মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের জামিন নিয়ে যা বললেন শিশির মনির
১ নভেম্বর ২০২৬, মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুরের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির এসব কথা বলেন।
মেজর (অব.) আখতারুজ্জামানের অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট বিভাগ। জামিনের পেছনে তাঁর বয়স, মুক্তিযোদ্ধা পরিচয়, সাবেক সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন এবং মামলার অভিযোগের ধরনসহ বিভিন্ন বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁর আইনজীবী অ্যাডভোকেট শিশির মনির।
আদালতের এই আদেশ, জামিনের আইনি ভিত্তি এবং বিমানবন্দরের সাম্প্রতিক পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
আখতারুজ্জামান কে নিয়ে শিশির মনিরের ব্রিফিং
তো, মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামান সাহেবকে আজকে একটু আগে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
এই জামিনের জন্য আমাদের প্রথম কথা ছিল যে, অপরাধে যে ধারাগুলো দেওয়া হয়েছে, এগুলোর একটি বাদে বাকি সবগুলোই ছিল জামিনযোগ্য অপরাধ। আর দ্বিতীয় হলো, তাঁর বয়স ৭৩ বছর। তিনি দুইবার সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বীর মুক্তিযোদ্ধা।
এই সকল কিছু বিবেচনা করে মাননীয় হাইকোর্ট বিভাগ তাঁকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন। আমরা আশা করি, এই আদেশটি স্বল্পতম সময়ের মধ্যে আদালতের প্রক্রিয়া শেষ করে নিম্ন আদালতে যাবে এবং কারাগারে যাওয়ার পরে আমরা প্রত্যাশা করি, তিনি আইন অনুযায়ী মুক্তি পাবেন।
আর আমরা সকলেই প্রত্যাশা করি যে, বাংলাদেশের বিমানবন্দরের অবস্থা ভালো হোক, সুন্দর হোক, সকলের জন্য কল্যাণকর হোক। এবং এটা তিনিও প্রত্যাশা করেন, আমার ধারণা সরকারও প্রত্যাশা করে।
ইতোমধ্যে এটাও আমি বলেছি যে, বাংলাদেশ সরকার বিমানবন্দরকে আপডেট করার জন্য বিশেষভাবে তিনজন ম্যাজিস্ট্রেটকে দায়িত্ব দিয়েছেন, সিসিটিভি ক্যামেরা ফিট করেছেন। এখন লাগেজ ডিসপোজাল সিস্টেমে আপনারা দেখতে পাবেন, সবকিছু সিসিটিভি ক্যামেরায় সরাসরি দেখা যায়, একজন কাস্টমার সেটা দেখতে পান।
সুতরাং এখানে এত বেশি পক্ষ-বিপক্ষের কিছু নেই। উনি প্রায় এক মাস সময় জেল খেটেছেন। আর আজকে যে বিবেচনায় জামিন মঞ্জুর করেছেন, এগুলোই আসলে জামিন মঞ্জুর করার ক্ষেত্রে ফৌজদারি কার্যবিধির ৪৯৭ ধারার মূল বিষয়বস্তু। এই সমস্ত কারণে জামিন মঞ্জুর করা যায়। এই জন্য আদালত মঞ্জুর করেছেন।
আমরা মনে করি, এটা রাষ্ট্রের জন্য, দেশের জন্য ভালো মেসেজ, ভালো বয়ান।
রাষ্ট্রপক্ষ বিরোধিতা করেছেন এবং তাঁরা মামলার যে এফআইআরটি আছে, সেটি পড়ে শুনিয়েছেন এবং বলেছেন যে, এখানে অ্যাসল্টের গ্রাউন্ড আছে। কিন্তু বাস্তবিক অর্থে আমরা তো ঘটনাটুকু সবাই সিসিটিভি ক্যামেরায় কিংবা ফেসবুকে দেখেছেন, আমরাও দেখেছি। সুতরাং এখানে বাক্য বিনিময় হয়েছে, উত্তপ্ত কথা বিনিময় হয়েছে। এর বাইরে অন্য কোনো কিছু আমরা কেউ স্বচক্ষে দেখিনি।
এই জন্য আদালত এসবকিছু বিবেচনায় একজন অলমোস্ট মুরুব্বি মানুষকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
মেজর অবসরপ্রাপ্ত আখতারুজ্জামানকে আজকে আমাদের হাইকোর্ট বিভাগ শুনানি অন্তে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন মঞ্জুর করেছেন।
সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আরো খবর,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url