিন ছোবল দেবে। ছোবল দিয়ে সাপ কিন্তু পালিয়ে যাবে। আপনাদের মৃতদেহ পড়ে থাকবে।

আমরা সংসদের ভেতরে বলেছি, এই বসন্তের কোকিল, যারা এসেছে কুহু কুহু করতে, বসন্তকাল পরে ওদের আর দেখা পাবেন না।

আপনাদের যখন গ্রীষ্মকাল কিংবা বর্ষাকাল আসবে, তখন এদের আর খুঁজে পাবেন না। আপনাদের ফেলে রেখে ওরা পালিয়ে যাবে। আমরা সাবধান করে দিচ্ছি।

বিরোধী দলের চরিত্রহনন বাদ দিয়ে আপনাদের ব্যর্থতার সমাধানের চেষ্টা করুন। যদি তা করেন, যদি মানুষের দুঃখ-দুর্দশা দূর হয়, মানুষ আপনাদের সমর্থন করবে।

আর যদি মনে করেন যে অতীতের মতো স্বৈরাচারী কায়দায় প্রতিবাদী কণ্ঠকে দমিয়ে দেবেন, স্তব্ধ করে দেবেন, তাহলে আপনাদের জন্য দুঃসংবাদ দিচ্ছি—এটি বাংলাদেশে আর হবে না।

ইনশাআল্লাহ।

এই জনগণ আর ফ্যাসিবাদকে কখনো কবুল করে নেবে না। ফ্যাসিবাদের কাছে আর মাথা নত করবে না।

সংগবদ্ধ জনবল রুখে দাঁড়িয়েছে, রুখে দাঁড়াবে এবং দিন দিন এর গতি বৃদ্ধি পাবে। একটা জায়গায় গিয়ে এর পূর্ণ সমাধান হবে, ইনশাআল্লাহ।

ইনশাআল্লাহ।

কষ্ট করে সবাই এসেছেন। ধন্যবাদ। আবারও মেজর আখতারুজ্জামান সাহেব গ্রেপ্তার হওয়ার পরে সারা দেশবাসী যেভাবে সহানুভূতি, সমর্থন ও ভালোবাসা প্রকাশ করেছেন, আমি তাঁর এবং আমাদের দলের পক্ষ থেকে প্রিয় দেশবাসীকে আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও মোবারকবাদ জানাচ্ছি।

বিশেষ করে প্রবাসী ভাই-বোনেরা বেশি করেছেন। তাঁদের প্রতি বিশেষভাবে আমি কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।

আমরা আছি, প্রবাসী ভাই-বোনেরা, আমরা আছি। দেশবাসী, আপনাদের সঙ্গে, আপনাদের পাশে আমরা থাকব। আমরা লড়ে যাব। সত্যের জয় হবে, ইনশাআল্লাহ। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহ।

আরো খবর পড়ুন, 

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url