কারামুক্তির পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে যা বললেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

কারামুক্তির পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করছেন মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান

কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়ার পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও সাবেক সংসদ সদস্য মেজর (অব.) আখতারুজ্জামান। এ সময় তিনি নিজের গ্রেপ্তার, ডিবি পুলিশের বাসায় যাওয়া, মামলার প্রেক্ষাপট এবং জামায়াতে যোগদান নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্নের বিষয়ে বিস্তারিত কথা বলেন। 

সাক্ষাৎকালে নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরতে গিয়ে তিনি ডিবি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন এবং গ্রেপ্তারের সময়কার পরিস্থিতি বর্ণনা করেন। তাঁর বক্তব্যে প্রবাসীদের প্রতি দুর্ব্যবহারের প্রতিবাদ, রাজনৈতিক অবস্থান এবং নিজের মনোবলের কথা বলেন। 

কারামুক্তির পর জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নিজের গ্রেপ্তার, ডিবি পুলিশের ভূমিকা ও রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে যা বললেন আখতারুজ্জামান।

কারামুক্তির পর আখতারুজ্জামান এর বক্তব্য 

আওয়াজ আমার সামনে গরম করার মতো বাংলাদেশে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেনি।

কাজেই আমার সামনে বড় গলায় কথা বলবেন না। বড় আমার সামনে, আল্লাহর রহমতে, বড় গলায় কথা বলার মতো বাংলাদেশে একমাত্র আমার জামায়াতের আমির ছাড়া আর কোনো মানুষ নেই।

প্রবাসী ভাইদের সঙ্গে যে দুর্ব্যবহার করা হয়, তাদের প্রতি যে অব্যবস্থাপনা করা হয় এবং তারা যে ভোগান্তি ও যন্ত্রণা ভোগ করেন, তার বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করেছি।

সরকার সেজন্য আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। আমি জনগণের কথা বলেছি, প্রতিবাদ করেছি। তার জন্য আমার বিরুদ্ধে মামলা হতে পারে। এতে আপত্তি করার কিছু নেই।

কিন্তু আমার প্রশ্ন হলো, মামলা হলো বিমানবন্দর থানায়। ঘটনা ঘটল আগের দিন সকালে। আমার মালপত্র বাড়ি পর্যন্ত পৌঁছে দিয়ে আসা হলো। তারপরে একটি মিথ্যা মামলা করা হলো।

এবং সেই মামলা করা হলো ১ তারিখ দিবাগত রাতে। সেই মামলার নথি ২ তারিখে আদালতে পেশ করা হয়েছে। সেখান থেকে আদালত বলে দিয়েছেন, তদন্ত করে ২৬ তারিখের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে হবে।

আমার প্রশ্ন হলো, কী কারণে ২ তারিখে সন্ধ্যা পাঁচটা-সাড়ে পাঁচটার সময় ডিবি আমার বাড়িতে গেল?

এখানে ডিবির কী এখতিয়ার?

আমি ভাগ্যবান। ডিবি যাওয়ার এক ঘণ্টা আগে আমার মাননীয় আমির সাহেব আমাকে ফোন করে আমার খোঁজখবর নিয়েছিলেন। উনি মামলার ব্যাপারেও খোঁজ নিয়েছিলেন।

আমি উনাকে বলেছিলাম। উনি বলেছিলেন, আপনি হাজির হয়ে যান। আমি বলেছি, রবিবার দিন দেখা যাবে। হাজির হওয়ার কিছু নেই। ধরে নিয়ে গেলে নিয়ে যাবে।

উনি আমাকে ধন্যবাদ দিলেন, সাধুবাদ জানালেন। বললেন, ঠিক আছে, আপনার মনোবল ঠিক আছে। আপনার জন্য দোয়া করবেন। আমিও বললাম, আমার জন্য দোয়া করবেন।

এক ঘণ্টার মধ্যে ডিবি আমার বাড়িতে উপস্থিত হলো। আমি ডিবিকে চ্যালেঞ্জ করলাম।

আমরা তো ভাই পানিতে ভেসে আসিনি! ডিবি, পুলিশ, মিলিটারি দিয়ে আমাদের ঠেকানোর বয়স চলে গেছে। ১৯৭১ সালেই পাকিস্তানিরা আমাদের এখানে ঠেকাতে পারেনি, আর তোমরা কী ঠেকাবে?

আর এই বয়সে এখন তো মৃত্যু একমাত্র কাম্য। আর কিছু নেই।

আমি যখন ডিবিকে চ্যালেঞ্জ করলাম, তখন বললাম, যদি ডিবি বৈধভাবে আমাকে গ্রেপ্তার করতে পারত, তাহলে আমাকে দুই ঘণ্টা সময় দিত।

আমার বাসায় দুই ঘণ্টা তারা বসে থাকল। তারপরে আমার ঘরে ঢুকল। ঢুকে দেখল, আমার অফিসের পেছনে এখনো দেশমাতা খালেদা জিয়ার ছবি টাঙানো আছে। সেই ছবি দেখে তারা তো হতভম্ব হয়ে গেল।

এরপর তাদের প্রথম প্রশ্ন ছিল, আপনি দল ছাড়লেন কেন?

আমি বললাম, এটা কি আপনার বিবেচনার বিষয়?

তারা বলল, না, আপনি তো বিএনপির বড় নেতা ছিলেন। আপনি তো তারেক রহমান সাহেবের কাছের মানুষ ছিলেন। আপনি দল ছাড়লেন কেন?

আমি বললাম, এটা কি গ্রেপ্তারের কোনো কারণ? কারণ থাকলে বলেন।

তারা বলল, না, এমনিই।

আমি মনে করলাম, এখানে হঠাৎ করে...

তারপর এই প্রশ্ন আসার কারণ কী?

তার মানে, আমার জামায়াতে যাওয়ার পেছনে সরকারের কাছে নিশ্চয়ই কোনো বিকল্প নথি আছে, কোনো বক্তব্য আছে।

কারণ আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা। আমি জামায়াতে যোগদান করেছি এবং প্রকাশ্যে অনেক কথা বলেছি।

যাই হোক, ঘণ্টা দুয়েক পরে ক্যান্টনমেন্ট থানার ওসি গেলেন। ওসি বললেন, প্রথমে আমাকে গ্রেপ্তার করতে হবে। আমাকে বললেন, ডিবিতে যেতে হবে।

আমি বললাম, আমি তো আপনার কথায় ডিবিতে যাব না। কেন যাব?

তিনি বললেন, এখানে আলোচনা করেন। হয়তো সমাধান হবে। তা না হলে আপনাকে নিয়ে যাব।

আমি বললাম, ভেরি গুড! অ্যারেস্ট করেন, অ্যারেস্ট করেন। অ্যারেস্ট করতে ওয়ারেন্ট দেখান।

দেখা তো তারপরে! খুব দাপট দেখালেন!

আমি বললাম, গরম করেন না। আওয়াজ আমার সামনে গরম করার মতো বাংলাদেশে এখনো কেউ জন্মগ্রহণ করেনি।

আপনি তো বড় বড় প্রধানমন্ত্রীর সামনে গরম দেখিয়েছেন।

আমি অনেক বড় বড় প্রধানমন্ত্রীর সামনে, রাষ্ট্রপতির সামনে, রাষ্ট্রমন্ত্রীর সামনে গরম দেখিয়েছি।

এখন তো আপনার বয়স হয়েছে। কাজেই আমার সামনে বড় গলায় কথা বলবেন না। বড় আমার সামনে, আল্লাহর রহমতে, বড় গলায় কথা বলার মতো একমাত্র আমার জামায়াতের আমির ছাড়া আর কোনো বাংলাদেশি মানুষ নেই।

কাজেই উনি চুপ হয়ে গেলেন।

কতক্ষণ বসে রইলেন। তারপরে বাইরে কোথায় কোথায় গেলেন। তিনি ফোন করলেন।

আমি বললাম, বসেন।

এর মধ্যে মাগরিবের আজান পড়ে গেল।

তিনি বললেন, নামাজ পড়তে পারি?

আমি বললাম, এখানে পড়েন।

তিনি বললেন, আমি এখানে তো পড়ি না। আমি নামাজ উপরে পড়ি।

আরো খবর,



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url