২০ অক্টোবর ২০২৬: ভাইরাল খবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য (পুরো বক্তব্য একসাথে)

২০ অক্টোবর ২০২৬: ভাইরাল খবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বক্তব্য (পুরো বক্তব্য একসাথে) 

আজ (২০ অক্টোবর ২০২৬) রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসভাই বক্তব্য দিয়েছেন। কি বললেন পুরো বক্তব্যে, পড়ুন তার পুরো বক্তব্যটি।

রাজশাহীর জনসভায় দেওয়া বক্তব্য 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্য বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন, যেমন: আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা, কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন, কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা ও সুবিধা, খাল খনন, নদী সংস্কার ও পানির সমস্যার সমাধান ইত্যাদি। 

বক্তব্য দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২০ অক্টোবর ২০২৬

১. আখচাষিদের জন্য সরকারি প্রণোদনা

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই যে আজকে এখানে জনসভাটা হচ্ছে, এই জনসভাটার একটি লক্ষ্য আজকে ছিল। কী লক্ষ্য? সেই লক্ষ্যটি হচ্ছে, আমাদের এই যে সামনে আপনারা নিশ্চয়ই দেখতে পাচ্ছেন, এখানে বহু আখচাষি ভাই বসে আছেন। এরকম সমগ্র বাংলাদেশে প্রায় ৪০ হাজারের কাছাকাছি, ৩৮, প্রায় ৩৯ হাজারের মতো আখচাষি ভাইদেরকে সরকারের পক্ষ থেকে আমরা একটি প্রণোদনার ব্যবস্থা করেছি। যাতে করে আগামী সিজনে আখচাষি ভাইদের আখ চাষ করার জন্য কিছুটা হলেও কষ্ট কম হয়।

এখন প্রিয় ভাই বোনেরা, এই যে আখচাষি ভাইদেরকে এভাবে প্রণোদনা দেওয়া হলো, কেন দেওয়া হলো? কারণ বিএনপি বিশ্বাস করে যে, এই দেশের কৃষক বাঁচলে, এই দেশের কৃষি বাঁচলে, তাহলেই দেশ বেঁচে থাকবে।

২. কৃষিঋণ মওকুফের প্রতিশ্রুতি ও বাস্তবায়ন

এবং সে কারণে, প্রিয় ভাই বোনেরা, আপনাদের নিশ্চয়ই মনে আছে, নির্বাচন আজকে থেকে প্রায় আট মাস আগে যে নির্বাচন হলো, সেই নির্বাচনের সময় এই রাজশাহীতেও আমি জনসভা করেছিলাম। সেই নির্বাচনের সময় রাজশাহীর মানুষের কাছে, সহ সমগ্র বাংলাদেশে যতগুলো নির্বাচনী জনসভা আমি করেছিলাম, প্রত্যেকটি নির্বাচনী জনসভায় আমি কয়েকটি কথা বলেছিলাম।

যে, ১২ তারিখের নির্বাচনের, ১২ই ফেব্রুয়ারি যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে যদি আল্লাহর রহমতে বাংলাদেশের মানুষের সমর্থন নিয়ে বিএনপি সরকার গঠনে সক্ষম হয়, বিএনপি তাহলে কী কী করবে?

তার মধ্যে অনেকগুলোর পরিকল্পনার মধ্যে বা অনেকগুলো প্রতিশ্রুতির মধ্যে একটি ছিল, কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াবে বিএনপি।

এবং সরকার গঠন করার পর সাত দিনের মাথায়, নির্বাচনের আগে আমরা বলেছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইদের যাদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আছে, সেই কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ করা হবে।

সরকার গঠনের সাত দিনের মাথায় আমরা আমাদের প্রতিশ্রুতি রেখেছিলাম। সমগ্র বাংলাদেশের ১৩ লক্ষ কৃষক ভাইদের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ আমরা সুদসহ মওকুফ করে দিয়েছিলাম।

৩. কৃষক কার্ড চালুর পরিকল্পনা ও সুবিধা

প্রিয় ভাই বোনেরা, একটু আগেই মাত্র আমি বললাম যে, বিএনপি বিশ্বাস করে যে কৃষি বাঁচলে, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এবং সে কারণেই কিন্তু আমরা বলেছি যে, আমরা কৃষক ভাইদেরকে একটি কার্ড দিতে চাই, যেটির নাম হচ্ছে ফার্মার্স কার্ড বা কৃষক কার্ড।

এখন এরই মধ্যে এর কাজ শুরু হয়েছে। ক্ষুদ্র কৃষক, মাঝারি কৃষক, প্রান্তিক কৃষক, ভূমিহীন কৃষক, বড় কৃষক—এই লিস্ট তৈরি করার কাজ এরই মধ্যে এগিয়ে চলেছে। আগামী কিছুদিনের মধ্যে এটার কাজ শেষ হবে। ইনশাআল্লাহ, তখন ধীরে ধীরে আমরা কৃষক ভাইদের কাছে সেই কার্ডগুলো পৌঁছানোর চেষ্টা করব।

এবং ইনশাআল্লাহ, এই বছর সমগ্র বাংলাদেশে আমরা ভূমিহীন, প্রান্তিক এবং ক্ষুদ্র কৃষক ভাই যারা আছে, সেটি নারী হোক, পুরুষ হোক, ৪০ লক্ষ কৃষক ভাইয়ের কাছে আমরা কৃষি কার্ড ইনশাআল্লাহ পৌঁছে দেব এই বছরেই।

এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কোনো কৃষক ভাই যদি বছরে দুটি ফসল উৎপাদন করে, কোনো কৃষক ভাই যদি বছরে তিনটি ফসল উৎপাদন করে, তাহলে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে কৃষক কার্ডের মাধ্যমে চেষ্টা করব অন্তত একটি ফসলের সার, বীজ, কীটনাশক যতটুকু সম্ভব সেই কৃষক ভাইয়ের কাছে পৌঁছে দেওয়া, যাতে কিছুটা হলেও তার কষ্ট লাঘব হয়।

এবং শুধু তাই নয়, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি যেরকম আপনার ক্ষেতের ফসলের বিমা করতে পারবেন, একইভাবে আপনি যদি ব্যাংকঋণ গ্রহণ করতে চান, তাহলে এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি সহজেই সেই ব্যাংকঋণও গ্রহণ করতে পারবেন আপনার কাজের সুবিধার জন্য।

শুধু তাই নয়, এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনি জানতে পারবেন। এখন তো কমবেশি মোবাইল ফোন সবার কাছেই আছে। এই কৃষক কার্ডের মাধ্যমে আপনার মোবাইল ফোনে এসে আপনি যদি জানতে চান, আপনি জানতে পারবেন যে আগামীকাল আপনার এখানে বৃষ্টি হবে কি হবে না। তার ফলে আপনি সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন, আপনি বীজ বপন করবেন নাকি সার দেবেন, কোন কাজটি আপনি করবেন, আপনি জানতে পারবেন। এরকম প্রায় ১০টি সুবিধা থাকবে সেই কৃষক কার্ডে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, প্রিয় ভাই বোনেরা, শুধু তাই নয়।

৪. খাল খনন, নদী সংস্কার ও পানির সমস্যার সমাধান

এই যে বলছি, কৃষি বাঁচলে, কৃষক বাঁচলে, দেশ বাঁচবে। এবং সেজন্যই কিন্তু আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, বিএনপি সরকার গঠন করলে এই দেশের কৃষক ভাইসহ সমগ্র দেশের মানুষের, বিশেষ করে গ্রামাঞ্চলের মানুষের একটি কষ্ট হয়। কী সেটি? পানির কষ্ট হয়, হয় না?

পানির কষ্ট সমগ্র বাংলাদেশে। এই উত্তরাঞ্চল তো হচ্ছে দেশের শস্যভান্ডার। এখানে যেমন হয়, অন্যান্য অঞ্চলেও হয়। এবং সে কারণে আমরা বলেছিলাম, শহীদ জিয়ার এখানে বহু মুরুব্বি মানুষ উপস্থিত আছেন। মুরুব্বিদের খেয়াল আছে, শহীদ জিয়ার সময় খাল খনন কর্মসূচি শুরু হয়েছিল, হয়েছিল না? এবং শুধু খাল খনন কর্মসূচি নয়, এই যে বরেন্দ্র প্রকল্প, শহীদ জিয়ার সময় এটা কার্যকারিতা লাভ করেছিল।

আমরা সেই জন্য বলেছিলাম, আমরা সরকার গঠন করলে কৃষক ভাইরা যাতে সঠিকভাবে সেই সুবিধা পায়, সঠিকভাবে যাতে পানি পায়, গ্রামের ভিতরে মা-বোনেরা যাতে দূর থেকে কষ্ট করে পানি আনতে না হয়, সেজন্য সমগ্র দেশে আমরা আবার খাল খনন এবং নদী সংস্কার বা নদী খনন কর্মসূচি শুরু করব।

এবং আল্লাহর রহমতে আমরা সেই কাজও আমাদের শুরু করেছি। আমরা বলেছি, আগামী পাঁচ বছর ইনশাআল্লাহ আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খনন করব। এর মধ্যে প্রায় ৮০০ কিলোমিটার খাল, গত আট মাসে আমরা খনন কার্য সম্পন্ন করেছি।

এই কাজ করার মাধ্যমে একদিকে যেরকম কৃষক ভাইরা পানির সুবিধা পাবে, সেচের সুবিধা পাবে, একইভাবে এই রাজশাহীর মানুষ জানে, কীভাবে এখানকার ভূগর্ভস্থ পানি কত নিচে নেমে গিয়েছে। বহু মানুষের সেই জন্য পানির কষ্ট হয়। সেই পানিও ধীরে ধীরে ধীরে আবার রিচার্জ হবে এখানে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই তো গেল কৃষির কথা।

৫. রাজশাহী মেডিকেল কলেজের শয্যাসংখ্যা বৃদ্ধি

একটু আগে আমার রাজশাহীর নেতারা বলল যে, এখানে যে মেডিকেল কলেজ, সেটির বেড সংখ্যা বাড়ানোর একটি দাবি করেছে। করেছে না? আমার নেতারা এখানে মেডিকেল কলেজে বেডের সংখ্যা বাড়াতে বলেছে না?

এখন কত? ১,৩০০ কত আছে এখন? ১,৩০০ আছে। ২,৫০০ করতে চাচ্ছেন তো আপনারা? আচ্ছা, এবার ওটা তো হবে। কিন্তু তারপরেও তো উপজেলা থেকে মেডিকেল হলে কোথায় হবে? শহরের মধ্যে হবে তো, মহানগরীতে হবে, নাকি?

কিন্তু মহানগরী থেকে মহানগরীতে কেউ যদি সেই, ইয়ে থাকে, পটিয়াতে থাকে, পটিয়া থেকে আসতেও তো কষ্ট হয়, সময় লাগে না অসুস্থ মানুষের?

সেই জন্য, যেহেতু বিএনপিকে আপনারা বিগত নির্বাচনে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন, বিএনপি সেই জন্যই হচ্ছে জনগণের সরকার। জনগণের ভোট দ্বারা নির্বাচিত সরকার হচ্ছে বিএনপি। এবং সেই জন্যই জনগণের কথা চিন্তা করে বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে প্রত্যেকটি উপজেলায় যে উপজেলা হাসপাতাল আছে, এটির বেড সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে।

এটির বেড সংখ্যা কত বৃদ্ধি করা হবে, আসছি আমি সে কথায়।

৬. উপজেলা হাসপাতাল ৫০ শয্যা থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা

কিন্তু এই যে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আছে, আছে না ৫০ বেডের উপজেলা হাসপাতাল? এখানে আবারও মুরুব্বিরা আছেন। মুরুব্বিরা জানেন, এই ৫০ বেড হাসপাতালের ৩০ বেড শুরু করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান।

তার আগে কোনো উপজেলায় হাসপাতাল ছিল না। থানা সদর হাসপাতাল ছিল না। পরবর্তীতে শহীদ জিয়া যেখানে রেখে গিয়েছেন ৩০ বেড, ৯১ সালে যখন জনগণের ভোটে দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি আবার সরকার গঠন করে, তখন দেশনেত্রী খালেদা জিয়া আরও ২০ বেড বাড়িয়ে সেটিকে ৫০ বেড করেছিলেন, যা আপনারা এখন দেখতে পারেন।

এবার যেহেতু জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, বিএনপিকে বাংলাদেশের জনগণ নির্বাচিত করেছে, সেজন্যই আমরা সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছি, প্রত্যেকটা উপজেলা হাসপাতাল ৫০ বেড থেকে আমরা ১৫০ বেডের হাসপাতালে তৈরি করব।

যাতে করে, যাতে করে আমার গ্রামের মানুষ, আমার ইউনিয়নের মানুষ, আমার উপজেলার মানুষ, যাদের অল্পস্বল্প অসুখ হয়, তাদের কষ্ট করে এত দূর আসতে হবে না। উপজেলা হাসপাতালেই তারা চিকিৎসা নিতে পারবে।

যারা বেশি অসুস্থ হয়ে পড়বে, আল্লাহ না করুক, তাদেরকে হয়তো কষ্ট করে সদরে আসতে হবে, মহানগরীতে আসতে হবে বড় হাসপাতালে। কিন্তু আমরা স্বাস্থ্যসেবা মানুষের কাছে দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে চাই। উপজেলা পর্যায়ে আমরা পৌঁছে দিতে চাই।

এবং শুধু শুধু তাই নয়, সেখানে আমরা শিশুদের জন্য বেড রাখব। সেখানে আমরা মা-বোনদের জন্য আলাদা করে বেড রাখব। সেখানে আমরা কিডনি রোগী যারা থাকবে, তাদের ডায়ালিসিসের সুবিধার জন্য সেখানে আলাদা বেডের ব্যবস্থা আমরা করব, যাতে এত দূর আসতে না হয়।

৭. কিডনি ও হৃদ্‌রোগের চিকিৎসা ব্যয় কমানোর প্রসঙ্গ

এবং সে কারণেই আপনাদের অনেকের হয়তো মনে আছে, কেউ কেউ হয়তো ভুলে গেছেন, এই যে বিগত নির্বাচনে বাজেট, যে আমরা নির্বাচনের পরে গত জুন মাসে যে আমরা বাজেট উপস্থাপন করলাম, সেই বাজেটে আপনারা দেখেছেন, যারা যারা কিডনি রোগী, তাদের ডায়ালিসিস করার জন্য যে ওষুধ লাগে, সেই ওষুধের ওপর ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এবং তার ফলে অর্ধেক কমে এসেছে। আগে যেটা প্রায় ১,২০০, ১,৫০০ টাকা লাগত সেই খরচ, সেটা ৭০০-৮০০ টাকার মধ্যে চলে এসেছে।

শুধু তাই নয়, হার্টের রোগী যারা, হার্টের অসুখ যাদের আছে, তাদের কথা চিন্তা করে, যেহেতু বিএনপি আপনাদের সরকার, জনগণের সরকার, সেই জন্য হার্টের যেসব জিনিসপত্র আছে, তার ওপরও ট্যাক্স কমিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ফলে আগে যেটা ১ লক্ষ ২০-৩০ হাজার টাকা লাগত, সেটা এখন ৬০-৬৫ হাজার টাকায় নেমে এসেছে।

এই সকল কাজ বিএনপি করেছে জনগণের জন্য। বিএনপি এ কাজ করেছে, যাতে জনগণের মধ্যে জনগণের অংশ অসুস্থ হলে কম পয়সায় যাতে জনগণ চিকিৎসার সুবিধা নিতে পারে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই তো গেল চিকিৎসার কথা।

৮. বন্ধ চিনিকল ও অন্যান্য কলকারখানা চালুর উদ্যোগ

আসুন, এবার আমরা বলেছিলাম, আমরা বলেছিলাম, আজকে এই যে আখচাষি ভাইদেরকে সহযোগিতা করা হলো, যে সরকার থেকে, অর্থাৎ আখচাষি ভাইদেরকে সহযোগিতা করা মানে এই আখগুলো ধীরে ধীরে তো চিনিকলগুলোতে যাবে, যাবে না? সেই চিনিকল চালু হবে, সেখানে শ্রমিকদেরও কাজ হবে।

এই সেই রাজশাহী নগরে, এই সেই রাজশাহী জেলা, যেখানে বিএনপি ১২ তারিখে নির্বাচনে সরকার গঠন করার পরে আমরা অনেকগুলো বন্ধ মিল-কারখানা, বিভিন্ন ব্যবসায়ীকে, বিভিন্ন উদ্যোক্তাকে ডেকে নিয়ে এসেছি। তাদেরকে উৎসাহিত করেছি।

এবং ধীরে ধীরে আমরা এর মধ্যে কয়টি হচ্ছে, সাত মাসে, মুক্তাদিন, এর মধ্যে কতগুলো দেওয়া হয়েছে, জানি, আমার ছয়টা। এর ভিতরে বন্ধ মিল-কারখানা সারাদেশে ছয়টি মিল-কারখানা বিভিন্ন উদ্যোক্তাদের, বিভিন্ন ব্যবসায়ীদেরকে দেওয়া হয়েছে, যাতে তারা মিল-কারখানাগুলো চালু করতে পারে।

এবং চালু করার একটি অন্যতম লক্ষ্য হলো, আমার শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে বেকার না থাকে, শ্রমিক ভাইদের যাতে আবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হয়। এই হচ্ছে আমাদের লক্ষ্য।

এবং ইনশাআল্লাহ আগামী ১২ মাসে, এই আগামী জানুয়ারি থেকে শুরু করে ডিসেম্বর, এই ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে শুরু করে আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশে আরও প্রায় ইনশাআল্লাহ ৪৬টির মতো বন্ধ কলকারখানা আমরা চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

যাতে করে আমার দেশের শ্রমিক ভাইয়েরা বেকার না থাকে, আমার দেশের শ্রমিক ভাইয়েরা যাতে কাজ করে তারা টিকে থাকতে পারে, কাজ করে যাতে তারা বেঁচে থাকতে পারে, সেই জন্যই আমরা কলকারখানাগুলো চালু করার উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।

৯. রাজনৈতিক কর্মসূচি, বিশৃঙ্খলা ও ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ

প্রিয় ভাই বোনেরা, প্রিয় ভাই বোনেরা, আপনারা খেয়াল করে দেখেছেন, একটি মহল তারা বিভিন্ন রকম বিভ্রান্তি তৈরি করার চেষ্টা করছে।

এখন এখানে অনেক ব্যবসায়ী আছেন। আজকের এই জনসভার মধ্যে ছোটখাটো, মাঝারি, বড় অনেক ব্যবসায়ী আছে। একটি নরমাল, সিম্পল কথা, যদি আপনার একটি দোকান থাকে, দোকানের সামনে যদি আপনার কোনো রকমের সমস্যা হয়, কোনো রকমের হৈচৈ, বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়ে যায়, সেদিন কি আপনার বেচাকেনা ভালো হবে? ব্যবসা ভালো হবে? ব্যবসা ভালো হবে না।

এটা তো নরমাল ব্যাপার। আমরা বিএনপি সরকার দেশে স্থিতিশীলতা আনতে চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার দেশে নিরাপত্তা বৃদ্ধির চেষ্টা করছে। বিএনপি সরকার চাইছে বন্ধ মিল-কারখানাগুলো চালু করতে। বিএনপি সরকার চাইছে কৃষককে স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে।

বিএনপি সরকার চাইছে আমার শ্রমিক ভাইদের দক্ষতা বৃদ্ধি করার মাধ্যমে দেশে হোক, বিদেশে হোক, কর্মসংস্থান তৈরি করার চেষ্টা করতে। বিএনপি চাইছে বেকারত্বের যে অভিশাপ, সেটি ধীরে ধীরে কমিয়ে আনার চেষ্টা করতে।

কিন্তু আমরা দেখেছি, কতগুলো মানুষ একটি বিশেষ দলের সাথে আরও কতগুলো দলকে সাথে নিয়েছে। নিয়ে তারা রাস্তার মধ্যে, রাজপথের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

আমরা দেশি উদ্যোক্তাদেরকে উৎসাহ দিয়ে আনার চেষ্টা করছি যে, কীভাবে বন্ধ কলকারখানাগুলো চালু করা যায়। আমরা বিদেশি যারা উদ্যোক্তা আছে, তাদেরকে বিদেশ থেকে নিয়ে এসে উৎসাহ দিচ্ছি যে, আসেন, আপনারা এই বাংলাদেশে বিনিয়োগ করেন। বাংলাদেশে বিনিয়োগ করার মাধ্যমে আপনারা বন্ধ মিল-কারখানাগুলোকে চালু করেন, যাতে করে বাংলাদেশের উৎপাদিত দ্রব্য বিদেশে যেতে পারে, যাতে করে বাংলাদেশের বেকার শ্রমিকদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হতে পারে।

কিন্তু এই সকল কাজকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য আমরা দেখছি, কতগুলো দল উঠে-পড়ে লেগেছে এবং জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য তারা রাজপথে বিশৃঙ্খলা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, আমরা চাচ্ছি আখকলগুলো চালু হোক। আমরা চাচ্ছি বিভিন্ন মিল-কলকারখানাগুলো চালু হোক। আমরা চাইছি বাংলাদেশের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা তার দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হোক।

কিন্তু কতগুলো রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি তৈরি করার মাধ্যমে জনগণের এই কাজগুলোকে, সরকারের এই কাজগুলোকে তারা স্লো করে দিতে চাইছে, ধীর করে দিতে চাইছে।

এখন যদি উপজেলা পর্যায়ে হাসপাতাল তৈরি না হয়, এখন যদি মিল-কারখানাগুলো আবার চালু না হয়, এখন যদি খাল খনন কর্মসূচি স্থগিত হয়ে যায়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে, প্রিয় ভাই বোনেরা? ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাই তো নাকি? জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে না? জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

তাহলে প্রিয় ভাইয়েরা, আমার প্রশ্ন আপনাদের সকলের কাছে, আমার প্রশ্ন যে, যারা এমন কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায়, যেই কর্মসূচি গ্রহণ করলে জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে কি তারা জনগণের বন্ধু হলো? জনগণের বন্ধু হলো না।

১০. খাল খনন ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি

এখন খাল খনন কর্মসূচি, এটি কি জনগণের কর্মসূচি নয়? কি ভাই, খাল খনন কর্মসূচি কি জনগণের কর্মসূচি? খাল খনন জনগণের কর্মসূচি।

বিএনপি ঘোষণা করেছে যে, তারা আগামী পাঁচ বছর ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ করবে। এই বৃক্ষরোপণ করলে, এর যেরকম গাছের মূল্য আছে, আমাদের ছোট ছোট বাচ্চারা ফলমূল খেতে পারবে, মানুষ ছায়ায় শান্তিতে বসতে পারবে। দেশে এত যে গরম, সেই গরম কমে আসবে। অর্থাৎ দেশে একটি শান্তি শান্তি ভাব আসবে।

কিন্তু এটার উপকার তাদের সহ্য নয়। এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি যদি বাধাগ্রস্ত হয়, ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? জনগণ হবে।

১১. নারীদের বিনামূল্যে শিক্ষা ও উপবৃত্তি

এবার আসেন, এই যে এখানে মা-বোনেরা সামনে বসে আছেন, এই মা-বোনদেরকে শিক্ষিত করার জন্য দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিনামূল্যে তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা করেছিলেন। মনে আছে?

বিএনপি যেহেতু খালেদা জিয়ার সরকার, সেটি করেছিলেন। ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষাব্যবস্থা ফ্রি করে দিয়েছিলেন।

বর্তমান বিএনপি সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে, এই মা-বোনদের যাতে শিক্ষা কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয়, সেই জন্য তাদের শিক্ষার ব্যবস্থা অনার্স পর্যন্ত বিনামূল্যে করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিএনপি সরকার।

শুধু তাই নয়, এই মা-বোনদের মধ্যে, এই বোনেদের মধ্যে যারা ভালো রেজাল্ট করবে, যেই মেয়েরা ভালো রেজাল্ট করবে, তাদেরকে আমরা সরকারের পক্ষ থেকে উপবৃত্তির ব্যবস্থা করব, যাতে আমাদের দেশের নারীরা, আমাদের দেশের মেয়েরা আত্মনির্ভরশীল হয়ে উঠে দাঁড়াতে পারে।

১২. নারীদের অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা ও ফ্যামিলি কার্ড

প্রিয় ভাই বোনেরা, শুধু শিক্ষা দিলেই হবে না। আমাদের মা-বোনদেরকে ভাইদের পাশে সমানতালে থেকে তাদেরকে আত্মনির্ভরশীল, ইন্ডিপেন্ডেন্ট হতে হবে। তাদেরকে নিজেদের পায়ে দাঁড়াতে হবে। ভাইদের পাশে এসে দাঁড়াতে হবে। তাদেরকে সহযোগিতা করতে হবে।

এবং সে কারণেই মা-বোনদেরকে আত্মনির্ভরশীল, অর্থনৈতিকভাবে আত্মনির্ভরশীল করার জন্য আমরা নির্বাচনের আগে বলেছিলাম যে, আমরা মা-বোনদেরকে বিএনপি সরকার গঠন করলে ফ্যামিলি কার্ড দেব।

এবং এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে আমরা মা-বোনদের কাছে প্রতি মাসে একটি অর্থনৈতিক সহযোগিতা পৌঁছে দেব, যাতে মা-বোনেরা তাদের জরুরি প্রয়োজনে, তাদের সন্তানদের জন্য ভালো খাদ্যের ব্যবস্থা করতে পারে, সন্তানদের জন্য সেই টাকা দিয়ে যাতে করে তারা ভালো শিক্ষার ব্যবস্থা করতে পারে, সন্তানদের জন্য যাতে তার সংসারের কাজে লাগে এবং পরিশেষে সেই অর্থ দিয়ে যাতে সে ছোট ছোট পুঁজি তৈরি করে ছোট ছোট বিনিয়োগ করতে পারে, যেখান থেকে তার এক্সট্রা ইনকাম আসবে।

অর্থাৎ আমরা একটি পরিবারকে পর্যায়ক্রমিকভাবে একটি পরিবারকে আমরা মায়ের নেতৃত্বে আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে চাই।

ধীরে ধীরে যদি একটি গ্রামের পরিবার সকলে আত্মনির্ভরশীল হয়, আস্তে আস্তে একটি ইউনিয়ন আত্মনির্ভরশীল হবে, আস্তে আস্তে একটি উপজেলা আত্মনির্ভরশীল হবে, আস্তে আস্তে একটি জেলা আত্মনির্ভরশীল হবে, আস্তে আস্তে একটি বিভাগ আত্মনির্ভরশীল হবে এবং সর্বশেষে সমগ্র বাংলাদেশ আত্মনির্ভরশীল হবে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই হচ্ছে আমাদের পরিকল্পনা।

এখন আমাদের যে পরিকল্পনা, আপনারা কি মনে করেন, মা-বোনদের এই পরিকল্পনা যদি বাধাগ্রস্ত হয়, তাহলে ক্ষতিগ্রস্ত কে হবে? কে হবে ক্ষতিগ্রস্ত? জনগণ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

ওই যে বললাম, কতগুলো দল, সেই দলগুলো চায় না বিএনপির এই কর্মসূচি তথা জনগণের এই কর্মসূচি কোনোভাবেই সফল হোক।

মনে নেই আপনাদের, নির্বাচনের আগে বলেছিল, যখন বুঝেছে যে তাদের টিকিট-ফিকিট তো বিক্রি হয় নাই, যে কী কী টিকিট যেন বিক্রি করেছিল, করেছিল না? সেই টিকিট জনগণ খায় না। তখন তারা কী বলল? সমালোচনা তো করতে পারে নাই, জিদের বশে বলল, ‘রাখ তোর ফ্যামিলি কার্ড।’ মনে আছে ঠিক?

১৩. কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে জনগণের সমর্থন

প্রিয় ভাই বোনেরা, ফ্যামিলি কার্ড রেখে দিলে মা-বোন ক্ষতিগ্রস্ত হবে, তার তো কিছু যায় আসে না। কাজেই আজকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে, প্রিয় ভাই বোনেরা।

আমরা কি বন্ধ কলকারখানা চালু করব কি না? আজকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

মা-বোনদের ফ্যামিলি কার্ড আমরা চালু করব কি না? আজকে আমাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

কৃষক ভাইদের কৃষি কার্ড আমরা চালু করব কি না? আজকে আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আমরা খাল খনন কর্মসূচি চালু করব কি না? এই সকল সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

যদি এই সকল সিদ্ধান্ত হ্যাঁ হয়ে থাকে, উত্তর যদি হ্যাঁ হয়ে থাকে, তাহলে আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের পাশে এসে দাঁড়িয়েছিলেন, আগামী পাঁচ বছর বাংলাদেশের জনগণকে তাহলে বিএনপির প্রতি সমর্থন দিয়ে যেতে হবে।

যাতে সেই সকল প্রান্ত রাজনৈতিক দল, যারা ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে গতকাল পর্যন্ত যখনই সুযোগ পেয়েছে, তখনই জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করেছে, ১৯৭১ সাল থেকে শুরু করে যখনই তারা সুযোগ পেয়েছে, তখনই দেশকে তারা ভিন্ন পথে নিয়ে যেতে চেয়েছে, তাদের ব্যাপারে আমাদেরকে সতর্ক হতে হবে, প্রিয় ভাই বোনেরা।

১৪. ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের স্মরণে স্মৃতিস্তম্ভ

প্রিয় ভাই বোনেরা, গতকাল একটি অনুষ্ঠান ছিল ঢাকায়। কী সেই অনুষ্ঠান? অনুষ্ঠানটি ছিল এই যে, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে স্বৈরাচার বিদায় হয়ে গেছে, সেই স্বৈরাচার পালিয়ে যাবার আগে শত শত মানুষকে হত্যা করে গিয়েছিল, শত শত ছাত্রকে, শত শত সাধারণ নিরীহ মানুষকে হত্যা করে দিয়ে গিয়েছিল।

প্রিয় ভাই বোনেরা, সেই সকল শহীদদের স্মরণে আমরা গতকাল ঢাকার ওসমানী উদ্যানে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছি।

বিএনপি বিশ্বাস করে, বিএনপি ৭১-কে ধারণ করে, বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে। এবং সেই জন্যই ২৪-কে ধারণ করে বলেই ২৪-এর যে শহীদ পরিবার আছে, জুলাই যোদ্ধা যারা আছে, তাদের পাশে বিএনপি দাঁড়িয়েছে।

শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে, ওই যে ওখানে শহীদ পরিবারের সদস্যদেরকে, আমরা চেষ্টা করছি বিভিন্নভাবে তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে।

শহীদ, যে সকল জুলাই যোদ্ধা আহত হয়েছেন, সেই সকল ব্যক্তিকে আমরা চিকিৎসার ব্যবস্থা করছি।

যেহেতু বিএনপি ২৪-কে ধারণ করে, সেজন্য বিএনপি তাদের স্মরণে একটি স্মৃতিস্তম্ভ তৈরি করেছে।

আমরা সকল রাজনৈতিক দলকে সেদিন দাওয়াত দিয়েছিলাম, যারা মুখে বলে ২৪-কে তারা ধারণ করে। কিন্তু আমরা কী দেখলাম? এমনকি জুলাই শহীদদেরকে সম্মান জানানোর জন্য, তাদের সাথে সহমর্মিতা প্রকাশ করার জন্য, তাদেরকে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য, সেই সকল দলগুলোর কোনো প্রতিনিধি সেই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিল না।

অর্থাৎ ৭১ সালে তারা যেভাবে জনগণকে ধোঁকা দিয়েছে, ঠিক একইভাবে আমরা দেখেছি, ২৪-এর জুলাই আন্দোলনেও তারা ধোঁকা দিয়েছে। তারা মুখে একটি কথা বলছে, তাদের কর্মে আরেকটি প্রতিফলন আমরা দেখতে পাচ্ছি।

১৫. দেশের স্থিতিশীলতা, গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অধিকার

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই দেশ, এই বাংলাদেশ, এই দেশের জনগণের। এবং সেজন্যই বাংলাদেশের জনগণ এখন চায় একটি স্থিতিশীলতা। বাংলাদেশের জনগণ চায় তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা। বাংলাদেশের জনগণ চায় শান্তিতে আমরা দেশকে যাতে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারি।

অর্থাৎ সোজা কথায় যদি বলি, বাংলাদেশের জনগণ একদিকে যেমন চায় গণতান্ত্রিক চর্চা করতে, একই সাথে বাংলাদেশের মানুষ চায় তাদের কর্মসংস্থানসহ শা

ন্তিতে যাতে তারা সামনে এগিয়ে যেতে পারে।

অর্থনৈতিক অধিকার যেমন বাংলাদেশের মানুষ চায়, রাজনৈতিক অধিকারও একই সাথে মানুষ চায়।

এবং সেই জন্য, প্রিয় ভাই বোনেরা, আমরা একটি কথা বলি।

“করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ।”

১৬. শ্রমিক অসন্তোষ ও ষড়যন্ত্রের অভিযোগ

প্রিয় ভাই বোনেরা, যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে।

আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন, দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে।

এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে যে, যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে, তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তাদের কাদের সাহায্য করছে?

এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে—এই দুই পক্ষ এক হয়েছে।

একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার।

আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, যাতে করে বাংলাদেশের যে অর্থনীতি, মানুষের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

১৭. পদ্মা ও তিস্তা নদীতে ব্যারেজ নির্মাণের পরিকল্পনা

প্রিয় ভাই বোনেরা, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে, এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

সেই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত করেছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী, আমাদের একটি হচ্ছে তিস্তা, ওখানে উত্তরাঞ্চলের, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী। এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।

এবং এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যত দূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব তত দূর যেতে।

কিন্তু ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।

এবং একই সাথে পানির হিস্যা যেমন আমরা নিয়ে আসব, একই সাথে আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুততম সময় হয়, সেই সময়ের মধ্যে আমরা এই পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই তিস্তা ব্যারেজ বলেন বা পদ্মা ব্যারেজ বলেন, এই ব্যারেজ সম্পন্ন হলে উপকার হবে কার? উপকার হবে কার?

এই দেশের মানুষের উপকার হবে।

প্রথমত উপকার হবে এই জেলার মানুষের, আশেপাশের সকল মানুষের উপকার হবে এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষের উপকার হবে শুধুমাত্র এই পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করার মাধ্যমে।

১৮. সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনায় জনগণের সমর্থনের আহ্বান

প্রিয় ভাই বোনেরা, এখন আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনাদের শক্তি হচ্ছে বিএনপি সরকারের শক্তি।

আপনারা যদি মনে করেন পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন তিস্তা ব্যারেজ তৈরি করা প্রয়োজন দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য, আপনারা যদি মনে করেন কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন কৃষক কার্ড ইন্ট্রোডিউস করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন মা-বোনদের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ড, সেটি আমাদেরকে মা-বোনদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন ১৫০ বেডের উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন খাল খনন কর্মসূচি আমাদেরকে টেনে সামনে নিয়ে যেতে হবে পানির সমস্যার সমাধানের জন্য।

তাহলে আমাদের যে সবচেয়ে বড় শক্তি, জনগণ, সেই জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে এবং সেই সমর্থন আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ অব্যাহত রাখতে হবে।

আছেন নাকি আমার সাথে?

আর এই যে যেই পরিকল্পনার কথা এতক্ষণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, এই পরিকল্পনা কি আপনারা চান আমরা বাস্তবায়ন করি?

তাহলে আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে এই জনগণকে বিএনপিকে এই সমর্থন আপনাদের অব্যাহত রাখতে হবে। পারবেন, দিবেন? ইনশাআল্লাহ।

১৯. দেশের উন্নয়নে শ্রম ও ঐক্যের গুরুত্ব

প্রিয় ভাই বোনেরা, পরিশেষে একটি কথা বলেই আমার বক্তব্য শেষ করছি।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এই দেশ আমাদের, এই দেশে জন্মেছি আমরা। এই দেশকে গড়ে দিতে হবে। আমাদের বিদেশ থেকে কেউ এসে আমাদেরকে দেশ গড়ে দিয়ে যাবে না। আমাদেরকেই কষ্ট করে এই দেশ গড়তে হবে।

২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাতকে আমাদের শ্রমিকের হাতে রূপান্তর করতে হবে। ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত দিয়ে কষ্ট করে, পরিশ্রম করে এই দেশকে আমাদের গড়ে তুলতে হবে।

অতীতে আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় দেখেছি, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেখেছি। যখনই ধীরে ধীরে তারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, যখনই তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখনই দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছে এবং ষড়যন্ত্র করে সেই গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, সেই কুচক্রী মহল ধীরে ধীরে আবার সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কুচক্রী মহল আবার চেষ্টা করছে, কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে বাধাগ্রস্ত করা যায়।

২০. গণতান্ত্রিক ও জাতীয়তাবাদী শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান

আজ আমি এই জনসভায় আপনাদের, এই হাজারো মানুষকে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশের সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের কাছে আবেদন রেখে যেতে চাই যে, আসুন, এই দেশের উন্নয়নের গতিকে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে, এই দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেই জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং গণতান্ত্রিক শক্তির সকল শক্তিকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কারণ আমরা একটি কথায় বিশ্বাস করি।

২১. সমাপনী স্লোগান

“করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”

প্রিয় ভাই বোনেরা, যারা এই স্লোগানে বিশ্বাস করে না, যারা এই নীতিতে বিশ্বাস করে না, তারা এখন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। আমাদের কাছে গোয়েন্দাদের খবর আছে। আপনারা নিশ্চয়ই দেখেছেন দেশের কয়েকটি জায়গায় কয়েকটি কলকারখানায় কিছু শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হয়েছে। এই ব্যাপারে আমি পরিষ্কার করে এই হাজারো মানুষের সামনে একটি কথা বলতে চাই। পরিষ্কার গোয়েন্দাদের তথ্য আছে। যে যে স্বৈরাচার পালিয়ে গিয়েছে তারা সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে। অর্থ সরবরাহ করে তাদের কাদের সাহায্য করছে? এই যে কতগুলো লোক আছে, একটি দল আছে, যারা বিভ্রান্তি ছড়ায় দেশের মধ্যে, যারা বিভিন্ন টিকিট বিক্রি করার চেষ্টা করেছিল নির্বাচনের আগে, জনগণের কাছে মিথ্যা কথা বলে, এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, আজ সময় এসেছে বাংলাদেশের জনগণকে সচেতন হবার। আমি আপনাদেরকে আহ্বান জানাব, আজকে থেকে আমাদেরকে সচেতন হতে হবে, যাতে কেউ বাংলাদেশে আর কোনো বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, যাতে করে বাংলাদেশের যে অর্থনীতি, মানুষের যে অর্থনৈতিক অবস্থা, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের যে পরিবর্তন, সেটি পরিবর্তন করার যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, কাজ শুরু হয়েছে, এটিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, দেশের অগ্রগতির স্বার্থে, কৃষক ভাইদের অগ্রগতির স্বার্থে, মানুষের অগ্রগতির স্বার্থে, এই যে রাজশাহীতে যে পদ্মা নদী আছে, আমরা দেখেছি কীভাবে আমাদের এই পদ্মা নদী শুকিয়ে যাচ্ছে, কীভাবে এই পদ্মা নদীর পানির প্রবাহকে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সেই জন্য আমরা সিদ্ধান্ত করেছি, বিএনপি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে যে, বাংলাদেশের দুটি বড় নদী, আমাদের একটি হচ্ছে তিস্তা, ওখানে উত্তরাঞ্চলের, আরেকটি হচ্ছে রাজশাহীতে পদ্মা নদী, এই দুটি নদীতে আমরা ব্যারেজ তৈরি করব, যাতে করে আমাদের পানির সমস্যা আমরা দূর করতে পারি।

এবং এই পানির সমস্যা যারা তৈরি করেছে, তাদের সাথে আমরা কথা বলব। দরকার হলে বাংলাদেশের মানুষের পানির হিস্যা আদায় করার জন্য যত দূর আমাদেরকে যেতে হয়, আমরা চেষ্টা করব তত দূর যেতে। কিন্তু ইনশাআল্লাহ, বাংলাদেশের পানির হিস্যা আমরা নিয়ে আসার চেষ্টা করব।

এবং একই সাথে পানির হিস্যা যেমন আমরা নিয়ে আসব, একই সাথে আমরা চেষ্টা করব যত দ্রুততম সময় হয়, সেই সময়ের মধ্যে আমরা এই পদ্মা ব্যারেজ এবং তিস্তা ব্যারেজের কাজ শুরু করব এবং শেষও করব, ইনশাআল্লাহ।

প্রথমত উপকার হবে এই জেলার মানুষের, আশেপাশের সকল মানুষের উপকার হবে এবং প্রায় ১৪টি জেলার মানুষের উপকার হবে শুধুমাত্র এই পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করার মাধ্যমে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, এখন আপনাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আপনাদের শক্তি হচ্ছে বিএনপি সরকারের শক্তি। আপনারা যদি মনে করেন পদ্মা ব্যারেজ তৈরি করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন তিস্তা ব্যারেজ তৈরি করা প্রয়োজন দেশ এবং দেশের মানুষের জন্য, আপনারা যদি মনে করেন কৃষক ভাইদের পাশে দাঁড়াতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন কৃষক কার্ড ইন্ট্রোডিউস করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন মা-বোনদের জন্য যে ফ্যামিলি কার্ড, সেটি আমাদেরকে মা-বোনদের কাছে পৌঁছে দিতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন ১৫০ বেডের উপজেলা হাসপাতাল তৈরি করতে হবে, আপনারা যদি মনে করেন খাল খনন কর্মসূচি আমাদেরকে টেনে সামনে নিয়ে যেতে হবে পানির সমস্যার সমাধানের জন্য, তাহলে আমাদের যে সবচেয়ে বড় শক্তি জনগণ, সেই জনগণ বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছে এবং সেই সমর্থন আপনাদেরকে ইনশাআল্লাহ অব্যাহত রাখতে হবে।

আছেন নাকি আমার সাথে?

আর এই যে যেই পরিকল্পনার কথা এতক্ষণ আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম, এই পরিকল্পনা কি আপনারা চান আমরা বাস্তবায়ন করি?

তাহলে আপনারা যেভাবে ১২ তারিখের নির্বাচনে বিএনপিকে সমর্থন দিয়েছেন, ইনশাআল্লাহ আগামী পাঁচ বছরে এই জনগণকে বিএনপিকে এই সমর্থন আপনাদের অব্যাহত রাখতে হবে। পারবেন, দিবেন? ইনশাআল্লাহ।

প্রিয় ভাই বোনেরা, পরিশেষে একটি কথা বলেই আমার বক্তব্য শেষ করছি।

অতীতে আমরা বিভিন্ন সময় দেখেছি। দেশনেত্রী খালেদা জিয়ার সময় দেখেছি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় দেখেছি। যখনই ধীরে ধীরে তারা বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, যখনই তারা দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের কাজে হাত দিয়েছিলেন, তখনই দেশের ভেতরে এবং দেশের বাইরে কুচক্রী মহল ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করেছে এবং ষড়যন্ত্র করে সেই গতিরোধ করার চেষ্টা করেছে।

প্রিয় ভাই বোনেরা, সেই কুচক্রী মহল ধীরে ধীরে আবার সজাগ হওয়ার চেষ্টা করছে। সেই কুচক্রী মহল আবার চেষ্টা করছে, কীভাবে জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, দেশের ভাগ্যের পরিবর্তনের যে প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে, সেটিকে বাধাগ্রস্ত করা যায়।

আজ আমি এই জনসভায় আপনাদের, এই হাজারো মানুষকে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশের সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের কাছে আবেদন রেখে যেতে চাই যে, আসুন, এই দেশের উন্নয়নের গতিকে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে, এই দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেই জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং গণতান্ত্রিক শক্তির সকল শক্তিকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

আজ আমি এই জনসভায় আপনাদের, এই হাজারো মানুষকে এবং আপনাদের মাধ্যমে দেশের সকল গণতান্ত্রিক এবং মানুষের কাছে আবেদন রেখে যেতে চাই যে, আসুন, এই দেশের উন্নয়নের গতিকে, এই দেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে, এই দেশের জনগণের ভাগ্যের পরিবর্তনের গতিকে যাতে কেউ বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সেই জন্য জাতীয়তাবাদী শক্তি এবং গণতান্ত্রিক শক্তির সকল শক্তিকে আমাদেরকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

কারণ আমরা একটি কথায় বিশ্বাস করি—

“করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ।”

সবার আগে।যেরকম বাংলাদেশ সবার জন্য, সেরকম বাংলাদেশ। আবার বলেন দেখি আমার সাথে।

করব কাজ! সবার আগে! করব কাজ! সবার জন্য! বাংলাদেশ!


এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url