মুগদায় গণসংযোগে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বিস্ফোরক বক্তব্য, তারেক রহমান সরকারকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা
ঢাকার মুগদায় আজ ২৬ অক্টোবর ২০২৬ বিকালে নাগরিক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। এনসিপি নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী সেখানে উপস্থিত ছিলেন।
মুগদায় গণসংযোগে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বিস্ফোরক বক্তব্য, তারেক রহমান সরকারকে নিয়ে তীব্র সমালোচনা। কী ঘটেছে সেখানে পড়ুন এখনি।
মুগদায় গণসংযোগ কর্মসূচিতে গ্যাস সংকট, চাঁদাবাজি, মাদক ও পুলিশ প্রশাসন নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী। সরকারের সমালোচনাও করেন তিনি।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারীর বক্তব্য
প্রিয় সবুজবাগ ও মুগদার এমপি, ছাত্রশক্তি, যুবশক্তি, নারীশক্তি ও শ্রমিকশক্তির যাঁরা উপস্থিত হয়েছেন, আপনারা জানেন, ১২ ঘণ্টারও কম সময় আমরা পেয়েছি আজকের এই প্রোগ্রামটি আয়োজন করার জন্য। আপনারা সবাই যে স্বতঃস্ফূর্ত সাড়া দিয়েছেন, তার জন্য আমার পক্ষ থেকে আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ জানাই।
জি, আসসালামু আলাইকুম।
প্রিয় মুগদাবাসী, ঢাকা-৯ আসনের সম্মানিত নাগরিকবৃন্দ, প্রিয় দেশবাসী, যাঁরা আমাদের দেখছেন, সম্মানিত সাংবাদিক ভাইয়েরা, জাতীয় নাগরিক পার্টির সম্মানিত সহযোগীবৃন্দ, প্রশাসনের কর্মকর্তারা, বাজারের ব্যবসায়ী ভাইয়েরা এবং বিশেষত উপস্থিত মা-বোনেরা – আপনাদের সবাইকে স্বাগত জানাচ্ছি।
আমরা আজ আপনাদের কাছে এসেছি কয়েকটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে। আমাদের সঙ্গে আরও কিছু গণমাধ্যমের প্রতিনিধি উপস্থিত আছেন। তাঁদের জন্য একটু জায়গা করে দিন।
আমরা আপনাদের কাছে আজ কোনো স্লোগান দিতে আসিনি। কয়েক দিন আগে আমরা যখন অফিসে ছিলাম, তখন বিভিন্ন এলাকার নাগরিকেরা আমাদের কাছে এসেছিলেন। তাঁরা বলেছিলেন, তাঁরা খুব বিপদে আছেন। আমরা জানতে চেয়েছিলাম, তাঁদের সমস্যা কী। তাঁরা বলেছিলেন, গ্যাসের দাম বেড়েছে, সরকার গ্যাসের বিল নিচ্ছে, কিন্তু বাসায় গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না।
এই সমস্যার কথা যাঁরা আমাদের জানিয়েছেন, পরবর্তী সময়ে আমরা ঢাকার কয়েকটি এলাকায় গিয়েছি। খোঁজ নিয়ে দেখেছি, অনেক জায়গায় গ্যাসের লাইন থাকলেও সরকার গ্যাস সরবরাহ করছে না।
আমরা তাঁদের জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কীভাবে রান্না করেন? তাঁরা বললেন, ইলেকট্রিক চুলায় রান্না করেন। অথচ সরকার এমনিতেই বিদ্যুৎ-সংকটের মধ্যে রয়েছে। বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। এই জ্বালানি-সংকটের সময় সরকার যখন গ্যাস দিতে পারছে না, তখন মানুষ বাধ্য হয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহার করে রান্না করছে।
গতকাল আমরা চকবাজারে গিয়েছিলাম। সেখানে মানুষকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনারা কীভাবে রান্না করেন? তাঁরা বললেন, কাঠের চুলায় রান্না করেন। সেখানে আগুন লাগার একটি ঘটনাও ঘটেছিল। তিন দিন ধরে আগুন জ্বললেও তা নেভানো সম্ভব হয়নি বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
এরপর আরও অনেক মা-বোনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরা বলেছেন, এলপিজি গ্যাস দিয়ে রান্না করেন। আমরা জানতে চেয়েছি, তাঁরা কত টাকা দিয়ে এলপিজি গ্যাস কেনেন। কেউ বলেছেন, ৩ হাজার ৫০০ টাকা দিয়ে সিলিন্ডার কিনছেন, কেউ কিনছেন ২ হাজার ৫০০ টাকায়। অথচ সরকার নির্ধারিত দাম ১ হাজার ৮০০ টাকা বলে তাঁরা জানিয়েছেন।
এ কারণে আজ আমরা দুটি গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে এসেছি, সাংবাদিক ভাইদের দেখানোর জন্য। আমরা জনগণের কথা বলতে এসেছি। জনগণের দুঃখ-কষ্ট তুলে ধরতে এসেছি।
শেখ হাসিনা যখন আপনাদের কষ্ট দিয়েছিলেন, তখন সেই অসম্ভবকে সম্ভব করে আমরা শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে বিদায় করেছিলাম।
কিন্তু এখন তারেক রহমানের সরকার ক্ষমতায় আসার পর এমনভাবে সরকার পরিচালনা করছে, যেন সরকারকে প্রশ্ন করা যাবে না, স্পর্শ করা যাবে না, জবাবদিহির আওতায় আনা যাবে না।
সরকার সবাইকে চাকরি দেওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু এখন আমরা দেখছি, সরকার বিভিন্ন জায়গায় অটোরিকশা বন্ধ করে দিচ্ছে, ফুটপাতের দোকান উচ্ছেদ করছে। ঢাকা শহর সুন্দর করতে হবে, এটা ঠিক। কিন্তু মানুষের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থাও তো করতে হবে।
আপনি যখন মানুষের চাকরির ব্যবস্থা করতে পারবেন না, তখন মানুষ ঢাকা শহরের বিভিন্ন জায়গায় দোকান বসাবে, অটোরিকশা চালাবে। আপনি যদি কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে পারতেন, তাহলে মানুষকে এই পরিস্থিতিতে পড়তে হতো না।
সরকার মানুষকে এমন পরিস্থিতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে, যেখানে সরকারি দলের লোকজনই অটোরিকশা ও দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি করছে। আবার সরকারদলীয় এমপি বা প্রশাসনের লোকজন এসে সেই দোকান উচ্ছেদ করছে। এরপর সরকারদলীয় লোকেরা দোকানদারদের সঙ্গে যোগাযোগ করে বলছে, ‘সরকার আমাকে দোকান থেকে উঠিয়ে দিয়েছে। তুমি আমাকে টাকা দাও, আমি আবার দোকান বসিয়ে দেব।’
চক্রবৃদ্ধি হারে সুদের ব্যবসার মতো চক্রবৃদ্ধি হারে চাঁদাবাজির ব্যবসা বাংলাদেশে চালু করা হয়েছে।
আপনারা জানেন, ঢাকা সিটি করপোরেশনে একজনকে প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। কয়েক দিন আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলম প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছেন, যাঁকে প্রশাসক করা হয়েছে, তাঁকে ইনশা আল্লাহ মেয়র বানানো হবে। পরে সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করলে তিনি অন্য উত্তর দিয়েছেন।
একজন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের প্রতিমন্ত্রী প্রশাসককে মেয়র বানিয়ে দেওয়ার ঘোষণা দিচ্ছেন। গতকাল আপনারা দেখেছেন, চট্টগ্রামের মেয়রকে এক দিনের ব্যবধানে প্রশাসক বানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশে এখন এমন অবস্থা হয়েছে – যা বিএনপি, তা-ই প্রশাসক; যা প্রশাসক, তা-ই মেয়র; আর যা মেয়র, তা-ই বিএনপি। এটাই এখন বাংলাদেশের অবস্থা।
আপনারা মুগদাবাসী জানেন, এখানে আপনাদের মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল রয়েছে। এখানে টেন্ডারবাজি ছাড়া কোনো কাজ চলে না। হাসপাতালের সিন্ডিকেটের কারণে রোগীরা সুস্থ হতে পারছেন না।
মুগদাবাসীর প্রাণের দাবি ছিল একটি হাসপাতাল। হাসপাতাল হয়েছে, কিন্তু সেই হাসপাতালে সাধারণ মানুষ কতটা ভালো চিকিৎসা পাচ্ছেন, সেটিই এখন প্রশ্ন।
হাসপাতালে টেন্ডারবাজি ও বিভিন্ন সিন্ডিকেটের কারণে মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। আপনারা দেখেছেন, শেখ হাসিনার আমলে হাসপাতালে একটি কলার দাম ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত চলে গিয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছিল। এখনো সেই ব্যবস্থা জারি রয়েছে বলে আমরা মনে করি।
আমরা জানতে চাই, শেখ হাসিনা চলে গেছেন, তারেক রহমান এসেছেন। কিন্তু বাংলাদেশের কী পরিবর্তন হয়েছে?
আগে যুবলীগ চাঁদাবাজি করত, এখন যুবদল করে। আগে ছাত্রলীগ চাঁদাবাজি করত, এখন ছাত্রদল করে। তাহলে পার্থক্যটা কোথায়?
আমাকে ছয়বার রাজপথে আঘাত করা হয়েছে, ছয়বার আমার গাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে। আমার কষ্ট একটাই – আমি কেন ছাত্রদলের পক্ষে কথা বলি না?
আপনারা যদি কাল থেকে পড়াশোনা শুরু করেন, চাকরির জন্য প্রস্তুতি নেন এবং ভালো কাজ করেন, তাহলে আমরা তো আপনাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে যাব না।
আজ একটি দুঃখজনক বিষয় বলতে চাই। এখানে অনেক পুলিশ সদস্য উপস্থিত আছেন। তাঁরা সারাদিন অনেক কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের আট ঘণ্টার ডিউটির পরিবর্তে আট ঘণ্টার বেশি কাজ করানো হয়, কিন্তু সেই অনুযায়ী বেতন দেওয়া হয় না। বাংলাদেশে কনস্টেবল পদে কর্মরত পুলিশ সদস্যদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি।
শেখ হাসিনা পুলিশকে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর পরিবর্তে দলীয় বাহিনীতে পরিণত করেছিলেন। তারেক রহমানও সেই পথেই হাঁটছেন বলে আমরা মনে করি।
যেসব পুলিশ সদস্য চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত নন এবং বিভিন্ন জায়গায় কষ্ট করে দায়িত্ব পালন করছেন, তাঁদের প্রতি আমার সম্মান ও স্যালুট রয়েছে।
কিন্তু যেসব বড় পুলিশ কর্মকর্তা আগে ঘুষ, দুর্নীতি ও চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং এখনো বিভিন্ন জায়গায় রয়েছেন, তাঁরা যদি কনস্টেবলদের ওপর অত্যাচার চালান, তাহলে তা গ্রহণযোগ্য নয়।
আপনারা জানেন, পুলিশের বর্তমান আইজিপি বক্তব্য দিয়েছেন, সরকার অনুমতি দিলে তাঁরা ক্রসফায়ার চালাবেন। একসময় আপনারা দেখেছেন, র্যাবের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছিল এবং এই প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
যে সময় পুলিশের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরিয়ে আনার কথা, সেই সময় পুলিশের আইজিপি নিজেই এমন বক্তব্য দিয়েছেন, যা পুলিশ বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
যদি আবার ক্রসফায়ার চালানো হয়, তাহলে পুলিশের ওপর আবারও নিষেধাজ্ঞা আসার আশঙ্কা তৈরি হতে পারে।
আমরা কয়েক দিন আগে শুনেছিলাম, সে সময় পুলিশের অনেক গাড়ি জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। জনতা ক্ষুব্ধ হয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েছিল। এখন পুলিশের গাড়ি নেই, জনবল-সংকট রয়েছে। বিদেশি একটি সংস্থা পুলিশকে এক হাজার বা পাঁচ হাজার গাড়ি দেবে বলে আলোচনা রয়েছে—এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য আমার কাছে নেই।
পুলিশ বাহিনীর উন্নয়ন প্রয়োজন। কারণ, বাংলাদেশে যেভাবে ছাত্রদল, যুবদল ও বিএনপির লোকজনের বিরুদ্ধে ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস, দুর্নীতি ও দখলদারির অভিযোগ উঠছে, তা মোকাবিলায় একটি শক্তিশালী পুলিশ বাহিনী দরকার।
পুলিশকে এমনভাবে কাজ করতে হবে, যাতে অপরাধী যে দলেরই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা যায়। কেউ বিএনপি করলেও অপরাধ করলে তাকে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে।
আমি পুলিশের কয়েকজন সদস্যের সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁরাও বিপদে আছেন। থানায় মামলা বা অভিযোগের পর যেসব সন্ত্রাসী, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজকে বিচারের জন্য পাঠানো হয়, তাঁদের মধ্যে অনেকে বিচারপ্রক্রিয়ায় বিভিন্নভাবে ছাড়া পেয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আপনারা মুগদা এলাকায় জানেন, অলিগলিতে মাদক পাওয়া যায়। এখন আমরা দেখছি, প্রতিমন্ত্রীরাও মাদক-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে অস্ত্র হাতে নামছেন বলে অভিযোগ উঠছে।
আজ আমরা একটি পোস্ট দেখেছি। সেখানে বড় আকারের যে অস্ত্রের কথা বলা হয়েছে, সেটি ইশরাকের অস্ত্র বলে দাবি করা হয়েছে। এ বিষয়ে তাঁর কোনো বক্তব্য আছে কি না, সেটিও জানা দরকার।
ঢাকা শহর থেকে শুরু করে বিভিন্ন জায়গায় আমরা দেখছি, অস্ত্র নিয়ে মানুষ নামছে। ডাকাতদের কাছে অস্ত্র আছে, চাঁদাবাজদের কাছে অস্ত্র আছে। কে মন্ত্রী, কে এমপি, কে চাঁদাবাজ, কে ডাকাত, কে চোর আর কে সন্ত্রাসী—এসবের মধ্যে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে মনে হচ্ছে।
এসব কথা বললে তাঁদের মাথা গরম হয়ে যায়। কিন্তু আমরা মানুষের কল্যাণের জন্য আপনাদের কাছে এসেছি।
আমরা আপনাদের সঙ্গে গণসংযোগ করব, যাতে মুগদা এলাকায় মাদক বন্ধ হয়, সিন্ডিকেট বন্ধ হয় এবং ব্যবসায়ীরা নিরাপদে ব্যবসা করতে পারেন।
মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের সমস্যার সমাধান করতে হবে। এই এলাকায় মশার উপদ্রব রয়েছে। আমরা আপনাদের কাছ থেকে জেনেছি, রাতে ঘুমানো যায় না। সিটি করপোরেশনের লোকজন মশা মারার জন্য কেরোসিনজাতীয় পদার্থ ছিটিয়ে দেন, কিন্তু তাতে মশা মরে না; বরং মশার উৎপাদন আরও বেড়ে যায় বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমরা এত দিন অফিসে ছিলাম এবং সংসদে সংস্কার-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে কথা বলছিলাম। সরকার বলেছিল, সংসদে আসুন, সেখানে কথা বলুন। কিন্তু আমরা দেখেছি, সংসদে তেমন কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না। এ কারণে আমরা আবার রাজপথে আপনাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে শুরু করেছি।
এটা আমাদের সমস্যা নয়, এটা আপনাদের সমস্যা। আপনারা রাজপথে সমস্যার সমাধান করতে পারেননি বলেই আমরা আবার রাজপথে নামতে বাধ্য হয়েছি।
বিএনপি যদি চাঁদাবাজি, সন্ত্রাস ও দুর্নীতি না করত, তাহলে আমাদের নতুন করে রাজপথে নামতে হতো না।
আপনারা জানেন, এই যে সাংবাদিক ভাইয়েরা উপস্থিত আছেন, ‘আমার দেশ’ পত্রিকার সামনে ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। এই পত্রিকার সামনে কেন ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হবে? সাংবাদিকদের নিরাপত্তা কোথায়? আমরা সরকারকে এই প্রশ্ন করতে চাই।
আমরা দেখেছি, একসময় প্রথম আলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছিল। এখন আবার ‘আমার দেশ’ পত্রিকাকে পুড়িয়ে দেওয়ার পাঁয়তারা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীদের বরখাস্ত করা হচ্ছে।
একটু আগে কালবেলার একজন সাংবাদিক আমাদের জানিয়েছেন, তাঁকে দুই দিন আগে বরখাস্ত করা হয়েছে। অফিসে ছাঁটাই চলছে। সাংবাদিকদের বলা হচ্ছে, তাঁরা যেন শুধু নির্দিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রচার করেন, অন্য কারও বক্তব্য প্রচার না করেন।
এটি গণমাধ্যমের ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা এবং সাংবাদিকদের ওপর জুলুমতন্ত্র চাপিয়ে দেওয়ার শামিল।
এ কারণেই আমরা রাজপথে নেমেছি। আমরা এই অলিগলিতে ঘুরব, আপনাদের কথা শুনব। আপনারা কী সমস্যায় আছেন, সেই সমস্যার সমাধানে আমরা কী উদ্যোগ নিতে পারি, তা জানার চেষ্টা করব।
আপনারা জানেন, আপনাদের সঙ্গে জাবেদ রাসিন দিনরাত পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষ করে ঢাকা-৯ আসনের কেন্দ্রগুলোতে দখল করা হয়েছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
আমরা জানি, ঢাকা-৯ আসনের যিনি এমপি ও মন্ত্রী রয়েছেন, তিনি নিজেকে খুব ভদ্র মানুষ হিসেবে উপস্থাপন করেন। কিন্তু আমি সেটা স্বীকার করতে রাজি নই। ভেতরে কী চলে, তা আমি জানি।
এ কারণে আমরা বলব, যাঁরা ভদ্রলোকের লেবাস পরে আছেন কিংবা লেবাস ছাড়া আছেন, সবাই সাবধান হয়ে যান। সময় আসছে, জনতা আর কাউকে ছাড় দেবে না।
আপনারা দেখেছেন, মন্ত্রী-এমপিরা যখন পালিয়েছিলেন, তখন কোট গায়ে দেওয়ারও সময় পাননি। তাই যদি নিজের সম্মান ধরে রাখতে চান, তাহলে সন্ত্রাস ছাড়ুন, চাঁদাবাজি ছাড়ুন, দুর্নীতি ছাড়ুন এবং মানুষের কাছে যান।
আপনি যদি ঢাকা-৯ আসনের জনপ্রতিনিধি হন, তাহলে মানুষকে বলুন, ‘আমি আপনাদের ভোটে নির্বাচিত হয়েছি। এই এলাকার গ্যাসের সমস্যার সমাধান করব, মশার সমস্যার সমাধান করব এবং মুগদা মেডিকেলের সমস্যার সমাধান করব।’
আপনি যদি এসব সমস্যার সমাধান করতে না পারেন, তাহলে মন্ত্রিত্ব ছেড়ে চলে যান।
আমরা এখানে জাবেদের নেতৃত্বে আলাদা কমিটি গঠন করে এই কার্যক্রম চালিয়ে যেতে পারব। ভয় পাওয়ার কোনো কারণ নেই।
শেষ কথা বলার আগে আরেকটি বিষয় বলতে চাই। আপনারা একটু পরে আমাদের সঙ্গে গণসংযোগ শুরু করবেন। সাংবাদিক ভাইয়েরা এবং এলাকাবাসী, আপনারা আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন। আমরা মাত্র লড়াইয়ে নেমেছি। লড়াই অনেক দূর বাকি।
তারেক রহমানকে আমরা দেখে ছাড়ব। তিনি কি সন্ত্রাসীদের সঙ্গে হাত মেলাবেন, নাকি ভালো মানুষদের সঙ্গে হাত মেলাবেন? তাঁর আশপাশে শাহ আলমের মতো গুন্ডাদের রাখবেন, নাকি ভালো মানুষদের মন্ত্রিপরিষদে জায়গা দেবেন?
এই ব্যবস্থা পরিবর্তনের জন্যই আমরা এসেছি। আমরা আমাদের এই লড়াই চালিয়ে যাব। সেই লড়াইয়ের ধারাবাহিকতায় আমরা উসমান হাদির পথে এসেছি। লড়াই চলবে।
সবাইকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এখন আমাদের গণসংযোগ কর্মসূচি শুরু হবে। আমরা প্রত্যেকটি অলিগলিতে যাব এবং আপনাদের সঙ্গে কথা বলব। আপনারা মন খুলে আপনাদের সমস্যার কথা বলবেন। সেই কথাগুলো সংসদে তুলে ধরার জন্য আজ এমপি সাহেবকেও এখানে নিয়ে এসেছি। এমপি সাহেব আপনাদের সব সমস্যার কথা সংসদে গিয়ে বলবেন।
সবাইকে ধন্যবাদ। আসসালামু আলাইকুম।
আমরা এখান থেকে শুরু করে মদিনাবাদ বাজার হয়ে মুগদা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে যাব।

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url