আইজিপি ক্রসফায়ার নিয়ে বক্তব্যে তাকে ফকির বললেন এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ
ঢাকার মুগদায় আজ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকালে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানে উপস্থিত ছিলেন এনসিপি নেতা হাসনাত আবদুল্লাহ।
হাসনাত আবদুল্লাহ আইজিপির ক্রসফায়ার-সংক্রান্ত মন্তব্যের প্রতিবাদ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, চাঁদাবাজি, গ্যাস সংকট ও রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণ নিয়ে বক্তব্য দেন। সেখানে তিনি আইজিপি কে ফকির বলে সম্বোধন করেন।
এনসিপি নেতা হাসনাত আব্দুল্লাহ আইজিপিকে ‘ফকির’ বললেন কেন? তাঁর বক্তব্য ঘিরে বিস্তারিত জানুন এই প্রতিবেদনে।
হাসনাত আব্দুল্লাহর পুরো বক্তব্য
ফকিরের মতো আইজিপি ফকির, এই গুন্ডা ফকির!
আপনারা দেখেছেন, আজকে এই গুন্ডা বলছে, সরকার যদি অনুমতি দেয়, তাহলে তারা নাকি মানুষকে ক্রসফায়ার দিয়ে মাফ করে দিয়েছে। এই যে গুন্ডা আইজিপি, ক্রসফায়ার করে গুলি দিয়ে মানুষ মেরে ফেলতে চাচ্ছে, তারা হচ্ছে হারুনের বংশধর। আইজিপি হচ্ছে তাদের বংশধর।
বেনজীরের বংশধর।
তারা হচ্ছে বিপ্লবের বংশধর।
তাদের এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে পুলিশকে আবার কলঙ্কিত করা হচ্ছে। সারা বাংলাদেশের পুলিশ ভাইয়েরা রয়েছেন। তাঁদের অনেকের বিতর্কিত কার্যক্রমের কারণে এই পুলিশ ভাইয়েরা তাঁদের অবস্থান থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছেন। অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এই গুন্ডা আইজি ফকিরের মতো পুলিশের জন্য আজকে সমগ্র পুলিশকে কলঙ্কিত হতে হচ্ছে।
অন্য সভ্য দেশ হলে এই বক্তব্য দেওয়ার পরে এই ফকির আইজি থাকতে পারতেন না। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই আইজিপি মানুষকে হুমকি দিচ্ছেন, আবার বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশে ফিরিয়ে আনার হুমকি দিচ্ছেন। আমরা আইজিপির ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত দেখতে চাই।
এই আইজিপির ব্যাপারে যদি সরকার কোনো সিদ্ধান্ত না নেয়, তাহলে আমরা ধরে নেব, এই সরকার আবার ক্রসফায়ারের নামে খুনকে বৈধতা দেওয়ার পথেই হাঁটছে।
আমরা বাংলার মিরাজের সন্ধান চাই। বাংলার মিরাজ, যাকে গুম করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে কোস্টগার্ড রয়েছে, যারা এই গুমের সঙ্গে জড়িত, আমরা বাংলার মিরাজের সন্ধান চাই।
আমরা একই সঙ্গে সেই নারীর মুক্তি চাই, যাঁকে গতকাল গ্রেপ্তার করা হয়েছে শুধুমাত্র বিএনপিকে ভোট দেওয়া ভুল হয়েছে – এটা স্বীকার করার জন্য।
একই সঙ্গে, প্রিয় মুগদাবাসী, আমরা জানি, আপনারা রান্না শুরু করলে গ্যাসের অভাবে সেটা শেষ করতে পারেন না। গ্যাসের দাম ১,৮০০ টাকা; সেটা ২,৫০০ টাকা, ৩,০০০ টাকা দিয়ে কিনতে হয়। এই সিন্ডিকেটগুলো পরিচালিত হয় সরকারের প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতায়।
সরকার প্রত্যক্ষ পৃষ্ঠপোষকতার মধ্য দিয়ে এই সিন্ডিকেটগুলো জিইয়ে রেখেছে। সরকার বলেছিল, ক্ষমতায় আসার পরে ১৮ মাসে দেড় কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করবে। আমাদের তথ্যের মতে, সরকার ইতিমধ্যে এক কোটি কর্মসংস্থান নিশ্চিত করেছে। তবে সেটি হচ্ছে মোড়ে মোড়ে ছাগল। সরকার আর যে ৫০ লাখ কর্মসংস্থান বাকি রেখেছে, সেটাও ইতিমধ্যে এসব ঠিকাদারি কার্যক্রম এবং সিন্ডিকেটের মধ্যে পূরণ করে ফেলবে।
আমরা এই চাঁদাবাজির মধ্য দিয়ে কর্মসংস্থান চাইনি। বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজকে চায়নি। বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজি বন্ধ করতে চেয়েছে।
অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, আমরা দেখলাম, সালাউদ্দিন সাহেবের পৃষ্ঠপোষকতায় এই চাঁদাবাজি আবার বাংলাদেশে ব্যাপক আকারে বেড়ে উঠেছে।
প্রিয় মুগদাবাসী, আগামী নির্বাচনে, আমাদের আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে, এই চাঁদাবাজদের আমাদের ফেলতে হবে।
একই সঙ্গে, আপনারা নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে উপলব্ধি করেছেন, এই বিএনপি সরকারকে আপনাদের ভোট দেওয়া ভুল হয়েছে। এই বিএনপি সরকারকে ভোট দেওয়ার মধ্য দিয়ে মূলত শাহে আলমদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে। মূলত তাঁদের সন্তানদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে, তাঁদের স্ত্রীদের ক্ষমতায়িত করা হয়েছে।
আপনারা জানেন, বিএনপি সরকারের অধিকাংশ মন্ত্রী ও এমপিদের পরিবারের সদস্যদের সম্প্রতি সারের ডিলারশিপ দেওয়া হয়েছে – মন্ত্রীর ভাইকে, মন্ত্রীর স্ত্রীকে, মন্ত্রীর ছেলে-সন্তানদের।
নির্লজ্জের মতো এই সরকারে দলীয়করণ করা হচ্ছে। সেজন্য বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ, যাঁরা বিএনপির বিরুদ্ধে ভোট দিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্ত সঠিক ছিল বলে গর্বিত। একই সঙ্গে, বিএনপিকে যাঁরা ভোট দিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের সিদ্ধান্তের জন্য অনুতপ্ত। আপনাদের অনুতপ্ত হওয়াকে আমরা স্বাগত জানাই।
একই সঙ্গে, আপনাদের দরজায় আমরা দাওয়াত নিয়ে এসেছি। এই অনুতপ্ত হওয়ার, এই যে ভুল করেছেন, সেটার সংশোধনের সময় হচ্ছে আগামী সংসদ নির্বাচনে, আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে।
আপনারা জানেন, ঢাকা দক্ষিণ থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী জনগণের প্রতিনিধি হয়ে, জনগণের প্রার্থী হয়ে, জনতার মেয়র হিসেবে আপনাদের প্রতিনিধিত্ব করতে দাঁড়াবেন।
এই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীরা এই রাষ্ট্রযন্ত্র, সালাউদ্দিনের মাফিয়াতন্ত্র, সালাউদ্দিনের স্বৈরতন্ত্রের বিরুদ্ধে দাঁড়াবেন। সালাউদ্দিন যে স্বৈরতন্ত্রের দিকে যেতে যাচ্ছেন, তত্ত্বাবধায়ক সরকারকে ঘিরে নীলনকশার মধ্য দিয়ে সালাউদ্দিন চাচ্ছেন আরেকটি ২০০৭ সালের পরিস্থিতি তৈরি করতে। ২০০৬ সালে বিচারপতিদের বয়স বাড়িয়ে যেভাবে গণতন্ত্রকে কুক্ষিগত করার চেষ্টা করা হয়েছিল, সালাউদ্দিন আবার সেই পথে যাচ্ছেন।
আমাদের যে সংস্কার কমিশন, এই সংস্কার কমিশনকে তাঁরা কমিশন না রেখে সালাউদ্দিন কমিশনে রূপান্তরিত করেছেন। এই সালাউদ্দিন কমিশনের মধ্য দিয়ে আগামী যে নির্বাচনগুলো হতে যাচ্ছে, সেই নির্বাচনগুলোর স্বচ্ছতা নিয়ে আমরা প্রশ্ন তুলছি।
এই বৈরী পরিবেশে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর আবির্ভাব হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে ঢাকা দক্ষিণ থেকে জনগণের অধিকার আদায়ে তিনি নির্বাচিত হবেন। ইনশাআল্লাহ!
রাজপথ ছাড়ি নাই, ভাইয়ের ভয় নাই!
রাজপথ ছাড়ি নাই!
ইনকিলাব জিন্দাবাদ! জিন্দাবাদ!
সেজন্য প্রশাসনের কাছে আহ্বান থাকবে। প্রশাসনের আপনারা যারা রয়েছেন, পুলিশের পোশাকটা জনগণের টাকায় কেনা।
জনগণের পয়সায় কেনা।
আপনারা বিএনপির পুলিশ না।
আপনারা সালাউদ্দিনের পুলিশ না।
জনগণ যদি আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়ায়, তখন কিন্তু রুখে দাঁড়াতে পারবেন না।
সেজন্য আগামী নির্বাচনে, আল্লাহর দোহাই লাগে, এই সালাউদ্দিনের হয়ে, বিএনপির হয়ে আপনাদের কাজ করার দরকার নাই।
এনসিপির হয়ে কাজ করার দরকার নাই।
জামায়াতের হয়ে কাজ করার দরকার নাই।
এই পোশাকটা জনগণের ট্যাক্সের টাকায় কেনা। আপনারা জনগণের হয়ে কাজ করেন। জনতা আপনাদের নিরাপত্তা দেবে।
প্রিয় প্রশাসনের ভাইয়েরা, একটা সামান্য পোস্টিংয়ের জন্য, প্রমোশনের জন্য আপনারা ইসমাইল জমিনদারের কাছে ধরনা দেন। আপনারা গুলশানে ধরনা দেন। যেদিন জনতা আপনাদের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, সেদিন কিন্তু গুলশান, ধানমন্ডি কিংবা বাংলা মোটর বা মকবাজার আপনাদের বাঁচাবে না। কেবলমাত্র জনগণই আপনাদের বাঁচাতে পারে।
সেজন্য প্রশাসনের ভাইদের বলব, আপনারা বিএনপির প্রশাসন না, আপনারা এনসিপির প্রশাসন না, আপনারা জামায়াতের প্রশাসন না। আপনারা বাংলাদেশের জনগণের প্রশাসন।
সেজন্য আগামী নির্বাচনে আপনাদের কাছে আহ্বান থাকবে, স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতার মধ্য দিয়ে আপনারা যে বাংলাদেশের পক্ষে, আপনারা যে জনতার পক্ষে, সেটার প্রমাণ আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে দেবেন।
ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং করে একটা পোস্টিং, প্রমোশন পেয়ে আপনারা ডিসি থেকে ডিসি হবেন ঠিকই, কিন্তু বাংলাদেশে থাকতে পারবেন না।
যদি আপনারা স্বচ্ছতার সঙ্গে থাকেন, জবাবদিহিতার সঙ্গে থাকেন, আইনের পক্ষে থাকেন, তাহলে আমরা পরাজিত হলেও – যে দলই পরাজিত হোক না কেন – আপনাদের নিরাপত্তা জনগণই নিশ্চিত করবে।
আর ঢাকা, ঢাকা, মুগদাবাসী, আপনাদের কাছে আহ্বান জানাব। আমরা আপনাদের কাছে পয়সা নিয়ে আসব না। পয়সা নিয়ে আসার তৌফিক, সক্ষমতা আমাদের নাই।
আমরা গুন্ডা দিয়ে, হুন্ডা দিয়ে নির্বাচন জিততে আসব না। আমরা আপনাদের কাছে ভোট চাইতে আসব। বিনা পয়সায় ভোট দেবেন, বিনা পয়সায় সেবা পাবেন।
আর পয়সা দিয়ে ভোট দিলে পাঁচ বছর চাঁদা দিয়ে দিয়ে আপনাদের রক্ত নিয়ে বিএনপির খুলনা এবং লন্ডনের সেশন পাওয়ার হবে।
সেজন্য সিদ্ধান্ত নেবেন, সিদ্ধান্ত আপনাদের হাতে। আপনারা যারা রয়েছেন, আপনারা ১২ই ফেব্রুয়ারি যে ভোট দিয়েছেন, সেই ভোটের পুনরাবৃত্তি সংশোধনের সময় হচ্ছে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচন।
শিক্ষার্থীরা, যাঁরা নতুন বাংলাদেশের পক্ষে রয়েছেন, আমাদের শ্রমজীবী ভাইয়েরা, সাংবাদিক ভাইয়েরা, আমাদের ইউনিফর্ম পরা পুলিশ ভাইয়েরা – আপনাদের সবার কাছে আমাদের পক্ষ থেকে আহ্বান থাকবে, সার্বভৌমত্বের পক্ষে, বাংলাদেশের পক্ষে, মজলুমদের পক্ষে, জনতার পক্ষে আপনাদের সুচিন্তিত রায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পক্ষে আগামী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আপনারা দেবেন।
ইনশাআল্লাহ!
আপনাদের সঙ্গে সবসময় দেখা হবে রাজপথের প্রশ্নে, আপনাদের সঙ্গে সবসময় দেখা হবে অধিকারের প্রশ্নে। সে পর্যন্ত আপনারা ভালো থাকবেন, সুস্থ থাকবেন।
ইনকিলাব! ইনকিলাব!

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url