‘দুধের শিশু’ বলে বিএনপি সরকারকে কটাক্ষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী ২৩ অক্টোবর শুক্রবার বিকেলে ঢাকার কারওয়ান বাজারে এনসিপির সপ্তাহব্যাপী লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে বক্তব্য দিয়েছিলেন। 

বক্তবে তিনি বলেন, এই দুধের শিশুরা যেভাবে চাঁদাবাজি করছে, এরা যদি বৃদ্ধ হয়, তাহলে বাংলাদেশের কী হবে, তা আমরা জানি না। যেখানে বিএনপি কে কেন্দ্র করে বিভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়। 
‘দুধের শিশু’ বলে বিএনপি সরকারকে কটাক্ষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর

কারওয়ান বাজারে বক্তব্যে বিএনপি সরকারকে ‘দুধের শিশু’ বলে কটাক্ষ করেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। চাঁদাবাজি, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানির দাম নিয়ে কথা বলেন তিনি।

‘দুধের শিশু’ বলে বিএনপি সরকারকে কটাক্ষ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর, চাঁদাবাজি বন্ধের আহ্বান (পুরো বক্তব্য) 

এই দুধের শিশুরা যেভাবে চাঁদাবাজি করছে, এরা যদি বৃদ্ধ হয়, তাহলে বাংলাদেশের কী হবে, তা আমরা জানি না।

আমরা দেখেছি, কক্সবাজারে দিনে-দুপুরে ৬০টিরও বেশি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। অথচ দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই, বাংলাদেশের নারীরা নিরাপদ নন। আমরা দেখেছি, এই দুধের শিশুরা দিনের বেলায় একটি হাসপাতালে গিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে মানুষের পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা যখন জনগণের কাছে গিয়েছি, তখন তাঁরা আমাদের বলেছেন, বিএনপি চাঁদাবাজি করছে। আপনারা আমাদের কাছে আসুন, আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে রাজপথে নামব এবং বিএনপির চাঁদাবাজি বন্ধ করব।

যাঁরা উবার চালিয়ে পরিবারের জন্য টাকা উপার্জন করছেন, তাঁরা খুব কষ্টে আছেন। যাঁরা পাঠাও চালাচ্ছেন, বিভিন্ন ধরনের গাড়ি চালাচ্ছেন, সেই বেকার তরুণেরাও নানা সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। আপনারা আমাদের জানিয়েছেন, আপনারা খুব কষ্টে আছেন। আপনাদের সেই কষ্টের কথা শুনতেই আমরা এসেছি।

আপনারা জানেন, একটা সময় আমরা যখন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছিলাম, তখন আপনারা আমাদের বলেছিলেন, আওয়ামী লীগের পান্ডা, ছাত্রলীগের পান্ডা ও যুবলীগের পান্ডাদের কারণে আপনারা বিপদে আছেন। ব্যবসা-বাণিজ্য করতে পারছেন না। যেকোনো জায়গায় তারা সন্ত্রাসী হামলা চালায়।

আমরা আপনাদের পক্ষে দাঁড়িয়েছিলাম। খুনি ও স্বৈরাচারী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশ থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছি।

এরপর আমাদের একটি নির্বাচন হলো। সেই নির্বাচনে ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে একটি সরকার গঠন করা হলো। তারা আমাদের বলেছিল, বাংলাদেশে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে, দলীয়করণ হবে না এবং বাংলাদেশের মানুষ নিরাপদে থাকবে। আমরা সবাই আশান্বিত হয়েছিলাম।

এরপর সরকার গঠন হলে আমরা তাদের বললাম, আপনারা তো বিভিন্ন জায়গায় সমস্যা সৃষ্টি করছেন। তখন তারা বলল, ‘আমরা একটু দুধের শিশু, আমাদের একটু সময় দেন।’

কিন্তু কয়েক দিন পরেই দেখলাম, এই দুধের শিশুরা যেভাবে চাঁদাবাজি করছে, এরা যদি বৃদ্ধ হয়, তাহলে বাংলাদেশের কী হবে, তা আমরা জানি না।

এই দুধের শিশুদের আমরা দেখলাম, কক্সবাজারে দিনে-দুপুরে ৬০টিরও বেশি বাসে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক নেই, নারীরা অনিরাপদ অবস্থায় আছেন। আমরা সংশ্লিষ্টদের আহ্বান জানিয়েছি, আপনারা বাংলাদেশকে ঠিক করুন। কিন্তু তাঁরা বলছেন, তাঁরা সংশোধনের প্রক্রিয়া চালাবেন। অথচ আমরা দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি দেখতে পাচ্ছি না।

আমরা দেখলাম, এই দুধের শিশুরা একটি হাসপাতালে হামলা চালিয়েছে। দেখলাম, তারা মানুষের পেট্রোল ও ডিজেলের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। এরা বাচ্চা, তবে ক্ষুধা অনেক বড়!

আমরা এই বাচ্চাদের বলতে এসেছি, ঠিক আছে ভাই, আপনাদের আট মাস সময় দিয়েছি। আপনাদের হানিমুন পিরিয়ড শেষ হয়েছে। এখন আমরা আর কোনো অজুহাতে আপনাদের ছেড়ে দেব না।

জনগণ বিরক্ত হয়েছে। জনগণ আমাদের কাছে এসে বলেছে, বিএনপি চাঁদাবাজি করছে। আপনারা আমাদের কাছে আসুন। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে নামব এবং বিএনপির চাঁদাবাজি বন্ধ করব।

মানুষ আমাদের বলেছে, বিএনপি দখলবাজি করছে, বিএনপি সন্ত্রাস করছে। মানুষ আমাদের আরও বলেছে, তেলের দাম, পেট্রোলের দাম, ডিজেলের দাম ও অকটেনের দাম বিএনপি সরকার বাড়িয়ে দিয়েছে।

আমরা বিএনপি সরকারকে জিজ্ঞেস করেছি, ভাই, আপনারা দাম বাড়ালেন কেন? তাঁরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ হচ্ছে।

এই মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অজুহাতে জ্বালানিমন্ত্রীকে আমরা দেখতে পাই না। জ্বালানি প্রতিমন্ত্রীরও কোনো কার্যকর ভূমিকা দেখতে পাচ্ছি না।

আপনারা জানেন, সংবিধান সংশোধনের সঙ্গে যুক্ত সালাহউদ্দিন সাহেবকে কখনো প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায়, কখনো আইনমন্ত্রীর ভূমিকায়, আবার কখনো পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকায় দেখা যায়। তাঁর কত রূপ, তা আমরা আর দেখতে চাই না। আমরা আমাদের নিরাপত্তা চাই।

আপনারা যদি নিরাপত্তা দিতে না পারেন, তাহলে পদত্যাগ করুন। আপনাদের পদত্যাগের দাবি নিয়েই আজ আমরা এসেছি।

আমরা আজ জ্বালানিমন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিও জানাতে এসেছি। শুনেছি, তাঁকে অসুস্থ অবস্থায় কোনো হাসপাতালে রাখা হয়েছে। আগের হাসান মাহমুদ থেকে শুরু করে যাঁরা বিভিন্ন সময়ে বিতর্কিত বক্তব্য দিয়েছেন, তাঁদের মতো এখন অনেক মন্ত্রীই কথা বলছেন না। কারণ, জনগণের সামনে তাঁরা কী জবাব দেবেন? তাঁদের আর মুখ দেখানোর জায়গা নেই।

আমরা আজ গণসংযোগ কর্মসূচিতে আপনাদের কাছে এসেছি। আপনাদের মধ্যে লিফলেট বিতরণ করব। আগামী ৩০ তারিখে শাহবাগে আমাদের একটি বড় গণবিক্ষোভ কর্মসূচি হবে।

এই গণবিক্ষোভ কর্মসূচিতে আমরা কাউকে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে চাই না। আপনি যদি চাঁদাবাজির শিকার হন, ৩০ তারিখে শাহবাগে চলে আসবেন। আপনি যদি সন্ত্রাসের শিকার হন, ৩০ তারিখে শাহবাগে চলে আসবেন। দ্রব্যমূল্য বাড়ার কারণে সংসার চালাতে না পারলে, সেদিন শাহবাগে চলে আসবেন।

আপনাদের সামনে নাহিদ ইসলাম আছেন। এই নাহিদ ইসলামই সেদিন ঘোষণা করেছিলেন, আমরা একটি নতুন বন্দোবস্ত চাই, যে বন্দোবস্তের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের আমূল পরিবর্তন হবে।

কিন্তু এখন শেখ হাসিনা যে গদিতে বসেছিলেন, সেই গদিতেই নতুন রূপে তারেক রহমান বসেছেন। তিনি এক চুলও পরিবর্তন করেননি।

ফলে রাজা যায়, রানী যায়, নতুন রাজা আসে; কিন্তু আমাদের ভাইদের ভাগ্যের কোনো পরিবর্তন হয় না।

আমাদের যেহেতু লড়াই করে বাঁচতে হবে, প্রয়োজনে জীবন দিতে হবে, তাই রাজপথ ছাড়া আমাদের আর কোনো গতি নেই। সে কারণেই আপনাদের সামনে এসেছি। আমাদের আহ্বায়কও আপনাদের সামনে এসেছেন। তিনি এখন আপনাদের উদ্দেশে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য রাখবেন—কেন আমরা আপনাদের সামনে এসেছি, কেন আমরা রাজপথে নেমে এসেছি এবং সরকারের নয় মাসে কী ঘটেছে, সে বিষয়ে তিনি বক্তব্য দেবেন।

আরো খবর,



এই পোস্টটি পরিচিতদের সাথে শেয়ার করুন

পূর্বের পোস্ট দেখুন পরবর্তী পোস্ট দেখুন
এই পোস্টে এখনো কেউ মন্তব্য করে নি
মন্তব্য করতে এখানে ক্লিক করুন

অর্ডিনারি আইটির নীতিমালা মেনে কমেন্ট করুন। প্রতিটি কমেন্ট রিভিউ করা হয়।

comment url