শ্রমিক আন্দোলন ও ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে যা বললেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ
আজ সোমবার (২ নভেম্বর ২০২৬) সকালে রাজধানীর সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে ব্রিফিং করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ। সেখানে বিজিএমইএ ও বিকেএমইএর নেতাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
এ সময় তিনি শ্রমিক অসন্তোষ, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা, সহিংসতা এবং ডিসেম্বরের সম্ভাব্য কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন।
যেখানে তিনি মোটি তিনটি বিষয় তুলে ধরেন, যেমন: শ্রমিক আন্দোলন, পোশাকশিল্পে অস্থিরতা ও ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ।
শ্রমিক অসন্তোষ, সহিংসতা ও ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে বিএনপি সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ এর বক্তব্য
ডিসেম্বরে আমাদের বিজয় মাস উপলক্ষে সমস্ত কর্মসূচি থাকবে। কোনো পলাতক আসামি যদি ডিসেম্বর, জানুয়ারি বা এ ধরনের সময়কে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায়, তাহলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।
আমরা চাই, যেকোনো আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ফ্যাসিবাদী শক্তি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও মাফিয়া শক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, তাঁরা যেখানেই থাকুন, যেখানেই আশ্রয় নিন, তাঁরা যেন অতিশীঘ্রই দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। তাঁরাও যেন সুবিচার পান, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।
আন্দোলনের নামে তাঁরা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পাঁয়তারা করছেন, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।
বিগত কয়েক দিনে যেসব সহিংস ঘটনা ঘটেছে এবং কয়েক সপ্তাহ ধরে যেসব ঘটনা ঘটানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, সড়ক ও মহাসড়ক অবরোধ করে আগুন জ্বালিয়ে অস্থিরতা সৃষ্টির যে পাঁয়তারা চলছে, এর পেছনে যারা ইন্ধন দিচ্ছে, তারা চিহ্নিত হয়েছে।
এখানে দুঃখজনক হলেও সত্য, কিছু শিল্পমালিক, কিছু মিলমালিক জড়িত আছেন। পাশাপাশি কিছু শ্রমিক সংগঠনের ব্যানারে এমন কিছু লোকজন রয়েছেন, যাঁরা আদৌ শ্রমিকদের কল্যাণ চান কি না, সেটিও প্রশ্নবিদ্ধ। এসব ব্যক্তিই অস্থিরতা ও সহিংসতা সৃষ্টি করেছেন। আন্দোলনের নামে তাঁরা দেশে একটি অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন, যা কোনোভাবেই শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষণ করবে না।
আমরা অত্যন্ত কঠোর ভাষায় বলে দিতে চাই, যারা শ্রমিক আন্দোলনের নামে শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কাজে লিপ্ত, আইনশৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত এবং দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির জন্য বিভিন্ন ধরনের ষড়যন্ত্রে লিপ্ত, তাদের কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গতকালই আমরা এ ধরনের কিছু ব্যক্তিকে আইনের আওতায় নিয়ে এসেছি। তাদের এসব কর্মকাণ্ডের ভিডিও ফুটেজ এবং কিছু কিছু প্রমাণ আমরা সংগ্রহ করেছি। অডিও আছে, ভিডিও আছে এবং বিভিন্ন সহিংস ঘটনার সচিত্র ভিডিও ক্লিপ রয়েছে। আপনাদের কাছেও আছে।
আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলে দিতে চাই, এই সরকার শিল্পবান্ধব, বিনিয়োগ ও বাণিজ্যবান্ধব সরকার। রপ্তানি বৃদ্ধির জন্য, দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির জন্য আমরা সব ধরনের পদক্ষেপ নেব। একই সঙ্গে এই সরকার বিনিয়োগবান্ধব হওয়ার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শ্রমিকদের কল্যাণ ও স্বার্থ সংরক্ষণে সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। আমরা সেই লক্ষ্যে ইনশাআল্লাহ এগিয়ে যাব।
আমরা সবার সহযোগিতা চাই। আজ বিকেল ৩টার সময় আমরা সব শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে কথা বলব। সকালে মালিকপক্ষের সঙ্গে কথা বলেছি। বিকেলে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দের সঙ্গে কথা বলব। তাঁদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে মতামত নেওয়ার চেষ্টা করব এবং তাঁদের মতামত ও পরামর্শের ভিত্তিতে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করব। ধন্যবাদ।
সাংবাদিক: আমরা গতকালকের আন্দোলনে দেখেছি, যাঁরা জড়িত ছিলেন, তাঁদের মধ্যে অনেকে ছাত্রলীগের পদধারী নেতা ছিলেন। আজও আমরা মিরপুরে একটি মিছিল দেখেছি। এসব আন্দোলনে অংশগ্রহণকারীদের বেশির ভাগই কিশোর, যাঁরা প্রকৃত শ্রমিক নন। এ বিষয়ে শ্রমিকদের বক্তব্য কী? মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারের কাছে কী নির্দেশনা বা সহযোগিতার কথা বলা হয়েছে? মালিক সংগঠনের নেতারা কি বিষয়টি সম্পর্কে অবগত?
মন্ত্রী: মালিকদের সঙ্গে আমরা ইতিমধ্যে আলাপ-আলোচনা করেছি। একটু আগেই বললাম, আমরা শিল্পমালিকদের সহযোগিতা চেয়েছি। তাঁরা আমাদের সহযোগিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তাঁরা বলেছেন, কিছু শিল্পমালিক ও শিল্পকারখানা উদ্দেশ্যমূলকভাবে কারখানা বন্ধ করেছেন। তাঁদের তালিকা আমাদের কাছে প্রদান করবেন। পাশাপাশি কিছু শ্রমিকনেতা অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন। সেসব সংগঠন ও ব্যক্তির নামের তালিকাও আমরা তাঁদের কাছে সরবরাহ করতে বলেছি।
তবে আমরা বিশ্বাস করি, কোনো শ্রমিক বা শ্রমিক সংগঠন শ্রমিকদের স্বার্থবিরোধী কোনো কাজে লিপ্ত থাকতে পারে না। যারা অস্থিরতা সৃষ্টি করেছে, আপনারাই বললেন, তাদের মধ্যে কিছু পতিত শক্তির চিহ্নিত দোসর রয়েছে। তারা শ্রমিক নয়।
যাঁরা প্রকৃত শ্রমিক এবং শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, তাঁরা কখনোই তাঁদের কর্মসংস্থান বিনষ্ট হোক, সেটি চাইতে পারেন না। আমরা এটাও বিশ্বাস করি, গত কয়েক দিন ধরে যে অস্থিরতা সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, তার সঙ্গে প্রকৃত কোনো শ্রমিক জড়িত নন। কোনো শ্রমিক ভাই-বোন জড়িত নন এবং প্রকৃত কোনো শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দও জড়িত নন।
তবে ঘটনাক্রমে কেউ যদি এসব কাজে ইন্ধন দিয়ে থাকেন বা জড়িত থাকেন, তাহলে আমরা তাঁদের আহ্বান জানাব, তাঁরা যেন এসব কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকেন। কারণ, আমরা কঠোরভাবে এসব দমন করার চেষ্টা করব।
যাঁরা যেভাবেই হোক অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা করছেন, ঘৃণ্য রাজনৈতিক কোনো এজেন্ডা বাস্তবায়নের জন্য সীমান্তের ওপার থেকে ইশারায় যা কিছু করার চেষ্টা করছেন, আমরা তা প্রতিহত করব।
সাংবাদিক: গত ১৮ তারিখে, গত মাসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে শ্রম মন্ত্রণালয়কে বিষয়টি জানানো হয়েছিল। গোয়েন্দা তথ্যও ছিল। তাহলে শ্রম মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আগে কোনো প্রস্তুতি নেওয়া হয়নি কেন?
মন্ত্রী: আমাদের মাননীয় শ্রমমন্ত্রী সবার সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে শান্তিপূর্ণ পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করেছেন।
আমরা যদি শ্রমিকদের পক্ষ থেকে তাঁদের প্রতিনিধিদের নাম আরও আগে পেতাম, তাহলে আরও আগে মজুরি বোর্ড গঠন করা যেত। কিন্তু আমরা সবকিছু আলাপ-আলোচনা ও সমঝোতার মধ্য দিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছি।
আমরা এই সময়টা দিয়েছি, যাতে শ্রমিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং শিল্পমালিকেরা বুঝতে পারেন, প্রকৃতপক্ষে অভ্যন্তরে কী ধরনের ষড়যন্ত্র চলছে।
এখন সবার কাছে সবকিছু পরিষ্কার। আমরাও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দিয়েছি, যাতে যেকোনো ধরনের সহিংসতা ও অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা কঠোর হস্তে দমন করা হয়। গতকাল থেকেই সেটি দৃশ্যমান হয়েছে বলে আমার মনে হয়। আপনারাও দেখেছেন।
সাংবাদিক: যারা এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত, তাদের পেছনে কি কোনো রাজনৈতিক উদ্দেশ্য রয়েছে? তারা কেন এসবের সঙ্গে জড়িত? আর শিল্পমালিকেরা কী ধরনের সহযোগিতা করবেন?
মন্ত্রী: এখানে বিজিএমইএ (BGMEA) এবং বিকেএমইএ (BKMEA), উভয় পক্ষের শিল্পমালিক সংগঠনের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তাঁদের সঙ্গে আমাদের সব সময় যোগাযোগ ও আলাপ-আলোচনা ছিল।
এখন আমরা একটি ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিয়েছি। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এবং পুলিশ বিভাগের পক্ষ থেকে ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করা হয়েছে। তাঁরাও আমাদের ফোকাল পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিয়েছেন। ফলে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ থাকবে।
আপনারা জানেন, সুরক্ষা অ্যাপস নামে আমাদের একটি অ্যাপ রয়েছে। নির্বাচনের সময়, পূজার সময় এবং বিভিন্ন সময় আমরা এই অ্যাপ ব্যবহার করে থাকি, যাতে যেকোনো মুহূর্তে যেকোনো জায়গার তথ্য সবাই একই সঙ্গে আদান-প্রদান ও শেয়ার করতে পারেন।
এর মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা মনিটরিং করা হবে। পুলিশ হেডকোয়ার্টারে একটি কন্ট্রোল রুম স্থাপনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সেখান থেকে আমরা মনিটর করব।
আর আপনারা যে বললেন, কেউ কেউ শিল্পমালিক এখানে জড়িত আছেন কি না, অবশ্যই আছেন। যাঁদের একটি রাজনৈতিক পরিচয় ছিল, তাঁরা নিষিদ্ধ সংগঠনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তাঁদের কেউ কোনো সময় সংসদ সদস্য, কেউ মন্ত্রী, কেউ প্রতিমন্ত্রী ছিলেন। সেসব শিল্পমালিকের কেউ কেউ এসব অস্থিরতার পেছনে কাজ করছেন বলে আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে এবং সেটি প্রমাণিত হয়েছে।
আমরা কোনোভাবেই কোনো মিল-কারখানা বা শিল্পকারখানা বন্ধ হোক, তা চাই না। কারণ, এর সঙ্গে শ্রমিকদের রুটি-রুজির বিষয়টি জড়িত।
সে জন্য আমরা আজ শ্রমিক সংগঠনের সব নেতৃবৃন্দকে আহ্বান জানিয়েছি। বিকেল ৩টার সময় তাঁদের সঙ্গে কথা বলব। তাঁরা যেন শ্রমিকদের কল্যাণে কাজ করেন। কেউ যেন কর্মহীন হয়ে না পড়েন, বেকারত্ব সৃষ্টি না হয়, সেটি নিশ্চিত করতে হবে।
আমরা কোনো শিল্পকারখানা এক মুহূর্তের জন্যও বন্ধ হোক, তা চাই না।
অস্থিরতা সৃষ্টি হলে দেখা যায়, গার্মেন্টসশিল্পের শ্রমিকদের কর্মসংস্থান ও জীবিকার ওপর প্রভাব পড়ে।
সাংবাদিক: ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার একটি ঘোষণা রয়েছে। সেটিকে সামনে রেখে কি এসব অস্থিরতা সৃষ্টি হচ্ছে? এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কি কোনো তথ্য রয়েছে?
মন্ত্রী: কিসের আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন?
আমরা যে পলাতক খুনি, গণহত্যাকারী, ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা এবং তাঁর দোসরদের কথা বলছি, যাঁরা সাজাপ্রাপ্ত, দণ্ডপ্রাপ্ত, মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত কিংবা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত হয়েছেন, তাঁদের সবাইকে ফেরত পাওয়ার জন্য প্রত্যর্পণ চুক্তি (Extradition Treaty) অনুসারে পার্শ্ববর্তী দেশের কাছে আবেদন জানিয়েছি। তাঁরা যেখানে আশ্রয় নিয়েছেন, সেই দেশের কাছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে আবেদন জানানো হয়েছে।
সেখানে ডিসেম্বর কেন? আজকেই যদি তাঁদের প্রত্যাবর্তন করানো হয় বা প্রত্যর্পণ করা হয়, আমরা তাঁদের আইনের আওতায় নিয়ে আসব এবং আদালতের রায় অনুসারে ব্যবস্থা নেব।
এখানে ডিসেম্বর, ডিসেম্বর বলে একটি হাইপ তোলার চেষ্টা করা হচ্ছে। তাঁদের পলাতক নেতাকর্মীদের একটু উৎসাহিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সেটি কখনো সফল হবে না।
সাংবাদিক: আপনি বলছেন, ডিসেম্বরকে সামনে রেখে এসব হচ্ছে। নিশ্চয়ই আপনাদের কাছে কোনো তথ্য রয়েছে?
মন্ত্রী: কেসে জানিয়েছেন?
সাংবাদিক: আপনারা ডিসেম্বর, ডিসেম্বর করছেন। উনি হয়তো হঠাৎ ডিসেম্বর বলে ফেলেছেন।
মন্ত্রী: না, উনারা ডিসেম্বরকে সামনে আনছেন। নির্দেশ...
গতকালও আমি আপনাদের সঙ্গে কথা বলেছি। হয়তো সবাই ছিলেন না। আমি বেরিয়ে যাওয়ার সময় কথা বলেছি।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, সব কর্তৃপক্ষ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে নির্দেশনা ও পরামর্শ দিয়েছেন, যাতে আইনের শাসন বাস্তবায়ন হয়, শ্রমিকদের স্বার্থ সংরক্ষিত হয় এবং দেশে কোনো অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা হলে তা কঠোরভাবে দমন করা হয়।
আমরা শ্রমবান্ধব ও শিল্পবান্ধব পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে চাই। ইনশাআল্লাহ, এখানে কোনো ধরনের অস্থিরতা সৃষ্টির পাঁয়তারা কেউ বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
সেটি ডিসেম্বর হোক, ফেব্রুয়ারি হোক কিংবা নভেম্বর হোক, কোনো দিন-তারিখকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিরতা সৃষ্টির কোনো ষড়যন্ত্রই বাস্তবায়ন করতে পারবে না।
সাংবাদিক: এই মুহূর্তে কতগুলো গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ আছে এবং কতগুলো চালু আছে? যেগুলো বন্ধ রয়েছে, সেগুলো কি আপনারা চালু করতে পারবেন বলে মনে করেন?
মন্ত্রী: কিছু কিছু শিল্পকারখানা নিজস্ব কারণে, আর্থিক সংকটের কারণে অথবা রপ্তানি আদেশ কমে যাওয়ার কারণে সব সময়ই বন্ধ থাকে। সেটি একটি ভিন্ন বিষয়, ভিন্ন আলোচনা।
কিন্তু এই অস্থিরতাকে কেন্দ্র করে কিছু কিছু শিল্পকারখানা হয়তো আতঙ্কিত হয়ে গতকাল এক দিনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছিল। কালিয়াকৈর, গাজীপুরসহ এ ধরনের এলাকায় কিছু কারখানা বন্ধ ছিল। সেগুলো এক দিনের জন্য বন্ধ ছিল এবং আজ চালু হয়েছে।
আর যেসব কারখানা এখনো চালু করেনি, তারা যে ধরনের সহযোগিতা চেয়েছে, আমরা সব ধরনের সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছি।
সাংবাদিক: ডিসেম্বর...
মন্ত্রী: আবার ডিসেম্বর!
সাংবাদিক: কিসের ডিসেম্বর?
মন্ত্রী: ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। ডিসেম্বরে আমাদের বিজয় মাস উপলক্ষে সমস্ত কর্মসূচি থাকবে।
কোনো পলাতক আসামি যদি ডিসেম্বর, জানুয়ারি বা এ ধরনের সময়কে কেন্দ্র করে কোনো কর্মসূচি গ্রহণ করতে চায়, তাহলে তাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসা করেন।
আমরা চাই, যেকোনো আসামি, দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি, ফ্যাসিবাদী শক্তি, পতিত ফ্যাসিবাদী শক্তি ও মাফিয়া শক্তির সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরা, তাঁরা যেখানেই থাকুন, যেখানেই আশ্রয় নিন, তাঁরা যেন অতিশীঘ্রই দেশে প্রত্যাবর্তন করেন। তাঁদের আমরা আইনের আওতায় নিয়ে আসব। তাঁরাও যেন সুবিচার পান, সেটি আমরা নিশ্চিত করব।
সাংবাদিক: মাননীয় মন্ত্রী, আপনি কি বলতে চাচ্ছেন, আজ যেসব শ্রমিক মাঠে রয়েছেন, তাঁদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে যাওয়ার আহ্বান জানাচ্ছেন? অন্যথায় কি আপনারা কঠোরভাবে দমন করবেন?
মন্ত্রী: না। শিল্পমালিকেরা তাঁদের শিল্পকারখানা চালু রাখবেন এবং শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলবেন। শিল্পমালিকেরা তাঁদের কর্মচারী ও শ্রমিকদের সঙ্গে পারস্পরিক আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে যদি কোনো সমস্যা থাকে, সেটি নিজেরাই সমাধান করবেন।
আমরা দেখব, যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কোনো ধরনের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্ভব ঘটানো হয়, সে ক্ষেত্রে আমরা বিষয়টি মোকাবিলা করব।
ধন্যবাদ।
আরো খবর,

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।
comment url