আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানালেন রাশেদ খান

আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে প্রতিবাদ জানালেন রাশেদ খান

দৈনিক আমার দেশ পত্রিকায় তাঁকে নিয়ে প্রকাশিত সংবাদ ও শিরোনামের প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাশেদ খান। তাঁর অভিযোগ, সংবাদটির মাধ্যমে তাঁকে রাজনৈতিকভাবে ট্যাগ দেওয়া এবং তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার চেষ্টা করা হয়েছে। 

এর প্রতিবাদে ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় হাতে থাকা দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার কপি ছিঁড়ে ফেলেন তিনি। এ সময় পত্রিকাটির সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতিও নিজের অসন্তোষ প্রকাশ করেন রাশেদ খান।

রাশেদ খানের ভিডিওতে দেওয়া বক্তব্য 

গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬, রোজ বৃহস্পতিবার, আমার দেশ পত্রিকার লিড নিউজের শিরোনাম ছিল, ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা-সহকারীরা কী করছেন?’ এখানে মোটামুটি সবার সম্পর্কেই তুলে ধরা হয়েছে। তবে আমি এই সংবাদ পড়তে গিয়ে যেটি বুঝলাম, তা হলো, আমাকে নিয়ে দুই লাইন লিখে খোঁচা মারার উদ্দেশ্যেই এই পত্রিকায় লিড নিউজ করা হয়েছে।

পত্রিকার পঞ্চম পাতায় উল্লেখ করা হয়েছে, ‘সাম্প্রতিক সময়ে রাশেদ খান বিভিন্ন টিভি টকশোসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারের পক্ষে বয়ান তৈরিতে সরব ভূমিকা পালন করেন। তাঁর কিছু কিছু বক্তব্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে বিতর্কেরও সৃষ্টি করেছে।’

‘নির্বাচন ধরে কোটি মানুষের আস্থায় পাইপের বস আরএফএম পাইপ।’

অর্থাৎ, এই এক লাইন আমার সম্পর্কে লেখার জন্য আমার দেশ পত্রিকার অনেক কালি খরচ করতে হয়েছে। অর্থাৎ, শুধু আমাকে নিয়ে তো লিড নিউজ করা যায় না। সুতরাং ‘প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও সহকারীরা কী করছেন?’ এই শিরোনামে তারা একটি সংবাদ প্রকাশ করেছে।

এরপর আজকে যে কাজটি করেছে, সেটি হলো ৩১ অক্টোবর ২০২৬, শনিবার। তার মানে, দুই সপ্তাহের মধ্যে আমাকে নিয়ে দুটি লিড নিউজ। দেখেন, এখানে হেডলাইন দেওয়া হয়েছে, ‘এক হয়েছেন হাসিনা পুত্র জয় ও কিছু নব্য বিএনপি।’ অথচ দেখেন, আমি বিএনপিতে যোগদান করেছি!

একই পত্রিকা কোনোভাবেই কোনো ব্যক্তি সম্পর্কে এই ধরনের কটাক্ষ করে মন্তব্য করতে পারে না। একমাত্র আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের পক্ষেই সম্ভব এ ধরনের মন্তব্য করা।

এ বিষয়ে অনেকে আমার সঙ্গে কথা বলেছেন। তো আমি যতটুকু বুঝতে পেরেছি, যেহেতু আমার দেশ পত্রিকা এখন জামায়াতের দেশ হিসেবেই কাজ করে, সুতরাং জামায়াতের মিথ্যাচার, বিশেষ করে জামায়াতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ নেতা মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় উচ্চপর্যায়ের গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক করেছেন এবং এই বিষয়টি আমি সামনে এনেছি, আমি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছি। জামায়াত আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ, যখনই আমার চ্যালেঞ্জ তারা গ্রহণ করবে, তখন আমার কাছে যে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, সেগুলো তো আমি স্বাভাবিকভাবেই সবার সঙ্গে শেয়ার করব। যে কারণে হয়তো তারা এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুব বেশি কথা বলতে চায় না।

দেখেন, আমি সেই সময় উল্লেখ করেছিলাম, যদি মিয়া গোলাম পরওয়ার ভারতীয় গোয়েন্দা কর্মকর্তার সঙ্গে বৈঠক না করে থাকেন, যদি তাদের মানহানি হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে তারা মানহানির মামলা করতে পারেন।

আমি এ-ও বলেছিলাম, যদি জামায়াত দল হিসেবে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে, তাহলে সঠিকভাবে তদন্ত করার স্বার্থে জামায়াত আমার কাছ থেকে তথ্য নিতে চাইলে আমি তাদের সহযোগিতা করব। এমনকি আমি এ কথাও বলেছি, তদন্ত কমিটি গঠন না করে জামায়াতের আমির যদি এই বিষয়টি নিয়ে আমার সঙ্গে কথা বলতে চান, আমিও তাঁকে তথ্য শেয়ার করতে রাজি আছি।

কিন্তু জামায়াত কোনো একটি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে রাজি নয়। কারণ, বৈঠক হয়েছে, শতভাগ সত্য। জামায়াত যদি আমার এই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে এবং তারা প্রমাণ করতে পারে যে আমি মিথ্যাচার করেছি, তাহলে আমাকে এ দেশের জনগণ যে শাস্তি দেবে, সেটি আমি মাথা পেতে নিতে রাজি আছি।

কিন্তু আমার চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে না পেরে, আমার বক্তব্যের সঠিক জবাব দিতে না পেরে, একের পর এক এই যে ‘জামায়াতের দেশ’—এটাকে আমি আর ‘আমার দেশ’ বলতে চাই না। এই ‘জামায়াতের দেশ’ পত্রিকায় আমার সম্পর্কে লিড নিউজ করে চরিত্রহন করা হচ্ছে।

যেখানে শেখ হাসিনাকে কটূক্তি করে আমি ২০১৮ সালে জেল খেটেছিলাম। আমি টানা ১৫ দিন রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। অতিরিক্ত আরও তিন দিন আমাকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছিল।

সেখানে দেখেন, হাসিনা-পুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়ের সঙ্গে আমার ছবি যুক্ত করে আমাকে আওয়ামী লীগ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করছে।

মানে, এই মজলুম সাংবাদিক বা সম্পাদক মাহমুদুর রহমানের প্রতি আমার শ্রদ্ধা ছিল। তিনিও আওয়ামী লীগের সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তিনি একজন মজলুম হয়েও যে রাশেদ খান ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের হাতে রিমান্ডে নির্যাতনের শিকার হলো, মজলুম হলো, তাঁকে নিয়ে এভাবে ট্যাগিং করা—এটা অন্তত মাহমুদুর রহমানের আমার দেশ পত্রিকার সঙ্গে যায় না।

আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমি আশা করি, মাহমুদুর রহমানের শুভবুদ্ধির উদয় হবে। আর এই যে একটি পত্রিকা যে ধরনের শব্দ ও বাক্য ব্যবহার করেছে, এটাকে আসলে কোনো পত্রিকা বলা যায় না। এটা যদি পত্রিকা হতো, তাহলে এভাবে এই আচরণ মাহমুদুর রহমান করতে পারতেন না।

আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে, আমাকে নিয়ে যে নিউজ করা হয়েছে, তা প্রত্যাখ্যান করলাম।

ধন্যবাদ।

এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url