১১ দলীয় লংমার্চ থেকে জামায়াত আমিরের বক্তব্য (কুষ্টিয়া)

১১ দলীয় লংমার্চ থেকে জামায়াত আমিরের বক্তব্য (কুষ্টিয়া)

কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় জোটের লংমার্চে বক্তব্য দিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির। তাঁর বক্তব্যে উঠে এসেছে জোটের ঘোষিত সাত দফা দাবি, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, রাজনৈতিক সংস্কার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার বিষয়গুলো। তিনি বলেন, সাত দফা দাবি মেনে নেওয়া হলে নতুন করে এক দফার আন্দোলনের প্রয়োজন হবে না। 

তবে দাবি আদায় না হলে জনগণের অধিকার রক্ষায় আরও কঠোর আন্দোলনের পথে যাওয়ার ইঙ্গিত দেন তিনি। একই সঙ্গে অন্যায়ের কাছে মাথা নত না করার প্রত্যয় ব্যক্ত করে দেশবাসীকে অধিকার আদায়ের আন্দোলনে পাশে থাকার আহ্বান জানান। তাঁর কুষ্টিয়ার এই বক্তব্যে কী কী গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে, তা শুনুন সম্পূর্ণ বক্তব্যে।

এছাড়াও, কুষ্টিয়ায় ১১ দলীয় লংমার্চে জামায়াত আমিরের বক্তব্যে উঠে এসেছে সাত দফা দাবি, গণভোট, রাজনৈতিক সংস্কার ও জনগণের অধিকার আদায়ের আহ্বান।

১১ দলীয় লংমার্চ থেকে জামায়াত আমিরের বক্তব্য

যদি আল্লাহ পছন্দ করেন, তাহলে জীবন যাবে, তারপরে অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

আমরা যে সাতটি দাবি নিয়ে নেমেছি, এটি হচ্ছে বাংলাদেশের আপামর জনগণের দাবি।

আপনাদেরকে বর্তমান সরকার অপমান করেছে। আমরা তার প্রতিবাদ জানাতে এবং আপনাদের সঙ্গে একত্রিত হয়ে তার প্রতিশোধ নিতে এখানে এসেছি।

আপনারা, ৭০ শতাংশ জনগণ, আপনারা চেয়েছিলেন বাংলাদেশে একটা পরিবর্তন আসুক। রাজনীতির নোংরা ধারাকে মাটির নিচে চাপা দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠুক। আপনারা চেয়েছিলেন, ১ হাজার ৪০০-এর অধিক আমাদের সন্তান বুকের তাজা রক্ত দিয়ে, জীবন দিয়ে ফ্যাসিবাদকে হটিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ আমাদের উপহার দিয়ে গিয়েছিল।

আমরা সবাই সেই শহীদদের কথা বলি। কিন্তু আফসোসের বিষয়, আমাদের সরকার কার্যত শহীদদের সম্মান করে না। সম্মান যদি করত, তাহলে শহীদদের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নের জন্য একটি বৈষম্যহীন, মানবিক বাংলাদেশ গড়ার যে স্বপ্ন তাঁরা দেখেছিলেন, ন্যায়বিচারের যে বাংলাদেশ গড়ার স্বপ্ন দেখেছিলেন, তারই দলিল হচ্ছে আপনাদের গণভোট।

মাননীয় সাহেব বলেছেন, একটা মানল, আরেকটা মানে না। এক মায়ের জমজ দুই সন্তান হয়, দুইটাই বৈধ না হয় দুইটাই অবৈধ। গণভোট অবৈধ হয়, আর সংসদ নির্বাচনের ভোট বৈধ হয় কীভাবে? কী চমৎকার! একই গরুর গোশত হালাল, কিন্তু শিং হারাম! এই ফতোয়াই তাঁরা সংসদে দাঁড়িয়ে দিচ্ছেন, বাইরেও দিচ্ছেন।

আমরা চাইনি এমন একটা আন্দোলন বাংলাদেশের এক মাথা থেকে আরেক মাথায় ছড়িয়ে পড়ুক। আমরা চেয়েছিলাম, আপনাদের মূল্যবান ভোটে যে সংসদ গঠিত হয়েছে, অনুরূপভাবে একটি সংস্কার পরিষদও গঠন হবে এবং তারা সংসদে বসেই এর ফয়সালা করবে।

যেহেতু কায়দা করে, ইঞ্জিনিয়ারিং করে তারা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি আসন দখল করে নিয়েছে, এই জন্য তারা এখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অগ্রাহ্য করছে। আমরা স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলতে চাই, ইতিহাসে যখনই জনগণের রায়কে অগ্রাহ্য ও অপমান করা হয়েছে, তখন সংশ্লিষ্ট গোষ্ঠী থেকে দলকে করুণ পরিণতি ভোগ করতে হয়েছে।

ভালো, ভালো, মেনে নিন। আমাদের একটি দাবি, আমাদের কোনো দলীয় দাবি নয়। সবগুলোই জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবি। সাত দফা যদি মেনে নেন, এক দফার প্রয়োজন হবে না।

কিন্তু সাত দফা না মানলে এক দফা অনিবার্য হয়ে উঠবে।

সেই এক দফার ডাক আমরা দেশের স্বার্থে, জনগণের স্বার্থে, অধিকার রক্ষার স্বার্থেই দিতে বাধ্য হব।

আজকে আমরা ঢাকা থেকে মার্চ করে কুষ্টিয়ায় এসেছি। যদি ওই এক দফার প্রয়োজনে কুষ্টিয়া থেকে ঢাকা যাওয়া লাগে, আপনারা কি যাওয়ার জন্য প্রস্তুত?

টাকাপয়সা লাগবে?
খাবারদাবার লাগবে?

আমাদের কাছে কোনো বিরিয়ানি নেই। টাকাপয়সা দিতে পারব না। দেশ আমাদের সবার। এই দেশকে রক্ষা করার জন্য লড়তে হবে সবাইকে।

আমরা আপনাদের কথা দিচ্ছি, জনগণের অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে যদি আল্লাহ পছন্দ করেন, তাহলে জীবন যাবে, তারপরে অন্যায়ের কাছে আমরা মাথা নত করব না।

ইনশাআল্লাহ, জনগণের এই দাবি আদায় করেই আমরা ঘরে ফিরব। আপনারা প্রশ্ন করুন, আপনারা পারবেন? আপনাদের এক সন্তান আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে স্ট্যাটাস দিয়ে তার জীবন দিয়েছে। সেটা দিয়ে সে প্রমাণ করেছে যে সে দেশকে ভালোবাসে। আপনারাও নিশ্চয়ই দেশকে ভালোবাসেন। আমরাও দেশকে ভালোবাসি। আমরা আপনাদের জন্য রাস্তায় নেমেছি। আপনারা এদিকে আমাদের পাশে থাকবেন। দেখি, হাত তুলুন তো, কে কে থাকবেন?

সর্বাবস্থায়, অনুকূল-প্রতিকূল সামনে যা-ই আসুক, সকল আবর্জনা পরিষ্কার করে ইনশাআল্লাহ জনগণের অধিকার আদায় করে আমরা ঘরে ফিরব, ইনশাআল্লাহ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url