সংবিধান সংশোধন নয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি শফিকুর রহমানের
জাতীয় প্রেসক্লাবে বক্তব্যে সংবিধান সংশোধন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন ও সরকারের সমালোচনা করেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান।
এছাড়াও, এই বক্তব্যে সংবিধান সংশোধন নয়, গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি জানান শফিকুর রহমান।
জাতীয় প্রেসক্লাবের জামায়াত আমির শফিকুর রহমান এর পুরো বক্তব্য
এখন ইনিয়ে বিনিয়ে বলতেছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি তৈরি করেছি। আসেন, এখানে কথা বলেন। যদি নোট অব ডিসেন্ট থেকে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে হয়, তাইলে আমাদের সাথে এই কমিটিতে এসে বসতে হবে। আমি জানতে চাই, আপনারা ৭০ ভাগ জনগণের সাথে ধাপ্পাবাজি করেছেন। আপনারা কি চান যে বিরোধী দলেও ধাপ্পাবাজি করুক?
যার গায়ে কাপড়চোপড় নাই, সে বলতেছে, “ওই দেখ, ওই দেখ, ওর গায়ে কোনো জামা নাই!”
সংবিধান এত সাড়ে বছর সরকারের সদয় অনুমতি নিয়ে কিছু মিটিং আর মিছিল করেছেন। কিন্তু ফ্যাসিবাদকে তো তাড়াতে পারেননি। আমরাও পারি নাই, আপনারাও পারেন নাই। দীর্ঘ সাত মাসের অধিক সময়, দিনের পর দিন, ঘণ্টার পর ঘণ্টা দিবা-রাত্রি আলোচনা করে বেশিরভাগ বিষয়ে একমত হয়। অল্প কিছু বিষয় ছাড়া একটা সনদ তৈরি হয়। এই সমঝোতা বাস্তবায়ন করার অঙ্গীকার সকলেরই ছিল। এরই ভিত্তিতে ২০২৫-এর ১৭ অক্টোবর এই অংশীজনেরা সবাই স্বাক্ষর করেন। এনসিপি তখন করে নাই। কিন্তু পরবর্তী পর্যায়ে এনসিপিও করেছে।
ইতিমধ্যে আপনারা শুনেছেন যে একই দিনে দুটো ভোট হয়েছে। আমরা কিন্তু একই দিনে চাইনি। আমাদের স্পষ্ট দাবি ছিল, আগে গণভোট হবে। তারপরে সংসদ নির্বাচন হবে। আমাদের আশঙ্কা ছিল, দুইটাকে একসাথে অনুষ্ঠিত করলে দুইটাকে গুলিয়ে ফেলা হবে। শেষ পর্যন্ত আমাদের আশঙ্কাই সত্য বলে প্রমাণিত হলো। তারা মূল থেকেই চাতুর্যের আশ্রয় নিয়েছে। বিএনপির দাবি ছিল একই দিনে হোক। অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই অযৌক্তিক দাবিকে মেনে নিয়ে একই দিনে ভোট করল, ব্যবস্থা করল। তারা এটাকে অভিনন্দন জানালো। অন্তত একবার হলেও বর্তমান প্রধানমন্ত্রী গণভোটে হ্যাঁর পক্ষে ভোট চাইলেন। আর আমরা তো চাইলামই। জনগণ জানে এবং বলে, বিএনপি আসলে গণভোটে হ্যাঁ দেয়নি।
তারা দেশে-বিদেশে ইনস্ট্রাকশন দিয়েছিল তাদের লোকদেরকে না-ভোট দেওয়ার জন্য।
জনগণের আকাঙ্ক্ষার কাছে না বেচতে গেছে। ৭০ ভাগ মানুষ হ্যাঁ-ভোট দিয়েছে।
দেশের জনগণ জানিয়ে দিয়েছে, আমরা অতীতের গুনে ধরা, বস্তাপচা রাজনীতি এ দেশে আর দেখতে চাই না।
আমরা তার পরিবর্তন চাই, সংস্কার চাই। আর আমাদের সন্তানেরা এই জন্য জীবনও দিয়েছে। তারা বলেছিল, “উই ওয়ান্ট জাস্টিস।” তারা বলেছিল, বৈষম্যের বাংলাদেশ আর দেখতে চাই না। কিন্তু জাস্টিসও এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি। বৈষম্য আরও বেড়ে চলেছে।
আমার প্রশ্ন, আপনারা এখন সংবিধান খোঁজেন কেন? সংবিধান খুঁজে তো সাড়ে বছর সরকারের সদয় অনুমতি নিয়ে কিছু মিটিং আর মিছিল করেছেন, কিন্তু ফ্যাসিবাদকে তো তাড়াতে পারেননি। আমরাও পারি নাই, আপনারাও পারেন নাই।
এটা রিয়েলিটি। ২০২৪-এর নির্বাচন হয়ে গেল, জেলে ছিলাম। বিএনপিরও সিনিয়র নেতৃবৃন্দ অনেকেই জেলে ছিলেন। একসাথে ছিলাম অনেকের সাথে। ৪১ সালের পরিকল্পনা তখন দেখা হচ্ছিল, ছিল যে এর আগে শেখ হাসিনাকে বিদায় দেওয়া সম্ভব না। আমি বললাম, যদিও অতদিন না আছে। বলে যে না, তারপরে তার উত্তরসূরি সেই পতাকা বহন করুক, আমাদেরকে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে আগাতে হবে। সেটা তো বিএনপির বন্ধুদের মুখে জেলে বসে বসে শুনেছি।
বলেছিলাম কেন? আল্লাহর ইচ্ছায় কি পরিবর্তন হতে পারে না? কয়, পরিবর্তনের জন্য অনেক চেষ্টাই তো করলাম। কাজে তো লাগলো না।
কথা আসছে, নেতৃবৃন্দ ক্ষমতায় গিয়ে অতীত সব ভুলে গেলে! সংবিধান মেনে তো আন্দোলন হয়েছে, মিছিল হয়েছে, মিটিং হয়েছে, অনুমতি নিয়ে। যদিও আমাদেরকে কোনো অনুমতি সরকার দেয়নি, দিতে চায়নি। সাড়ে বছরে মাত্র দুটি মিটিং করার সৌভাগ্য আমাদের হয়েছিল। তাও আমাদেরকে বাকাদা কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। ২০২৩-এর ২৮ অক্টোবর যে মিটিংটা হয়েছিল, সেখানে আমরা জানিয়ে দিয়েছিলাম, অনুমতি না দিলেও আমরা মিটিং করব।
সম্মানিত বন্ধুগণ, ওই সংবিধান মানলে আমি বারবার বলি যে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি কোনো নির্বাচন নাই।
ওই নির্বাচন না হলে আপনারা সরকার হন কীভাবে? আর আমরা বিরোধী দল হই কীভাবে? কিছুই তো থাকে না। সংবিধানের নেশা, এটা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। এই সংবিধান ফ্যাসিবাদের জন্মই শুধু দেয় নাই, ফ্যাসিবাদকে স্থায়ী রূপ দিতে চেয়েছিল।
যে সমস্ত জায়গায় আমূল পরিবর্তন দরকার, সব জায়গায় আপনারা ডিসেন্ট দিয়ে রেখেছেন। নোট অব ডিসেন্ট। আবার নোট অব ডিসেন্ট দেন নাই, সেইগুলাও এখন আপনারা এড়িয়ে চলছেন।
এই স্বাক্ষর দক্ষিণ প্লাজায় হলো কেন? এটা গণভবনে হলো না কেন? অন্য কোনো জায়গায় হলো না কেন? এটা একটা বার্তা ছিল যে এই সংসদে বসে বসে জনগণের অধিকারকে খুন করা হয়েছে, হত্যা করা হয়েছে।
এই সংসদে বসে আগামীতেও যেন একই প্রক্রিয়া চালু না থাকে, এই জন্য এটা জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এই স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। সাধু সাবধান! কিন্তু কই, জাতির সাথে দেওয়া কথা তো রাখলেন না। এখন নিয়ে-বিনিয়ে বলতেছেন, সংবিধান সংশোধন কমিটি করেছি, আসেন এখানে কথা বলেন। যদি নোট অব ডিসেন্ট থেকে কোনো কম্প্রোমাইজ করতে হয়, তাইলে আমাদের সাথে এই কমিটিতে এসে বসতে হবে। আমি জানতে চাই, আপনারা ৭০ ভাগ জনগণের সাথে ধাপ্পাবাজি করেছেন। আপনারা কি চান যে বিরোধী দলেও ধাপ্পাবাজি করুক?
আমরা এটা মেনে নেব না। জনগণের সাথে দেওয়া ওয়াদার জায়গায় আমরা অটল এবং মহান আল্লাহর ওপর ভরসা করে বলতে পারি, এই গণভোট বাস্তবায়নে বাধ্য থাকবেন আপনারা।ইনশাআল্লাহ।
ইতিমধ্যে এখানে আইনজীবীরা কথা বলেছেন, আইন প্রণেতারা কথা বলেছেন, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ কথা বলেছেন যে এরকম বহুবার সংবিধান সংশোধন হয়েছে। কিন্তু আদালতে গিয়ে এটা পরিত্যক্ত হয়ে গেছে। আমরা ওই প্রক্রিয়ায় যেতেই চাই না। আরেকটা সংশোধন করবেন, একটা আদালত এটাকে একদম হোয়াইটওয়াশ করে দেবে। আমরা এই পণ্ডশ্রমে এবং অতীতের ভুল ধারায় চলতে অভ্যস্ত নই, আমরা রাজি নই। এই জন্যই আমরা সংস্কার চাই।
প্রিয় দেশবাসী, তারা নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। আমরা নাকি পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সাথে হাত মেলাচ্ছি। নাউজুবিল্লাহ! একজন লোকের গায়ে কোনো কাপড়চোপড় নাই। আরেকজনের নাভি থেকে হাঁটু পর্যন্ত আছে। তো যার গায়ে কাপড়চোপড় নাই, সে বলতেছে, “ওই দেখো, ওই দেখো, ওর গায়ে কোনো জামা নাই!”
আপনারা নির্বাচনের সময় নিয়ে-বিনিয়ে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। এর আশা আপনারা এবং শেখ হাসিনা। শেখ হাসিনা বলেছে, “হাতে-পায়ে ধরে ভোট নিল, এখন বেইমানি করে কেন?” তার দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই জিতিয়ে দিয়েছি ভোট দিয়ে। আপনার দলের নাটোরের এমপি বলেছেন, “আমাদের এই সফলতার পেছনে আওয়ামী লীগের ভাইয়েরা।” আমি আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ দিব, আমার দল বিএনপিকে ধন্যবাদ দিতে পারছি না।
বিভিন্ন বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতাদেরকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় এবং আপনাদের দলের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় আপনারা স্থান দিচ্ছেন। তারপরে বলতেছেন, সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে। আর এইখানে ইঙ্গিত করে বলেন, আমরা নাকি অস্থিরতা সৃষ্টি করছি। সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে তো আপনি সরকারে আছেন কেন? এই টাকা ঢোকে কীভাবে? ঠেকাইতে পারেন না কেন? ওপার থেকে অস্ত্র আসে, মাদক আসে, কেন ঠেকাইতে পারেন না?
যেই সরকারের অনাকাঙ্ক্ষিত বিষয়বস্তু ঠেকানোর কোনো যোগ্যতা নাই, সেই সরকারের দেশ শাসন করার কোনো অধিকার নাই।
জনগণকে কার্ড দিবেন, দিচ্ছেন, দেন। কার্ডের হকিকত এখানে একজন বলে গেছেন আপনাদের সামনে। কয়জনকে কার্ড দিয়েছেন? কয়জনকে দিবেন? কখন দিবেন? কিন্তু এর আগে গরিব-ধনী, শিশু-আবাল, বৃদ্ধ-বনিতা সকলের ঘাড়ে আপনারা করের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন।
আপনাদের দুর্নীতির বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন।
একটার পর একটা। মানুষের জীবন এখন অতিষ্ঠ। এদিকে আবার প্রবাসে অস্থিরতার কারণে আমাদের প্রবাসী ভাই-বোনেরা দেশে ফেরত আসছেন। তাদের নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো পরিকল্পনা নাই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার কোনো পরিকল্পনা নাই।
চাঁদাবাজির জেলায় অতিষ্ঠ জনগণ এক টাকার জিনিস তিন টাকায় কিনতে বাধ্য হচ্ছে।
দুই দিন আগে দেখলাম মিডিয়াতে, পঞ্চগড়ে চারটা লাউ নাকি এক টাকায় বিক্রি হচ্ছে। চাষিরা মনের জ্বালায় এগুলো এখন খালেবিলে ফেলে দিচ্ছে, উপযুক্ত দাম না পেয়ে। রাজধানীতে আপনারা এক টাকায় কি একটা লাউ কেউ কিনতে পারেন? সুবহানাল্লাহ!
৫০ টাকা, ৬০ টাকা, ৪০ টাকা কেন? ওই চাঁদাবাজদের কারণে এই ট্যাক্স আপনাদের উপরে বসেছে।
চাঁদাবাজি বন্ধ করতে পারেন নাই, দখলদারি বন্ধ করতে পারেন নাই। রাডা মেডিকেল সেন্টার জনগণকে উন্মুক্ত সেবা দিয়ে চলছিল, বছরের পর বছর, দশকের পর দশক। সেটার উপরে আপনারা লোভ সামলাতে পারেন নাই। রাতের অন্ধকারে ওখানে হামলে পড়েছেন। ভাঙচুর করেছেন, লুটপাট করেছেন। অপরাধে এমপিকে শুধু পদত্যাগ করিয়েছে। কেন? আপনাদের হাতে আইন নাই, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নাই? এই অপরাধ যিনি করলেন, তার পদত্যাগের মাধ্যমেই সব শেষ হয়ে যাবে? তাকে আইনের আওতায় আনেননি। হোয়াইটওয়াশ দিয়ে বাহবা কুড়াতে চেয়েছেন। জনগণকে বোকা ভাববেন না। সবকিছু জনগণ বুঝে।
আপনারা পারবেন না। কারণ চাঁদা এবং দখলদারি আপনাদের কাছে এত মারাত্মক যে নিজেদের লোককেও পাথর নিক্ষেপ করে হত্যা করতে আপনারা কম্পিত হন না।
বহু জায়গায় বিএনপির লোকেরা বলে, “হায়রে আমার দল! দশকের পর দশক এই দল করলাম। এখন স্বয়ং আমার কাছেও চাঁদা চায়।” আল্লাহই জানে, সর্বোচ্চ ব্যক্তির কাছেও কোনো পাগল কোনো দিন গিয়ে উনার দলের চাঁদা চেয়ে বসে।
এভাবে একটা দেশ চলতে পারে না। এই সমস্ত পাহাড়সম ব্যর্থতা চাপা দেওয়ার জন্য বিরোধী দলকে নিয়ে-বিনিয়ে দায় চাপানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। একটা ন্যারেটিভ তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
না হয় এই সাত মাসের সরকার কিছু ভুল-ত্রুটি, গুনাহ-খাতা করে ফেলেছে। তা আপনারা এত তাড়াতাড়ি আন্দোলনে নামলেন কেন? তা আপনারা এত তাড়াতাড়ি ৭০ ভাগ মানুষের রায়কে অগ্রাহ্য করলেন কেন?
আপনারা এত তাড়াতাড়ি সমাজের সব জায়গা দখলে নিলেন কেন?
এত তাড়াতাড়ি দলীয় ক্যাডারদেরকে প্রশাসক বানিয়ে বিপন্ন মানুষের ঘাড়ের উপর চাপায়ে দিলেন কেন?
এত তাড়াতাড়ি আপনারা আপনাদের লোভ সামলাতে না পেরে জনগণকে অতিষ্ঠ করে তুললেন কেন? আইনশৃঙ্খলার এই মারাত্মক অবনতি কেন?
আসলে আমাদের সালাউদ্দিন সাহেব ওই পারদর্শী লোক, সকল মন্ত্রণালয়ের ব্যাপারে, এমনকি আইন মন্ত্রণালয়ও। শেষ পর্যন্ত দেখলাম ধর্ম মন্ত্রণালয়। কিন্তু শুধু উনার মন্ত্রণালয়টা উনি দেখার সুযোগ পান না, সুযোগ পান না।
সংসদে দাঁড়িয়ে উনার দলের একজন সিনিয়র সংসদ সদস্য বললেন, মাদক বন্ধ হবে কেমনে? মাদকের সবচেয়ে বড় চালান তো আসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বাড়ির এলাকা দিয়ে।ঠিক।
আমরা তো বলি নাই। দাদা মাথায় টুপি দিয়ে বলেছেন। রিসেন্টলি আপনারা দেখেছেন, উনার এলাকা চকরিয়ায় দিনের বেলা ৫০টা ট্রাকে ডাকাতি হয়েছে, স্পষ্ট দিবালোকে।
আপনি জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে এই ধোঁকা দেওয়ার রাস্তা পরিহার করে আপনার উপর যে দায়িত্ব, ওটার দিকে মনোযোগ দেন।ঠিক।
আর না হয় এখান থেকে সরে দাঁড়াও।
আমাদের বার্তা স্পষ্ট। আমরা আমাদের কোনো দলীয় দাবি বা ১১ দলীয় ঐক্যের কোনো দাবি নিয়ে ময়দানে নামি নাই। আমরা নেমেছি জনগণের অধিকারের দাবি নিয়ে।
প্রত্যেকটি দাবি জনগণের অধিকারের সাথে সম্পর্কিত। এই দাবি বাস্তবায়নে আমাদেরকে বিভিন্নভাবে কায়দা করে চাপ তৈরি করা হচ্ছে, যাতে আমরা এই সমস্ত কর্মসূচি বাস্তবায়ন না করি। জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সাথে। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না।
জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। এটি হবে গর্বের। আমাদের নেতৃবৃন্দ দেখিয়ে দিয়েছেন, কোনো অপশক্তির কাছে তারা মাথা নত করেন নাই। আমরাও করব।
ইনশাআল্লাহ।
তালা আজিম, আমরা জানি প্রিয় জনগণ আমাদের সাথে আছে। প্রথম লং মার্চ হলো। এর আগে ইন্ডিয়া নিয়ে অনেক হুমকি-ধমকি হয়ে গেল। বলে যে লং মার্চে জনগণের কোনো সাড়া নাই। তো যে লং মার্চে জনগণের কোনো সাড়া নাই, এটা নিয়ে এত পেরেশানি কেন আপনাদের? তাইলে এটা কোনো সাবজেক্টই হওয়ার কথা না। সাড়া আছে কি না, আসে, জনগণ তার সাক্ষী।
আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন করে যাচ্ছি। এই বিশৃঙ্খলায় আমরা বিশ্বাস করি না। মেহেরবানি করে কেউ যেন আমাদের উপর কোনো বিশৃঙ্খলা চাপায়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন।
আমরা জানি জনগণের ভালোবাসা আমাদের সাথে আছে। কারণ আমরা জনগণের জন্য লড়াই করে চলছি। এবং এই লড়াই ইনশাআল্লাহ তাআলা আজিম আমরা বিজয়ী হব।
জনগণের বিজয় হবে।
কোনো দলের নয়, কোনো ব্যক্তির নয়, কোনো গোষ্ঠীর নয়, কোনো পরিবারের নয়। এ বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ জনগণের বিজয়।
আমাদের প্রধানমন্ত্রী ১০০-১৫০ টাকায় লাঞ্চ করেন। ভাই, আরও একটু ভালো করে করেন এবং ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করে দেশটাকে সুষ্ঠুভাবে চালান।
আপনাকে তো জনগণ বলে নাই যে ১০০০ টাকার ভিতরে লাঞ্চ শেষ করতে হবে। জনগণ বলে নাই। আপনি যেটা উপযুক্ত, সেটা খান। কোনো সমস্যা নাই। পছন্দ না হয় বাসার খাবার খান। তাতেও কোনো সমস্যা নাই। কিন্তু জনগণের মুখে দুমুঠো ভাত স্বস্তিতে তুলতে দেন। শান্তিতে থাকতে দেন। আপনার লোকেরা মানুষের শান্তি কেড়ে নিয়েছে।
আমরা আপনাদেরকে আহ্বান জানাব। আগামী লং মার্চ ইনশাআল্লাহ ঢাকা থেকে খুলনা হয়ে কুষ্টিয়া গিয়ে শেষ হবে। এই লং মার্চকে ঘিরে যেন কোনো ষড়যন্ত্র করা না হয়। যদি কোনো ষড়যন্ত্র করা হয়, তাহলে মনে রাখবেন, ১৯৯৮ সালে আওয়ামী ষড়যন্ত্র মোকাবেলা করে যৌথ লং মার্চের কাফেলা কেউ কেউ সাইনবোর্ডে গিয়ে বসে পড়লেও আমরা অনড় ছিলাম যে এই কাফেলা চিটাগাং যাবে, ইনশাআল্লাহ। এবং সবকিছু মোকাবেলা করে সেদিন চিটাগাং গিয়েছিল।
আমরাও যেহেতু ন্যায়ের পথে আছি, আমরা আল্লাহ তাআলার সাহায্য পাব, ইনশাআল্লাহ। আল্লাহ তাআলার সাহায্যকে সঙ্গে করে আমরাও জনগণের জন্য আমাদের গন্তব্যে পৌঁছব। কোনো বাধা ইনশাআল্লাহ আমাদেরকে আটকাতে পারবে না।
কোনো ষড়যন্ত্র আমরা মানব না, কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে মাথা নত করব না, ইনশাআল্লাহ।
সবাই ভালো থাকবেন। আগামীর একটি মুক্ত বাংলাদেশ, মানবিক বাংলাদেশ, বৈষম্যহীন বাংলাদেশ, ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ, আমাদের যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশ গড়ার জন্য আমরা কমিটেড। আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আল্লাহতাআলা আমাদেরকে সাহায্য করুন। আসসালামু আলাইকুম ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহ।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url