সংবিধান সংশোধনে সর্বোচ্চ অর্জন চাই, তত্ত্বাবধায়ক সরকার নিয়ে বিরোধীদের সঙ্গে ঐকমত্যের আহ্বান আসিফ নজরুলের

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের নবম বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল এর বক্তব্য

আসিফ নজরুল সংবিধান সংশোধনে সর্বোচ্চ অর্জনের প্রত্যাশা জানিয়েছেন। তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতায় ঐকমত্যের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।

জাতীয় সংসদে সংবিধান সংশোধনের নবম বৈঠক শেষে আসিফ নজরুল এর বক্তব্য 

সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটিতে অত্যন্ত সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনা হয়েছে। জনাব সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটির সদস্যরা সবাইকে কথা বলার সুযোগ দিচ্ছেন। সবাই স্বাধীনভাবে নিজেদের মতামত তুলে ধরছেন।

প্রধানত যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোকে ক্ষমতায়িত করা এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগপদ্ধতি। এ ছাড়া তত্ত্বাবধায়ক সরকার কীভাবে গঠন করা হবে, নির্বাচনব্যবস্থা এবং সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদ নিয়েও আলোচনা হয়েছে।

একটি বিষয় আলোচনায় এসেছে যে, এই কমিটির সভা জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপটে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। বিষয়টি আমাদের মনে রাখতে হবে। আমি নিজেও বলেছি, আওয়ামী লীগ আমলে সম্ভবত ২০১১ সালে সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের নেতৃত্বে গঠিত সংসদীয় সংবিধান সংশোধন কমিটির সভায় আমাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। সেখানে আমি বক্তব্য দিয়েছিলাম।

আমরা তখন অনেক প্রত্যাশা নিয়ে গিয়েছিলাম। কিন্তু পরবর্তী সময়ে হতাশ হয়েছি। শেষ পর্যন্ত পঞ্চদশ সংশোধনী পাস হয়েছে, যা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়েছে। তাই এবার সংবিধান সংশোধন কমিটির কাছে আমাদের প্রত্যাশা আরও বেশি। গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা যেন সবার মনে থাকে, আমি সেই আহ্বান জানিয়েছি।

বিশেষ করে, আমি আইনের মানুষ হিসেবে বিচার বিভাগের স্বাধীনতার বিষয়টি তুলে ধরেছি। সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ আইন এবং সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় আইন বাদ দেওয়ায় ব্যক্তিগতভাবে হতাশা প্রকাশ করেছি। একই সঙ্গে স্মরণ করিয়ে দিয়েছি, বিএনপির নিজস্ব অঙ্গীকারেও এসব উদ্যোগের পক্ষে অবস্থান ছিল।

এ সময় মাননীয় আইনমন্ত্রী আমাকে বলেছেন, তাঁরা এ বিষয়ে আইন করবেন। যদিও পরে বিষয়গুলো বাদ দেওয়া হয়েছে, তবে একেবারে সম্পূর্ণভাবে পরিত্যাগ করা হয়েছে—বিষয়টি এমন নয় বলে জানানো হয়েছে।

সংসদের স্থায়ী কমিটিগুলোর বিষয়ে আমি অনুরোধ করেছি, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি কমিটির সভাপতি হিসেবে যেন বিরোধী দলের সদস্যদের রাখা হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো উত্তর পাইনি।

আরও বলেছি, স্থায়ী কমিটিগুলো যেন যথাযথভাবে কাজ করতে পারে, সে জন্য সংবিধানের ৭৬ অনুচ্ছেদে যে আইন প্রণয়নের কথা রয়েছে, তা বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, তাঁরা আইনটি করবেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার প্রসঙ্গে বলেছি, এটি অত্যন্ত বিতর্কিত একটি বিষয়। জুলাই সনদে আমি দেখেছি, এ বিষয়ে নয়টি পদ্ধতির কথা রয়েছে। এর মধ্যে আটটি বিষয়ে সব রাজনৈতিক দল একমত। মাত্র একটি বিষয়ে মতভেদ রয়েছে। এটি এমন কোনো বড় সমস্যা নয় যে ঐকমত্যে পৌঁছানো যাবে না।

আমি বলেছি, অন্তত এ বিষয়ে বিরোধী দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত। আমি নিজেসহ বিরোধী দলের আরও কয়েকজন সদস্যকে আলোচনার প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানিয়েছি। সরকারের পক্ষ থেকে এবং কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এ জন্য তাঁরা বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেছেন। বিষয়টি তাঁরা বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেছেন।

আমরা আশা করব, বর্তমান সংবিধানের তুলনায় আরও উন্নত একটি সংবিধান পাব। যতটুকু অর্জন হবে, সেটিই আমাদের লাভ। তবে আমরা চাই, সর্বোচ্চ অর্জন নিশ্চিত হোক।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় আমরা কী চেয়েছিলাম, তা আইনের বিষয়গুলো পর্যালোচনা করলেই বোঝা যাবে। এখন সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন করা হবে, নাকি সংবিধান সংশোধন কমিটির মাধ্যমে কাজ হবে—এ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। আমি এই বিতর্কে যেতে চাই না।

তবে ব্যক্তিগতভাবে মনে করি, সংবিধানে যেকোনো ইতিবাচক পরিবর্তনই একধরনের সংস্কার। শেষ পর্যন্ত আমরা আমাদের লক্ষ্য অর্জন করতে পারছি কি না, সেটিই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কী প্রক্রিয়ায় কাজটি করা হলো, তার চেয়ে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্য অর্জন বেশি গুরুত্বপূর্ণ বলে আমি মনে করি। এটি আমার ব্যক্তিগত অভিমত। তবে এ ধরনের বিরোধ কাম্য নয়।

আরো গল্প,

১. সংবিধান সংশোধন কমিটির নবম বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের পুরো বক্তব্য


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url